Facebook Pixel

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগণ বহু আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু এ আইনগুলো উপমহাদেশের জনগণকে পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও এ আইনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ আইনটি ছিলো ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিবিদ ও জনগণের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত। ক. ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন? খ. ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের অধ্যাপক জাহানারা হকের বর্ণিত আইনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question RB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। (খ) ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ছিল ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও জটিল দলিল। এর দুটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো: ১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: এ আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা রহিত করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়। এর ফলে প্রদেশগুলো তাদের নিজস্ব বিষয়ে অধিকতর ক্ষমতা লাভ করে এবং দায়িত্বশীল সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ২. কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন: এ আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন ব্যবস্থায় দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়। কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত, এই দুই ভাগে বিভক্ত করে শাসনকার্য পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত অধ্যাপক জাহানারা হকের আলোচনায় যে আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন। আমার পঠিত পাঠ্যবইয়ের আলোকে এই আইনের সাথে উদ্দীপকের আইনের সাদৃশ্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, ব্রিটিশ ভারতের শাসকগণ বহু আইন প্রণয়ন করলেও তা জনগণকে পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করতে পারেনি, কিন্তু সর্বশেষ আইনটি ছিল রাজনীতিবিদ ও জনগণের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ছিল ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ আইন, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের পর প্রণীত হয়। এই আইনের মাধ্যমেই ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়, যা তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। সুতরাং, উদ্দীপকের বর্ণিত আইনটি যে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন, তা স্পষ্ট। (ঘ) উদ্দীপকে অধ্যাপক জাহানারা হকের বর্ণিত আইনটি হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে এই আইনের তাৎপর্য অপরিসীম। নিচে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো: ১. ব্রিটিশ শাসনের অবসান: ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক যা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে দেয়। ২. স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: এই আইনের ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটে এবং নতুন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৩. দায়িত্বশীল সরকার গঠন: এ আইনের মাধ্যমে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটে। ফলে ভারত ও পাকিস্তানে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয় এবং জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজতর হয়। ৪. শাসনতান্ত্রিক বিবর্তন: ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক বিবর্তনের ধারায় এটি ছিল সর্বশেষ ও চূড়ান্ত আইন। এই আইনের মাধ্যমেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্বের অবসান ঘটে এবং নতুন রাষ্ট্র দুটির নিজস্ব সংবিধান তৈরির অধিকার অর্জিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন কেবল একটি আইন ছিল না, বরং এটি ছিল একটি নতুন যুগের সূচনা। এই আইনের মাধ্যমেই ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণ তাদের নিজস্ব ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার লাভ করে, যা তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2023)

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগণ বহু আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু এ আইনগুলো উপমহাদেশের জনগণকে পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও এ আইনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ আইনটি ছিলো ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিবিদ ও জনগণের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত।

ক. ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

খ. ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের অধ্যাপক জাহানারা হকের বর্ণিত আইনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

আব্বাস দৈনিক সমকালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ পড়ে ভারতবর্ষের প্রথম রাজনৈতিক দল সম্পর্কে জানতে পারে। ঐ দল প্রতিষ্ঠার পটভূমিও...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।