Facebook Pixel

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের এক অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরের দিন ভারতের জাতীয় দৈনিকগুলোতে সেটিকে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ক. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কী? খ. দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো। ঘ. পাকিস্তান সৃষ্টিতে বর্ণিত প্রস্তাবটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question DB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ জন বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার যে মামলা দায়ের করে, তা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত। (খ) দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের একটি রাজনৈতিক মতবাদ। ১৯৪০ সালের ২২-২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তার মতে, হিন্দু ও মুসলমান দুটি ভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও জীবনধারার অনুসারী হওয়ায় তারা মূলত দুটি পৃথক জাতি। তাই জাতীয়তার মানদণ্ডে তারা একটি অখণ্ড ভারতের অংশ হতে পারে না এবং তাদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রয়োজন। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবটি হলো ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত এই প্রস্তাবের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ভৌগোলিক সংলগ্নতা: ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব দিকের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করতে হবে। ২. স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্ব: প্রস্তাবিত রাষ্ট্রসমূহের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে সম্পূর্ণরূপে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। ৩. সংখ্যালঘু সুরক্ষা: ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শাসনতান্ত্রিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সংবিধানে কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৪. প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি: প্রদেশগুলো নিজেদের এলাকার প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী হবে। (ঘ) পাকিস্তান সৃষ্টিতে লাহোর প্রস্তাবের প্রভাব অপরিসীম। ১৯৪০ সালের এই প্রস্তাবটি ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এর মাধ্যমেই ভারতের মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমির দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি পায়। লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই ভারতের মুসলমানরা একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করে এবং নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের সাথে এই প্রস্তাবের সমন্বয় ঘটলে পাকিস্তান আন্দোলন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ব্রিটিশ সরকারও এক পর্যায়ে বুঝতে পারে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের এই দাবি উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস ও ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে বাধ্য হয়। পরিশেষে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবই ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির মূল ভিত্তি, যার ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2021)

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের এক অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরের দিন ভারতের জাতীয় দৈনিকগুলোতে সেটিকে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

ক. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কী?

খ. দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো।

ঘ. পাকিস্তান সৃষ্টিতে বর্ণিত প্রস্তাবটির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।