Facebook Pixel

১৮৬৩ সালে আমেরিকা যখন গৃহযুদ্ধের কারণে রক্তাক্ত, শোকে স্তব্ধ এবং রাজনৈতিকভাবে দিশাহীন; ঠিক এমনই সময় গেটিসবার্গে আব্রাহাম লিংকন তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। আমেরিকায় স্বাধীনতা বজায় রাখা, গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো প্রদান, শোষণ মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এ ভাষণ অবিস্মরণীয়। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় এবং এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতির জনক হিসেবে পরিচিত। ক. তিতুমীর এর প্রকৃত নাম কী? খ. মুসলমানদের কুসংস্কার দূরীকরণে ফরায়েজি আন্দোলনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষণের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঐতিহাসিক ভাষণের মিল রয়েছে?- ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের সাথে আমাদের যে মহান নেতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়; স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ

উৎস: Board Exam Question DiB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) তিতুমীরের প্রকৃত নাম মীর নিসার আলী। (খ) ফরায়েজি আন্দোলন ছিল ইসলামের ফরজভিত্তিক একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন। হাজী শরীয়তউল্লাহ এই আন্দোলনের প্রবর্তক ছিলেন। তৎকালীন বাংলার মুসলিম সমাজে পীর পূজা, কবর পূজা, মানত পালন এবং বিভিন্ন অনৈসলামিক কুসংস্কার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। হাজী শরীয়তউল্লাহ লক্ষ্য করেন যে, মুসলমানরা ইসলামের মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ছে। তিনি এই কুসংস্কার দূর করার লক্ষ্যে মুসলমানদের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই আন্দোলনের ফলে মুসলিম সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা ধর্মীয় কুসংস্কার পরিহার করে ইসলামের প্রকৃত আদর্শে দীক্ষিত হতে উদ্বুদ্ধ হয়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিংকনের ভাষণের সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৮৬৩ সালে আমেরিকা যখন গৃহযুদ্ধের কারণে রাজনৈতিকভাবে দিশাহীন ছিল, তখন আব্রাহাম লিংকন গেটিসবার্গে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। এই ভাষণের উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকার স্বাধীনতা বজায় রাখা, গণতন্ত্রের কাঠামো প্রদান এবং জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা। একইভাবে, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। তখন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে বাঙালি জাতি ছিল দিশাহীন ও শোষিত। বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানান। উভয় ভাষণই ছিল একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষা ও মুক্তির সংগ্রামের দিকনির্দেশনা। তাই বিষয়বস্তু ও তাৎপর্যের দিক থেকে এই দুই ভাষণের মধ্যে গভীর মিল পরিলক্ষিত হয়। (ঘ) উদ্দীপকের ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ আব্রাহাম লিংকনের সাথে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক ও নেতৃত্বের মিল রয়েছে। স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান অপরিসীম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁর এই ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। পরিশেষে বলা যায়, আব্রাহাম লিংকন যেমন আমেরিকার গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। তাঁর এই অবদান বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2023)

১৮৬৩ সালে আমেরিকা যখন গৃহযুদ্ধের কারণে রক্তাক্ত, শোকে স্তব্ধ এবং রাজনৈতিকভাবে দিশাহীন; ঠিক এমনই সময় গেটিসবার্গে আব্রাহাম লিংকন তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। আমেরিকায় স্বাধীনতা বজায় রাখা, গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো প্রদান, শোষণ মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এ ভাষণ অবিস্মরণীয়। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় এবং এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতির জনক হিসেবে পরিচিত।

ক. তিতুমীর এর প্রকৃত নাম কী?

খ. মুসলমানদের কুসংস্কার দূরীকরণে ফরায়েজি আন্দোলনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষণের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঐতিহাসিক ভাষণের মিল রয়েছে?- ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের সাথে আমাদের যে মহান নেতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়; স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘X’ একজন রাজনৈতিক নেতা। মানুষের সেবাই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য । তিনি সংকীর্ণতা ও গোড়ামির উর্ধ্বে মানবপ্রেমে বিশ্বাস কর...

‘Y’ রাষ্ট্রের একজন অবিসংবাদিত নেতা দেশটির স্বাধীনতা অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। তিনি দেশটির শোষিত জনগণের মুক্তি জন্য সরক...

অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন কে?

অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

“অসমাপ্ত আত্মজীবনী” গ্রন্থটি কার রচনা?

‘আঁখি’ ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যেয়ে এস এম হল দেখে তার পৌরনীতি স্যারের ক্লাস লেকচারের কথা মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন বাংল...

আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেয়া হয় কত সালে?

আজমল সাহেব একজন খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ। তিনি তার সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারণের জন্য নিজ দলের অধিবেশনে একাধিক রাষ্ট্...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।