Facebook Pixel

১৬৯৭ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পুত্রদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয় উত্তরাধিকার যুদ্ধ। এ ভ্রাতৃসংগ্রামে চূড়ান্তভাবে দারাশিকো আওরঙ্গজেবের ও সংগ্রামের গতিপ্রকৃতি ছিল কীভাবে প্রণিধানযোগ্য। ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে ১২ এপ্রিল আজমিরের কাছে দেওয়ারের যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের বাহিনীর হাতে দারাশিকো পরাজিত হন। মূলত আওরঙ্গজেবের সামরিক যোগ্যতা ও দক্ষতা, কূটনৈতিক বিচক্ষণতা, দক্ষ মনোবল ধর্মে একনিষ্ঠতাই তাকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। ক. আবু জাফর আল মনসুর কত খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতায় আরোহণ করেন? খ. খলিফা হারুন-অর-রশিদকে রূপকথার নায়ক বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকের দ্বন্দ্বের সাথে আব্বাসি শাসনামলের কোন ঘটনার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. এ ধরনের দ্বন্দ্বে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিরাই সফলতা লাভ করে। উদ্দীপকটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আবু জাফর আল মনসুর ৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতায় আরোহণ করেন। খ. আরব্য উপন্যাস বা একসহস্র এক রজনীর গল্প একটি ইতিহাস প্রসিদ্ধ রূপকথা বা লোককথার সংকলন। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার লোককথার এ সংকলন ইসলামের স্বর্ণযুগে সংকলিত হয়। আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদের রোমাঞ্চ জাগানো গল্পগুলো আলিফ লায়লা ওয়া লায়লাতেই পাওয়া যায়। আরব্য উপন্যাসের গল্পগুলো পাঠকসমাজে রোমাঞ্চকর ও শিহরন জাগানিয়া হয়ে আজও বিদ্যমান। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বন্দ্বের সাথে আব্বাসি খিলাফতের আল আমিন ও আল মামুনের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। খলিফা হারুন অর রশিদের মৃত্যুর পর আমিন ক্ষমতা গ্রহণ করে। কিন্তু আমিন ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বেচ্ছাচারী নীতি গ্রহণ করলে আমিন ও মামুনের মধ্যে গৃহযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। মূলত আব্বাসীয়দের উত্তরাধিকারী নির্বাচনের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি না থাকার ফলে ভ্রাতৃদ্বয়ের বিরোধ দেখা দেয়। ভ্রাতৃদ্বয়ের চারিত্রিক বৈসাদৃশ্য তাদের দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ। দুই ভাইয়ের মধ্যে আল মামুন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান ও ধার্মিক ছিলেন এবং আল-আমিন চরিত্রহীন, বিলাসী, আরামপ্রিয় ও চঞ্চল স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। চারিত্রিক বৈসাদৃশ্যের জন্য আল আমিন আল মামুনের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন কতকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করে যা ভ্রাতৃবিরোধ ত্বরান্বিত করেছিল। আমিনের উজির ফজল বিন রাবি নিজের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে তাকে মামুনের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করতে থাকে। তাছাড়া আলী বিন ঈশার কুপরামর্শে আমিন মামুনকে খোরাসানের শাসন কর্তার পদ থেকে অপসারণ এবং হারুনের উত্তরাধিকারী নীতি লঙ্ঘন করে নিজ পুত্র মুসাকে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করলে আল আমিন ও মামুনের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ভ্রাতৃযুদ্ধ সংঘটিত হয়। অতঃপর আল মামুন আমিনকে পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করেন। অতএব উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘাত আল আমিন ও মামুনের মধ্যকার যুদ্ধের প্রতিচ্ছবি। ঘ. এ ধরনের দ্বন্দ্বে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিরাই সফলতা লাভ করে। মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ। আমিন ও মামুনের যুদ্ধে মামুন যোগ্যতাবলে জয়ী হয়। আল-মামুন মার্জিত ও রুচিশীল চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন সৎ, ন্যায়বান ও আদর্শবান। তার চারিত্রিক দৃঢ়তাই তাকে বিজয়ী হতে সহায়তা করেছিল। পক্ষান্তরে, আল-আমিন ছিলেন অযোগ্য ও বিলাসপ্রিয়। তিনি রাজকার্য অপেক্ষা হেরেম নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতেন। তার চারিত্রিক ও নৈতিক অধঃপতনই ছিল তার পরাজয়ের মূল কারণ। মামুনের সামরিক দক্ষতা ও রণকৌশলের কাছে আমিনের অযোগ্য ও অপরিণামদর্শী রণকৌশল পরাজিত হয়। তাছাড়া মামুন তার চারিত্রিক মাধুর্য ও দক্ষ শাসনে জনগণের হৃদয় জয় করেন, ফলে গণসমর্থন তার দিকে ঝুঁকে পড়ে। অন্যদিকে, চারিত্রিক অধঃপতন ও সুশাসনের অভাবে গণসমর্থন আমিনের পক্ষে ছিল না। মামুনের সেনাপতি তাহির বিন হুসাইন, হারসামা ও জুহাইর ছিলেন দক্ষ রণনায়ক। তাদের যুদ্ধকৌশল ও দক্ষতায় মামুনের বিজয় ত্বরান্বিত হয়। অপরপক্ষে, আমিনের অযোগ্য ও অদূরদর্শী সেনাপতি আলী ইবনে ইসা ও আব্দুর রহমানের দুর্বল সেনাপতিত্বে বারবার আমিনের বাহিনী পরাজয় বরণ করে। তাছাড়া মামুনের পরামর্শদাতা উজির ফজল বিন সাহল তাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে বিজয়ী হতে সহায়তা করেন। অন্যদিকে, আমিনে উজির ফজল বিন রাবির অযোগ্যতা ও অদূরদর্শিতা এবং তার কুশাসন আমিনের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করে। অতএব বলা যায়, অপুর মতো আল মামুনও নিজ যোগ্যতা ও দক্ষতা দ্বারা বিজয়ী হয়ে প্রমাণ করেন এ ধরনের দ্বন্দ্বে যোগ্য ও দক্ষরাই বিজয়ী করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৬৯৭ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পুত্রদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয় উত্তরাধিকার যুদ্ধ। এ ভ্রাতৃসংগ্রামে চূড়ান্তভাবে দারাশিকো আওরঙ্গজেবের ও সংগ্রামের গতিপ্রকৃতি ছিল কীভাবে প্রণিধানযোগ্য। ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে ১২ এপ্রিল আজমিরের কাছে দেওয়ারের যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের বাহিনীর হাতে দারাশিকো পরাজিত হন। মূলত আওরঙ্গজেবের সামরিক যোগ্যতা ও দক্ষতা, কূটনৈতিক বিচক্ষণতা, দক্ষ মনোবল ধর্মে একনিষ্ঠতাই তাকে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। 

ক.

আবু জাফর আল মনসুর কত খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতায় আরোহণ করেন? 

খ.

খলিফা হারুন-অর-রশিদকে রূপকথার নায়ক বলা হয় কেন?

গ.

উদ্দীপকের দ্বন্দ্বের সাথে আব্বাসি শাসনামলের কোন ঘটনার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

এ ধরনের দ্বন্দ্বে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিরাই সফলতা লাভ করে। উদ্দীপকটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবের ‘জোয়ান অব আর্ক’ উপাধি কার?

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রো...

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এই স্বপ্ন...

অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, মামুনের রাজধানী প্রধান কেন্দ্ররূপে সমাদৃত হয়েছিল- i. ব্যবসায় বাণিজ্যের ii. শিল্পের iii. জ্ঞ...

"অল্পকালের মধ্যে বার্মাকিগণ প্রভূত ধনের অধিকারী হন" বলতে বোঝাতে চেয়েছেন- i. প্রচুর সম্পদের মালিক হন ii. কম সময়ে অনেক সম্...

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এ সাম্রাজ্যের শাসকেরা জ্ঞান - বিজ্ঞান ...

আজদুদ্দৌলাহ্ কার পুত্র ছিলেন?

‘আন নাফস উজ জাকিয়া' শব্দের অর্থ কী?

আবু জাফর মনসুরকে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ তিনি- i. আব্বাসি বংশের শাসন সুদৃঢ় করেছিলেন ii. উমাইয়াদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।