Facebook Pixel

১৩৪৮ সালের প্লেগ রোগ বা কালো মৃত্যু ইংল্যান্ডের একটি স্মরণীয় ঘটনা যা ইংল্যান্ডের দুই - তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যুর কারণ। পাশাপাশি সামন্ততন্ত্রের অবসান , শিল্প বিপ্লব , রেনেসাঁ ও সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটে। এ সময় ইংল্যান্ডের ভুবনবিখ্যাত রাণী একটি আইন প্রণয়ন করেন। উক্ত আইনে দরিদ্রদের আবাসন ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু নানাবিধ কারণে উত্ত আইনটি নানাভাবে সমালোচিত হয়। ক. COS এর পূর্ণরূপ কী? খ. বিভারিজ রিপোর্ট বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে কোন আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে? উক্ত আইনের ইতিবাচক দিকগুলো বর্ণনা করো। ঘ. "উক্ত আইনটি দরিদ্রদের কল্যাণের সাথে বেশকিছু অকল্যাণও বয়ে আনে"- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: সমাজকর্ম ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. COS-এর পূর্ণরূপ Charity Organization Society. খ. বিভারিজ রিপোর্ট হলো ১৯৪২ সালে স্যার উইলিয়াম বিভারিজ কর্তৃক প্রণীত ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি রিপোর্ট। বিভারিজ রিপোর্টে অভাব , রোগ , অজ্ঞতা , মলিনতা ও অলসতাকে মানবসমাজের অগ্রগতিতে পাঁচটি প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই সমস্যাগুলো সমাধানে রিপোর্টে পাঁচটি সুপারিশ করা হয়। এই রিপোর্টের লক্ষ্য ছিল সমাজ হতে অভাব দূর করে ফলপ্রসূ সামাজিক নিরাপত্তা পদ্ধতি প্রচলন করা। গ. উদ্দীপকে ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। প্রাক - শিল্প যুগে ইংল্যান্ড বিভিন্ন ধরনের আর্থ - সামাজিক সমস্যা ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত এসব সমস্যা মোকাবিলায় গৃহীত সরকারি কার্যক্রমের বেশির ভাগ ছিল শাস্তি ও দমনমূলক। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্রদের সঠিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রণয়ন করা হয়। উদ্দীপকে ইংল্যান্ডে প্লেগ রোগ , সমাজতন্ত্রের অবসান , শিল্পবিপ্লব , রেঁনেসা ও সংস্কার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ইংল্যান্ডের রানি একটি আইন প্রণয়ন করে। আইনটিতে দরিদ্রদের আবাসন ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা রাখা হয়। নানা কারণে আইনটি সমালোচিতও হয়। উদ্দীপকের এই আইনটি ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনকে নির্দেশ করে। তৎকালীন ইউরোপে বেশকিছু বিচ্ছিন্ন অথচ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। সামন্তবাদের অবসান , কর্মসংস্থানের অভাব , শ্রমিক স্থানান্তর সমস্যা , শহুরে জীবনের প্রতি আসক্তি , ব্লাকডেথ ইত্যাদির ফলে ইংল্যান্ডে দারিদ্র্য অবস্থা ও ভিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি পায়। ফলে রানি প্রথম এলিজাবেথের সময়ে পূর্ববর্তী দরিদ্র আইনের সমন্বয়ে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রণয়ন করা হয়। এ আইন দারিদ্র্য সমস্যারোধে বেশকিছু ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। আইনটি দরিদ্র জনগণের অর্থনৈতিক ও বাসস্থানজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ আইনের অধীনে দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসনে সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এছাড়াও আইনটি বেকার শিশু ও অক্ষম দরিদ্রদের জীবিকা লাভের ব্যবস্থা করে দরিদ্রদের প্রতি সামাজিক দায়িত্বের স্বীকৃতি প্রদান করে। ঘ. ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি কল্যাণের সাথে বেশকিছু অকল্যাণও বয়ে আনে - মন্তব্যটি যথার্থ। তৎকালীন ইউরোপে বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন ঘটনা ইংল্যান্ডে দারিদ্র্য অবস্থা প্রকট করে তোলে। এতে দরিদ্র মানুষ ও ভিক্ষাবৃত্তি বেড়ে যায়। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে রানি এলিজাবেথের সময় ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন করা হয়। আইনটি দরিদ্রদের কল্যাণে ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি দরিদ্র জনগণের অর্থনৈতিক ও বাসস্থানজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সরকার প্রথমবারের মতো দরিদ্রদের সহায়তায় সরকারি দায়িত্ব স্বীকার করে। আইনটি দারিদ্র্য মোকাবিলায় সামাজিক কর্তব্যবোধ জাগিয়ে তুলতে সহায়তা করে। এ আইনের অধীনে দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসনে সরকার প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। সর্বোপরি এ আইনের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা , পুনর্বাসন দরিদ্র কর আরোপ , বেকার শিশু ও অক্ষম দরিদ্রদের জীবিকা লাভের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে দরিদ্র সমস্যা ও ভিক্ষাবৃত্তি রোধ করার চেষ্টা করা হয়। এ আইনটি বিভিন্ন কল্যাণমূলক ভূমিকার পাশাপাশি অকল্যাণকর ভূমিকাও রাখে। এ আইনের অধীনে নির্ভরশীল শিশুদের নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত গৃহপরিচারিকার কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দরিদ্রদের রাখা হয় ও দরিদ্রাগারে তত্ত্বাবধায়কগণ কয়েদিদের মতো আচরণ করতো। নির্ভরশীল শিশুদের শিক্ষালাভের কোনো ব্যবস্থা এ আইনে রাখা হয়নি। সর্বোপরি আইনটি পারিবারিক ভাঙ্গন , পরনির্ভরশীলতা সৃষ্টি করে। তাই আইনটিকে সাময়িক সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিশেষে বলা যায় , ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি দরিদ্রদের কল্যাণের সাথে সাথে বেশকিছু অকল্যাণও বয়ে আনে - বক্তব্যটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৩৪৮ সালের প্লেগ রোগ বা কালো মৃত্যু ইংল্যান্ডের একটি স্মরণীয় ঘটনা যা ইংল্যান্ডের দুই-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যুর কারণ। পাশাপাশি সামন্ততন্ত্রের অবসান, শিল্প বিপ্লব, রেনেসাঁ ও সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটে। এ সময় ইংল্যান্ডের ভুবনবিখ্যাত রাণী একটি আইন প্রণয়ন করেন। উক্ত আইনে দরিদ্রদের আবাসন ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু নানাবিধ কারণে উত্ত আইনটি নানাভাবে সমালোচিত হয়।

ক.

COS এর পূর্ণরূপ কী?

খ.

বিভারিজ রিপোর্ট বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে কোন আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে? উক্ত আইনের ইতিবাচক দিকগুলো বর্ণনা করো।

ঘ.

"উক্ত আইনটি দরিদ্রদের কল্যাণের সাথে বেশকিছু অকল্যাণও বয়ে আনে"- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

COS-এর পূর্ণরূপ কী?

CSWE স্বীকৃত সমাজকর্ম শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে কোথায়?

'Lectures on the Industrial Revolution in England' প্রশ্নটির লেখক কে?

NASW কোন দেশের সমাজকর্মীদের সংগঠন?

NASW পেশাদার সমাজকর্মীদের জন্য সর্বপ্রথম পেশাদার নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেন?

Q. উপরের চক্রটি কী বোঝাচ্ছে?

X, Y এবং Z ইংল্যান্ডের একই এলাকার বাসিন্দা। 'X' একজন সুস্থ সবল যুবক। সে ভিক্ষা করতে পছন্দ করে। 'Y' বার্ধক্যজনিত কারণে অক...

COS এর পূর্ণরূপ কোনটি ?

ক. প্যারিশ কী? খ. অক্ষম দরিদ্র কারা? গ. উদ্দীপকে (?) চিহ্নিত স্থানে কোন প্রত্যয়টির ইঙ্গিত রয়েছে? উক্ত প্রত্যয়ের সুপারিশম...

ক. বিভারিজ রিপোর্ট কী? খ. সমাজকর্মকে সাহায্যকারী পেশা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানে ইঙ্গিতকৃত প্রত্যয়টি ব্যা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।