Facebook Pixel

হারুন স্যার ‘ক’ রাষ্ট্রের শোষণের ইতিহাসের আলোচনামা বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে এক যুগান্তকারী আইনের মাধ্যমে দু'টি ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। ডোমিনিয়ন দু'টিতে একজন করে গভ জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়, ভারত সচিব পদের অবসান হয়, ভারতে সম্রাট পদবি বিলুপ্ত হয়। ক. দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে? খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কী? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে ব্রিটিশ ভারতের কোন আইনের চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাখ্যা করো । ঘ. ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আইনের তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

উৎস: Board Exam Question SB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। (খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশগুলোর নিজস্ব শাসন ব্যবস্থায় স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনার ক্ষমতাকে বোঝায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে ব্রিটিশ ভারতে প্রথমবারের মতো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ১. প্রাদেশিক সরকারের ওপর ন্যস্ত বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ হ্রাস করা। ২. প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার গঠন করা, যেখানে মন্ত্রীরা আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। ৩. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রদেশগুলোকে নিজস্ব আয়ের উৎস ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ প্রদান করা। মূলত, প্রদেশগুলোর সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রাপ্তি এবং প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্বশীল হওয়াই হলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩ জুন একটি পরিকল্পনা পেশ করেন। এই পরিকল্পনার ভিত্তিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ৪ জুলাই একটি বিল উত্থাপন করা হয়, যা ১৮ জুলাই ১৯৪৭ সালে রাজকীয় সম্মতি লাভ করে এবং ‘ভারত স্বাধীনতা আইন’ হিসেবে কার্যকর হয়। উদ্দীপকের উল্লিখিত বিষয়গুলো এই আইনের সাথে হুবহু মিলে যায়: ১. ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন ডোমিনিয়ন বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ২. প্রতিটি ডোমিনিয়নের জন্য একজন করে গভর্নর জেনারেল নিয়োগের বিধান। ৩. ভারত সচিব পদের অবসান এবং ব্রিটিশ সরকারের সাথে ভারতের শাসনতান্ত্রিক সম্পর্কের বিলুপ্তি। ৪. ব্রিটিশ সম্রাটের ‘ভারতের সম্রাট’ উপাধি বিলুপ্ত করা। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি মূলত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন। (ঘ) ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য অপরিসীম। এই আইনের গুরুত্ব নিচে মূল্যায়ন করা হলো: প্রথমত, এই আইনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৯০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। দ্বিতীয়ত, এই আইনের ফলে ‘ভারত’ ও ‘পাকিস্তান’ নামে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি সাংবিধানিক সমাধান পাওয়া যায়। তৃতীয়ত, এই আইন গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নরদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার বিলুপ্তি ঘটায়। ফলে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয় এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা শাসনকার্যে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভের সুযোগ পান। চতুর্থত, এই আইনটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক বিবর্তনের চূড়ান্ত পর্যায়। এটি উপমহাদেশের জনগণের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের চেতনা জাগ্রত করে এবং নতুন রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে নিজস্ব কৃষ্টি, সভ্যতা ও রাজনৈতিক আদর্শ চর্চার সুযোগ তৈরি করে দেয়। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন কেবল একটি আইন ছিল না, বরং এটি ছিল উপমহাদেশের জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল এবং স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আইনি ভিত্তি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2021)

হারুন স্যার ‘ক’ রাষ্ট্রের শোষণের ইতিহাসের আলোচনামা বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে এক যুগান্তকারী আইনের মাধ্যমে দু'টি ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। ডোমিনিয়ন দু'টিতে একজন করে গভ জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়, ভারত সচিব পদের অবসান হয়, ভারতে সম্রাট পদবি বিলুপ্ত হয়।

ক. দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কী? ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে ব্রিটিশ ভারতের কোন আইনের চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাখ্যা করো ।

ঘ. ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আইনের তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্...

‘B’ অঞ্চলটি এক সময় স্বাধীন ছিল। অঞ্চলটিতে দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। একটা সময় অঞ্চলটিতে বিদেশি শক্তি উপন...

X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দে করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করার যাতে দুটি সম্প্র...

'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুট...

X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়...

অখন্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোক্তা ছিলেন—

অখন্ড বাংলার আন্দোলন শুরু করেন কে?

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগ...

অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।