Facebook Pixel

হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। প্রজাবৎসল জনদরদি এ খলিফা জনগণের অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য রাতের বেলা ছদ্মবেশে মদিনা শহরে ঘুরে বেড়াতেন। জনসাধারণের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নতি বিধানে তিনি নিরলস কাজ করেছেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীয়করণ তার অন্যতম অবদান। আমিরুল মুমেনিন হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। ক. খলিফা আল-মনসুর কোথায় রাজধানী স্থানান্তর করেন? খ. আবু মুসলিম ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের খলিফার গুণাবলীর সাথে আব্বাসীয় কোন খলিফা সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছাড়াও উক্ত খলিফা নানা গুণের অধিকারী ছিলেন — তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. খলিফা আল মনসুর দামেস্ক থেকে বাগদাদে রাজধানী স্থানান্তর করেন। খ. আব্বাসী আন্দোলন কে বিপ্লবে পরিণত করা এবং আব্বাসী খিলাফত প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখায় আবু মুসলিম ইতিহাসে বিখ্যাত। আবু মুসলিমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে খোরাসান উমাইয়াবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। আবু মুসলিম নিজেকে আল হাশিস্ন বলে ঘোষণা করেন এবং আব্বাসীদের কালো পতাকা উত্তোলন করে খোরাসানের রাজধানী মার্ভ ও ফারগানাসহ সমগ্র খোরাসান দখল করে নেন। তিনি আবুল আব্বাসকে কুফা মসজিদে আহবান জানান এবং খলিফা ঘোষণা করেন। তার অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতার জন্যই আব্বাসীদের সিংহাসন লাভ সম্ভব হয়েছিল। তাই তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত। গ. উদ্দীপকের খলিফা ওমর ফারুক (রা.) এর গুণাবলীর সাথে আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদের সাদৃশ্য রয়েছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : উদ্দীপকে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা.) এর কথা বলা হয়েছে। তিনি তার শাসনামলে জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে গিয়েছেন। তিনি জনগণের কল্যাণ ও উন্নতি সাধনে নিরলস ভাবে কাজ করেছেন। ইনি ছিলেন অত্যন্ত জনদরদী ও প্রজাবৎসল। জনগণের অবস্থা অবগত হওয়ার জন্য তিনি রাতে ছদ্মবেশে পুরো শহর ঘুরে বেড়াতেন। আব্বাসীয় খিলাফতের পঞ্চম খলিফা ছিলেন হারুন-অর-রশিদ। তিনি ৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহন করেন। খলিফা হারুন-অর-রশিদ ছিলেন জনদরদী ও প্রজাবৎসল। প্রজাদের মঙ্গলের জন্য খলিফা হারুন-অর-রশিদও হযরত ওমর ফারুক (রা.) এর মতো প্রজাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য রাতে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন। জনগণের সুবিধার জন্য তিনি বিভিন্ন স্থানে মসজিদ-মাদ্রাসা, সরাইখানা, রাস্তাঘাট, সেতু, খাল, হাসপাতাল নির্মাণ ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। খলিফা হারুন-অর-রশিদ জনসাধারণের চিকিৎসার জন্য বিমারিস্তান নির্মাণ করেন। তাছাড়া হজ যাত্রীদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য তিনি ফোরাত থেকে মক্কা পর্যন্ত নহর-ই-জুবাইদা নামে একটি খাল খনন করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের খলিফা ওমর ফারুক (রা.) এর গুণাবলীর সাথে আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদের সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছাড়াও খলিফা হারুন-অর-রশিদ আরও নানা গুণের অধিকারী ছিলেন। নিম্নে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো : উদ্দীপকে হযরত ওমর ফারুক (রা.) এর বিভিন্ন গুণাবলীর সাথে খলিফা হারুন-অর-রশিদ এর বিভিন্ন জন-দরদি গুণাবলী সাদৃশ্য দেখানো হয়েছে। খলিফা হারুন-অর-রশিদ প্রজাদের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি জনগণের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য ছদ্মবেশে রাতে সাম্রাজ্য ঘুরে বেড়াতেন। খলিফা হারুন-অর-রশিদ আর ও নানাবিদ গুণের অধিকারী ছিলেন। খলিফা হারুন-অর-রশিদ ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রান মানুষ। তিনি সব সময় নামাজ কায়েম করতেন এবং সারা জীবনে মোট ১০ বার হজ পালন করেন। তিনি সুফিয়ান সাওরি, সুফিয়ান বি উনায়না, ফুদাইল নি আয়াজ, ইবনে সামসাকসহ বিভিন্ন আলেমের সান্নিধ্যে এসে ধর্মীয় উপদেশ শুনে অনেকটা সময় কাটাতেন। ন্যায়বিচার ও দানশীলতার জন্য তার খ্যাতি ছিল অনেক। খলিফা হারুন-অর-রশিদ প্রতিদিন ১০০০ দিরহাম দান করতেন এবং প্রতিবার হজ পালনের সময় তিনি অকাতরে ধন সম্পদ দান করতেন। তাছাড়া হজ যাত্রীদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য তিনি ফোরাত থেকে মক্কা পর্যন্ত নহর-ই-জুবাইদা নামে একটি খাল খনন করেন। তবে খলিফা হারুন-অর-রশিদ অন্যের কথায় কান দিতে যার ফলে তিনি তার অকৃত্তিম বন্ধু বার্মাকি পরিবারকে নির্মূল করেছিলেন। এছাড়াও তিনি রাজকীয় আড়ম্বরে পরিবেষ্টিত থাকতেও পছন্দ করতেন। তাই বিশ্লেষণপূর্বক বলা যায়, উদ্দীপকে প্রকাশিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছাড়াও খলিফা হারুন-অর-রশিদ আরও নানা গুণের অধিকারী ছিলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। প্রজাবৎসল জনদরদি এ খলিফা জনগণের অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য রাতের বেলা ছদ্মবেশে মদিনা শহরে ঘুরে বেড়াতেন। জনসাধারণের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নতি বিধানে তিনি নিরলস কাজ করেছেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীয়করণ তার অন্যতম অবদান। আমিরুল মুমেনিন হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত।

ক.

খলিফা আল-মনসুর কোথায় রাজধানী স্থানান্তর করেন?

খ.

আবু মুসলিম ইতিহাসে এত বিখ্যাত কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের খলিফার গুণাবলীর সাথে আব্বাসীয় কোন খলিফা সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে প্রকাশিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছাড়াও উক্ত খলিফা নানা গুণের অধিকারী ছিলেন — তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবের ‘জোয়ান অব আর্ক’ উপাধি কার?

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রো...

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এই স্বপ্ন...

অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, মামুনের রাজধানী প্রধান কেন্দ্ররূপে সমাদৃত হয়েছিল- i. ব্যবসায় বাণিজ্যের ii. শিল্পের iii. জ্ঞ...

"অল্পকালের মধ্যে বার্মাকিগণ প্রভূত ধনের অধিকারী হন" বলতে বোঝাতে চেয়েছেন- i. প্রচুর সম্পদের মালিক হন ii. কম সময়ে অনেক সম্...

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এ সাম্রাজ্যের শাসকেরা জ্ঞান - বিজ্ঞান ...

আজদুদ্দৌলাহ্ কার পুত্র ছিলেন?

‘আন নাফস উজ জাকিয়া' শব্দের অর্থ কী?

আবু জাফর মনসুরকে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ তিনি- i. আব্বাসি বংশের শাসন সুদৃঢ় করেছিলেন ii. উমাইয়াদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।