Facebook Pixel

সুলাইমান তার মেয়ের বিয়েতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জিনিস উপহার দিবেন বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু সেই শ্রেষ্ঠ জিনিস সম্পর্কে তিনি জানেন না । এ বিষয়ে তিনি পড়ে । এর সমাধান তিনি। মাওলানা শফিক সাহেবের নিকট গমন করেন। মাওলানা শফিক সাহেব তাকে সান্ত্বনা দেন এবং বলেন, “কুরআন-হাদিসের গবেষণালব্ধ সমাধান আছে ইলমে ফিকহর মধ্যে।” ক. ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর পূর্ণ নাম কী? খ. 'আল্লাহ যাকে কল্যাণ দেন তাকে দ্বীনের শিক্ষা দেন'- ব্যাখ্যা কর। গ. শরয়ী সমস্যা সমাধানে ইলমে ফিক্হর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। ঘ. মাওলানা শফিক সাহেবের বক্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ ফিকহশাস্ত্র

উৎস: Board Exam Question RB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর পূর্ণ নাম হলো নোমান ইবনে সাবিত ইবনে যাওতা আল কুফি খ. প্রশ্নোক্ত বক্ত্যটি একটি হাদিসের অংশবিশেষ। রাসুল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের ইলম দান করেন।” অর্থাৎ আল্লাহ যাকে কল্যাণ দান করার ইচ্ছা করেন তাকে শরিয়তের বিধানের আলেম ও বিচক্ষণ বানান। এই বাক্যটি দ্বারা ফিকহশাস্ত্রের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। আর ইসলামি শরিয়তের ব্যবহারিক দিকের প্রধান ভিত্তি হলো ফিকহশাস্ত্র। ফিকহ ব্যক্তির জীবন শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ করতে পারে। ইসলামের বিধান অনুশীলনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রিয়পাত্রে পরিণত হয় এবং ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ লাভ হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর যাকে হিকমত বা ফিকহের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে দেওয়া হয়েছে অশেষ কল্যাণ।" (সূরা আল-বাকারা : ২৬৯) নবি (সা.) বলেন, “আল্লাহ তায়ালা যে ব্যক্তির কল্যাণ সাধনের ইচ্ছা করেন, তিনি তাকে দ্বীন সম্পর্কে সূক্ষ্ম জ্ঞান দান করেন।” (বুখারি ও মুসলিম) হাদিসটিতে জ্ঞানের মাহাত্মকে প্রকাশ করে তা অর্জনের প্রতি উৎসাহ করা হয়েছে। গ. কুরআন ও হাদিসের গভীর জ্ঞান নেই এমন সাধারণ মানুষের জন্য কুরআন ও হাদিস গবেষণা করে বিভিন্ন শরয়ি সমস্যা সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে ইলমে ফিকহের গুরুত্ব অত্যাধিক। যে শাস্ত্রে শরিয়তের বিধিবিধান, শাখা-প্রশাখা ও কার্যকারিতা সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়, যা উদ্ভাবন করা হয় বিস্তারিত প্রমাণাদি থেকে, এ ধরনের ইলমকে ইলমে ফিক্‌হ বলে। ইলমে ফিকহ বস্তুত ইসলামি আইনশাস্ত্র । উদ্দীপকে মাওলানা সাহেব তার বক্তব্যে ইলমে ফিকহর কথা তুলে ধরেছেন। ইসলামি শরিয়ত সঠিকভাবে পালনের ক্ষেত্রে ইলমে ফিকহ একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। আমরা জানি, ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসুল (সা.) যেকোনো সমস্যার সমাধান আল-কুরআনের মাধ্যমে নিজেই পেশ করতেন। কালের পরিক্রমায় রাসুল (সা)-এর পর ইসলাম আরবের বাইরে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন সভ্যতা সংস্কৃতির কারণে মুসলিম সমাজে অনেক নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব হতে থাকে। যার সমাধান সরাসরি কুরআন ও হাদিসে পাওয়া যায় না। এমনকি কুরআন ও হাদিস গবেষণা করে বের করাও সর্বসাধারণের জন্য দুষ্কর হয়ে পড়ে। ফলে এসব সমস্যা সমাধানকল্পে দ্বীনের সত্যনিষ্ঠ মুজতাহিদগণ সাধারণ মুসলমানের জন্য ইলমে ফিকহ উদ্ভাবন করেন। অতএব বলা যায়, সর্বসাধারণ মুসলমানের ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে ইলমে ফিকহের কোনো বিকল্প নেই। ঘ. কুরআন ও হাদিসই ইলমে ফিকহের মূলভিত্তি হওয়ায় এ সম্পর্কে উদ্দীপকে মাওলানা শফিক সাহেবের বক্তব্যকে সঠিক বলা যায়।” মানবজীবন ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক চলার জন্য ইলমে ফিক্হ একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়। রাসুল (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের বিদায়ের পর মুসলিম সমাজ যে নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকে যার অনেকাংশের সমাধান সরাসরি কুরআন-হাদিসে পাওয়া যায় না। তাই এ সকল সমস্যার সঠিক সমাধান বের করতেই ইলমে ফিকহের উৎপত্তি হয় উদ্দীপকে মাওলানা শফিক সাহেব ইলমে ফিকহ সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ সমর্থনযোগ্য। কেননা, ইলমে ফিক্হ তথা ইসলামি আইনের মূল দুটি উৎস হলো কুরআন ও হাদিস। এ দুটি উৎসের বাইরে গিয়ে কোনো আইন বা সিদ্ধান্ত হলে তা শরিয়তের আইন বলে গ্রহণযোগ্য হবে না। কিন্তু রাসুল (সা.) ও সাহাবিদের তিরোধানের পর নতুন নতুন যেসব সমস্যার সৃষ্টি হতে থাকে তার সমাধান সরাসরি কুরআন ও হাদিস থেকে বের করে সমাধানের জন্য দুষ্কর হয়ে পড়ে । তাই সাধারণ মানুষের পূর্ণ শরিয়ত অনুযায়ী চলার দ্বীনের সত্যনিষ্ঠ মুজতাহিদগণ কুরআন ও হাদিস গবেষণা করে সকল সমস্যার সমাধান করে দেন। আর মুজতাহিদগণের কুরআন-হাদিস গবেষণা করে সমস্যার সমাধান বা বিধিবিধান বের করাই হচ্ছে ইলমে ফিক্হ । পরিশেষে বলা যায়, ইলমে ফিক্হ হচ্ছে কুরআন ও হাদিসের গবেষণালব্ধ ফল। তাই ইলমে ফিক্হ সম্পর্কে উদ্দীপকে মাওলানা শফিক সাহেবের বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক ও যথার্থ হয়েছে ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2022)

সুলাইমান তার মেয়ের বিয়েতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জিনিস উপহার দিবেন বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু সেই শ্রেষ্ঠ জিনিস সম্পর্কে তিনি জানেন না । এ বিষয়ে তিনি পড়ে । এর সমাধান তিনি। মাওলানা শফিক সাহেবের নিকট গমন করেন। মাওলানা শফিক সাহেব তাকে সান্ত্বনা দেন এবং বলেন, “কুরআন-হাদিসের গবেষণালব্ধ সমাধান আছে ইলমে ফিকহর মধ্যে।”

 

ক. ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর পূর্ণ নাম কী?

খ. 'আল্লাহ যাকে কল্যাণ দেন তাকে দ্বীনের শিক্ষা দেন'- ব্যাখ্যা কর।

গ. শরয়ী সমস্যা সমাধানে ইলমে ফিক্হর গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মাওলানা শফিক সাহেবের বক্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

আব্দুস সালাম প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট মাসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকেন। মাগরিবের সময় অনেক মেহমান নিয়ে একসা...

আমিন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয় নিয়ে কুরআন ও হাদিস থেকে গবেষণালব্ধ এবং উদ্ভাবিত ইসলামের ব্যাবহারিক...

‘ইমাম আজম’ কার উপাধি?

ইমাম আবু হানিফা (র) জন্মগ্রহণ করেন-

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত পাও...

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত . সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত প...

উমাইয়া খিলাফতের সময়েই ফিকহ শাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত করার জন্য কাজ শুরু করেন এক মহান ব্যক্তি, যাকে ইমাম আযম বলা হয়। খলিফা ...

ক. ফিকহশাস্ত্রের মূল উৎস কয়টি? খ. ইমাম শাফেয়ি (র)-একজন শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ — ব্যাখ্য করো। গ. চিত্রে 'Y' চিহ্নিত করে ব্যাখ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।