Facebook Pixel

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। এরকম একজন আইনবিশারদ ৮০ হিজরি সনে কুফায় জন্ম গ্রহণ করেন। সতেরো বছর বয়সে বিশেষভাবে বিদ্যার্জনে মনোনিবেশ করেন। তিনি হাম্মাদের নিকট ১০ বছর যাবৎ মাস'আলা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। খলিফা মনসুর তাঁকে কারাগারে বন্দি করেন এবং সেখানেই ১৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন । ক. ফিকহশাস্ত্রের চারটি উৎসের নাম লেখ । খ. ‘নেতৃত্ব হাসিল করার পূর্বে তোমরা ফিক্‌হ হাসিল করো'— এ কথা কেন বলা হয়েছে? গ. উদ্দীপকে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর । ঘ. উদ্দীপকে কার কথা বলা হয়েছে? ফিকহশাস্ত্রে তাঁর অবদান মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ ফিকহশাস্ত্র

উৎস: Test Exam Question NDC 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ফিকহ শাস্ত্রের চারটি উৎস হলো— কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস। খ. ইসলামে নেতৃত্বের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সঠিক নেতৃত্ব ছাড়া ইসলামকে বিজয়ী শক্তিরূপে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, জামায়াত ছাড়া ইসলাম নেই, ইসলাম নেই নেতৃত্ব ছাড়া আর নেতৃত্ব নেই আনুগত্য ছাড়া। ইসলামি নেতৃত্বের জন্য অন্যতম অপরিহার্য বিষয় হলো ফিকহ। একজন নেতা যদি ফিকহি জ্ঞানে জ্ঞানী না হন তাহলে তিনি সঠিকভাবে বিচার বিবেচনা ায়ী করে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন না। এজন্যই বলা হয়, “নেতৃত্ব হাসিল করার পূর্বে তোমরা ফিক্হ হাসিল করো।” গ. উদ্দীপকে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত বলতে মাযহাবকে বোঝানো হয়েছে। মাযহাব উদ্ভবের কারণ হলো- পরিবর্তের বিধিবিধান সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে উপস্থাপন করা। আধুনিক যুগে ইবাদাতের মর্যাদাগত শ্রেণিবিন্যাসগুলো আমরা যেভাবে নির্ণয় করছি যা করতে পেরেছি তা নবি (সা.)-এর কালের পরবর্তী সময়ে ছিল না। নবি (সা.)-এর তিরোধানোত্তর সময়ে মানুষের নানা জিজ্ঞাসাই ফিকহশাস্ত্রের মাযহাবের উৎপত্তি ঘটায়। মহানবি (সা.)-এর তিরোধানের পর ইসলাম বিশ্বের দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ল। অনেক নতুন নতুন দেশ বিজিত হলো। সাথে সাে নতুন সমস্যাও দেখা দিল। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কুরআন ও সুন্নাহর মূলনীতিগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণেরও প্রয়োজন হলো। যেমন- কোনো ব্যক্তি ভুলবশত সালাতের কোনো আমল ছেড়ে দিল। এখন তার সালাত শুদ্ধ হলো কিনা তা নির্ণয়ের জন্য সালাতে কী কী আমল করত, কী কী ওয়াজিব, আর কতটুকু সুন্নাত বা মুস্তাহাব তা জানা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ইসলামের হুকুম-আহকামের মধ্যে আপেক্ষিক পুর ও পার্থক্য নিরূপণের জন্য ফিকহশাস্ত্রবিদগণ বিভিন্ন নীতি অবলম্বন করেন। এসব নীতির ব্যাপারে সকলের একমত হওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের অভিমত বিভিন্নমুখী হলো। তার ফলে তাদের রচিত মাসয়ালাসমূহে মতভেদ ও মত পার্থক্যের সৃষ্টি হলো। ঘ. উদ্দীপকে ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর কথা বলা হয়েছে। ইলমুল ফিকহের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশে ইমাম আযম আবু হানিফার নাম সবার শীর্ষে। খুলাফায়ে রাশেদার ইন্তেকাল এবং পর্যায়ক্রমে সাহাবিদের তিরোধানের ফলে ইসলামি বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শরিয়তের হুকুম-আহকাম পালন ও চর্চার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামের সঠিক রূপ এবং হুকুম-আহকামকে শরিয়তের মানদণ্ডে উপস্থাপন জরুরি হয়ে পড়ে। হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরু হতে ইসলামি জগতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক নব দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এসময় ব্যাপকভাবে হাদিস সংগ্রহ, সংকলন, ফিকহশাস্ত্রের মাসয়ালা সম্পাদনা ও ফতোয়া সংকলন শুরু হয়। হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর তৃতীয় দশক হতে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ফিক্হ সংকলন ও সম্পাদনা শুরু হয়। সে সময় হতে আজ পর্যন্ত সময়কালকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। এ যুগে ইমাম আবু হানিফা (র.) নিয়মতান্ত্রিকভাবে সর্বপ্রথম ইসলামি ফিক্হ সংকলন ও সম্পাদনা শুরু করেন। তিনি তাঁর জীবনকালে ইসলামি ফিক্‌হ-এর ওপর মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন। তার রচিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ফিকহুল আকবার, কিতাবুল আসার, কিতাবুল খারাজ, জামেউল কবির উল্লেখযোগ্য। তিনি ফিকহি সমস্যা সমাধানের জন্য ৪০ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড গঠন করে 'কুতুবে হানাফিয়্যাহ' সংকলন করেন। যাতে ৮৩ হাজার মাসয়ালা রয়েছে। আর এটাই সর্বপ্রথম সম্পাদিত ইলমে ফিকহের কিতাব। এজন্য তাঁকে ইলমে ফিক্‌হের পথিকৃৎ বলা হয় এবং পরবর্তীতে তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করেন অন্যান্য ইমানগণ ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Notre Dame College, Dhaka (2023)

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। এরকম একজন আইনবিশারদ ৮০ হিজরি সনে কুফায় জন্ম গ্রহণ করেন। সতেরো বছর বয়সে বিশেষভাবে বিদ্যার্জনে মনোনিবেশ করেন। তিনি হাম্মাদের নিকট ১০ বছর যাবৎ মাস'আলা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। খলিফা মনসুর তাঁকে কারাগারে বন্দি করেন এবং সেখানেই ১৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ।

ক. ফিকহশাস্ত্রের চারটি উৎসের নাম লেখ ।

খ. ‘নেতৃত্ব হাসিল করার পূর্বে তোমরা ফিক্‌হ হাসিল করো'— এ কথা কেন বলা হয়েছে?

গ. উদ্দীপকে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকে কার কথা বলা হয়েছে? ফিকহশাস্ত্রে তাঁর অবদান মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

আব্দুস সালাম প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট মাসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকেন। মাগরিবের সময় অনেক মেহমান নিয়ে একসা...

আমিন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয় নিয়ে কুরআন ও হাদিস থেকে গবেষণালব্ধ এবং উদ্ভাবিত ইসলামের ব্যাবহারিক...

‘ইমাম আজম’ কার উপাধি?

ইমাম আবু হানিফা (র) জন্মগ্রহণ করেন-

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত . সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত প...

উমাইয়া খিলাফতের সময়েই ফিকহ শাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত করার জন্য কাজ শুরু করেন এক মহান ব্যক্তি, যাকে ইমাম আযম বলা হয়। খলিফা ...

ক. ফিকহশাস্ত্রের মূল উৎস কয়টি? খ. ইমাম শাফেয়ি (র)-একজন শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ — ব্যাখ্য করো। গ. চিত্রে 'Y' চিহ্নিত করে ব্যাখ...

ক. মুআত্তা-ই-মালিক কী? খ. "ইমাম আবু হানিফা (র.) একজন শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ।”- ব্যাখ্যা কর। গ. চিত্রে 'Y' চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।