Facebook Pixel

সুলতানি ও মুঘল আমলে ভারতে ফারসি ভাষায় সরকারি কার্যক্রম চলত। কিন্তু পলাশী যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। শাসন ক্ষেত্রে ব্রিটিশরা ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভব করে। এরই প্রেক্ষিতে তারা ভারতে ইংরেজি শিক্ষার স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। অফিস-আদালতসহ সবখানে ইংরেজি ভাষা চালু করা হয়। অর্থনীতি, শিক্ষা, ব্যবসায় তারা ইংরেজি সংস্কৃতি চালু করে । পাঠ-৪ ক. উমাইয়া খিলাফতের পতন হয় কত খ্রিষ্টাব্দে? খ. মুয়াবিয়া (রা.)-কে কেন আরবদের প্রথম রাজা বলা হয়? গ. উদ্দীপকে খলিফা আব্দুল মালিকের কোন সংস্কারের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের বর্ণিত পদক্ষেপ আব্দুল মালিকের আরবীয়করণ নীতির প্রতিচ্ছবি- মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

উৎস: Board Exam Question DB 2019, Board Exam Question CB 2019, Board Exam Question ChB 2019, Board Exam Question SB 2019, Board Exam Question DiB 2019, Board Exam Question Combined 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) উমাইয়া খিলাফতের পতন হয় ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে। (খ) খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা.) মুসলিম শাসনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজতান্ত্রিক পদ্ধতি প্রবর্তন করেন বলে তাকে আরবদের প্রথম রাজা বলা হয়। খলিফা হযরত আলী (রা.)-এর মৃত্যুর পর তিনি কৌশলে এক সন্ধির মাধ্যমে ইমাম হাসানকে খিলাফত থেকে সরিয়ে মুসলিম রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করেন এবং রাজধানী কুফা থেকে দামেস্কে স্থানান্তরিত করেন। তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক খলিফা নির্বাচনের প্রথা বিলুপ্ত করে উত্তরাধিকার সূত্রে খলিফা নির্বাচনের প্রথা চালু করেন এবং তার জীবদ্দশায় পুত্র ইয়াযিদকে পরবর্তী খলিফা মনোনীত করেন। এই রাজতান্ত্রিক ধারার প্রবর্তনের কারণেই মুয়াবিয়া (রা.)-কে প্রথম রাজা বলা হয়। (গ) উদ্দীপকে খলিফা আব্দুল মালিকের 'আরবি ভাষা জাতীয়করণ' সংস্কারের প্রতিফলন ঘটেছে। খলিফা আব্দুল মালিকের ক্ষমতায় আরোহণের পূর্বে মুসলিম সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদেশে ভিন্ন ভিন্ন ভাষার প্রচলন ছিল। যেমন: ইরাক ও পারস্যে ফারসি ও পাহলবী, মিশরে কিবতী বা গ্রিক এবং সিরিয়ায় সিরীয় ভাষার ব্যবহার প্রচলিত ছিল। খলিফা আব্দুল মালিক রাষ্ট্রীয় সংহতি ও প্রশাসনিক একতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব ভাষার পরিবর্তে সরকারিভাবে আরবি ভাষা ব্যবহারের ঘোষণা দেন। তিনি সরকারি দলিলপত্রাদি আরবি ভাষায় সংরক্ষণ করার প্রথা চালু করেন। পাশাপাশি অনারব অধিবাসীদের জন্য আরবি ভাষা সহজ করতে তিনি জবর, জের, পেশ এবং অক্ষরের নোকতা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্রিটিশরা ভারতে শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে প্রশাসনিক প্রয়োজনে ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এবং অফিস-আদালতসহ সবখানে ইংরেজি ভাষা চালু করে। খলিফা আব্দুল মালিকের আরবি ভাষা প্রবর্তনের উদ্দেশ্য এবং ব্রিটিশদের ইংরেজি ভাষা চালুর উদ্দেশ্য উভয়ই ছিল প্রশাসনিক একীকরণ ও শাসনব্যবস্থাকে সহজতর করা। সুতরাং উদ্দীপকের পদক্ষেপ এবং খলিফা আব্দুল মালিকের আরবি ভাষা সংস্কার একই সূত্রে গাঁথা। (ঘ) 'উদ্দীপকে বর্ণিত পদক্ষেপ আব্দুল মালিকের আরবীয়করণ নীতির প্রতিচ্ছবি' উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে যে, ব্রিটিশরা ভারতে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য ইংরেজি ভাষা ও সংস্কৃতি চালু করে, যাতে তারা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করতে পারে। খলিফা আব্দুল মালিকের আরবীয়করণ নীতিও ছিল মূলত একই লক্ষ্যনির্ভর। তিনি রাষ্ট্রকে জাতীয়করণ এবং সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য পূর্বের ফারসি পাহলভি, সিরীয় ও গ্রিক ভাষার পরিবর্তে আরবিকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দান করেন। ৬৯৬-৯৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এ মর্মে একটি রাজকীয় আদেশ জারি করেন। সালিহ বিন আব্দুর রহমানের পরামর্শে তিনি সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন, যার ফলে সিরিয়া, ইরাক, মিশর ও পারস্যের প্রশাসনিক কাজে আরবি ভাষার প্রচলন ঘটে। খলিফা আব্দুল মালিকের এই নীতির মূলে ছিল আরব জাতীয়তাবাদী চেতনা। তিনি লক্ষ্য করেন যে, আরব মুসলিমরা রাজ্য শাসন করলেও প্রশাসনের উচ্চপদগুলোতে অনারব বিশেষ করে পারসিক ও রোমানদের প্রভাব বেশি। এই বিজাতীয় প্রভাব হ্রাস করে আরবদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি রাজকীয় দফতরসমূহে কেবল আরবি ভাষাভাষীদের চাকরির সুযোগ প্রদান করেন। যদিও অনেক অনারব দ্রুত আরবি ভাষা রপ্ত করে প্রশাসনে টিকে থাকেন, তবুও এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনের সামগ্রিক রূপটি আরবীয়করণ হয়। ঐতিহাসিক পি.কে. হিট্টি-র মতে, প্রশাসনকে আরবীয়করণ, বিশুদ্ধ আরবি মুদ্রার প্রচলন এবং কুব্বাতুস সাখরা নির্মাণ ছিল আরব জাতীয়তাবাদেরই বহিঃপ্রকাশ। অতএব, উদ্দীপকের ব্রিটিশদের ইংরেজি ভাষা চালুর পদক্ষেপ এবং খলিফা আব্দুল মালিকের আরবি ভাষা প্রবর্তনের মাধ্যমে আরবীয়করণ নীতি একে অপরের প্রতিচ্ছবি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2019)Cumilla Board (2019)Chattogram Board (2019)Sylhet Board (2019)Dinajpur Board (2019)Combined Board (2019)

সুলতানি ও মুঘল আমলে ভারতে ফারসি ভাষায় সরকারি কার্যক্রম চলত। কিন্তু পলাশী যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। শাসন ক্ষেত্রে ব্রিটিশরা ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভব করে। এরই প্রেক্ষিতে তারা ভারতে ইংরেজি শিক্ষার স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। অফিস-আদালতসহ সবখানে ইংরেজি ভাষা চালু করা হয়। অর্থনীতি, শিক্ষা, ব্যবসায় তারা ইংরেজি সংস্কৃতি চালু করে । পাঠ-৪

ক. উমাইয়া খিলাফতের পতন হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?

খ. মুয়াবিয়া (রা.)-কে কেন আরবদের প্রথম রাজা বলা হয়?

গ. উদ্দীপকে খলিফা আব্দুল মালিকের কোন সংস্কারের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের বর্ণিত পদক্ষেপ আব্দুল মালিকের আরবীয়করণ নীতির প্রতিচ্ছবি- মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আবদুল মালিকের শাসনামলে উল্লেখযোগ্য সংস্কারসমূহ হলো- i. আরবি মুদ্রা চালুকরণ ii. আরবি লিপির উৎকর্ষ সাধন iii. কুরআন সংকলন ন...

“আরবদের নীরো' বলে কে পরিচিত ছিলেন?

ইলখানি সুলতান গাজান খান একজন প্রজারঞ্জক শাসক ছিলেন। তিনি জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সকল প্রকার অন্যায় কর নিষিদ্ধ করে...

ইলখানি সুলতান গাজান খান গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা এবং দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য ডাকব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেন। তিনি...

ইসলামে নওমুসলিমরা কী নামে পরিচিত?

উত্তর আফ্রিকার এক বিখ্যাত-রাজা ছিলেন মিস্টার হান্টার। সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আয়ত্তে আনেন। তি...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : ইব্রাহিম একজন মহান শাসক ছিলেন। ধর্মভীরু মুসলিম শাসক হলেও পর ধর্মের প্রতি তিনি খুবই স...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : ইব্রাহিম একজন মহান শাসক ছিলেন। ধর্মভীরু মুসলিম শাসক হলেও পর ধর্মের প্রতি তিনি খুবই স...

উমাইয়া আমলে কাদের প্রাধান্য স্থাপিত হয়?

উমাইয়া খিলাফতে মোট কতজন শাসক ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।