Facebook Pixel

ইলখানি সুলতান গাজান খান একজন প্রজারঞ্জক শাসক ছিলেন। তিনি জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সকল প্রকার অন্যায় কর নিষিদ্ধ করেন। তার শাসন নীতি ছিল প্রজাকল্যাণ ও ন্যায়নীতি। প্রতিষ্ঠা। তিনি অত্যন্ত ন্যায়বান, সচ্চরিত্রের অধিকারী, পরিশ্রমী শাসক ছিলেন সত্য, তবে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরোধিতা, বহুজাতির সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রের দুর্বলতা, ইলখানিদের প্রতি বিরূপ মনোভাব ইত্যাদি। কারণে ইলখানি সাম্রাজ্যটি খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ক. কত সালে উমাইয়া খিলাফতের পতন হয়? খ. কোন উমাইয়া খলিফাকে আশীর্বাদের চাবি বলা হতো এবং কেন? গ. গাজান খানের শাসন নীতির সাথে কোন উমাইয়া খলিফার শাসন নীতির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত কারণগুলোর আলোকে উমাইয়া খিলাফতের পতনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

উৎস: Board Exam Question SB 2023, Board Exam Question RB 2023, Board Exam Question MSB 2023, Board Exam Question DB 2023, Board Exam Question Combined 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খিলাফতের পতন হয়। (খ) খলিফা সুলায়মানকে 'আশীর্বাদের চাবি' বা 'মিফতাহুল খায়ের' বলা হতো। উমাইয়া শাসনামলে ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কুফা ও বসরায় ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা)-এর অনুসারীদের বিদ্রোহ দমন করেন। এ সময় তিনি হাজার হাজার মানুষকে বন্দি করে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। খলিফা সুলায়মান ক্ষমতায় আরোহণের পর হাজ্জাজের বন্দিকৃত কয়েদিদের মুক্তি প্রদান করেন। এই মহানুভবতার কারণে তাকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয়। (গ) গাজান খানের শাসন নীতির সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন নীতির সাদৃশ্য রয়েছে। উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী একজন শ্রেষ্ঠ ও মহান শাসক ছিলেন খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ। তিনি তার পূর্ববর্তী শাসকদের বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতার নীতি পরিহার করে খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ অনুসারে শাসনকাজ পরিচালনা করেন। তিনি রাজস্ব ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত গাজান খান জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে অন্যায় কর নিষিদ্ধ করেন এবং ন্যায়নিষ্ঠ শাসন নীতি প্রণয়ন করেন। একইভাবে, উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজও ক্ষমতায় আরোহণ করে আরব-অনারব, ধনী-দরিদ্র, হিমারীয়-মুদারীয় ভেদাভেদ দূর করে সবার প্রতি উদার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি একজন ধার্মিক খলিফা হিসেবে কুরআন ও হাদিসের বিধান অনুসারে জীবনযাপন ও শাসনকাজ পরিচালনা করেন। ইসলামের প্রসারকল্পে তিনি ঘোষণা করেন যে, যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে তাকে খারাজ (ভূমিকর) ও জিজিয়া (অমুসলিমদের নিরাপত্তা কর) থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং তাকে অতিরিক্ত পেনশন দেওয়া হবে। এভাবে তিনি রাজস্ব নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করেন। সুতরাং বলা যায়, প্রজাকল্যাণ ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে গাজান খান ও ওমর বিন আবদুল আজিজের কর্মকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত ইলখানি সাম্রাজ্যের পতনের কারণের মতো উমাইয়া খিলাফতের পতনের পেছনেও নানামুখী কারণ বিদ্যমান ছিল। বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন বলেছেন, যেকোনো রাজবংশের একটি নির্দিষ্ট স্থিতিকাল থাকে এবং প্রতিটি সাম্রাজ্যকে প্রতিষ্ঠা, গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় এবং ক্রমাবনতি ও পতন, এই তিনটি পর্যায় অতিক্রম করতে হয়। উমাইয়া খিলাফতের ক্ষেত্রেও এই প্রাকৃতিক নিয়ম কার্যকর ছিল। এছাড়া উমাইয়া খিলাফতের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল গণতন্ত্রের পরিবর্তে স্বৈরতন্ত্রের প্রবর্তন, নির্বাচনের স্থলে মনোনয়ন এবং খুলাফায়ে রাশেদিনের খিলাফতের পরিবর্তে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি বায়তুল মালকে খলিফাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করা জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইলখানি সাম্রাজ্যের পতনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরোধিতা, বহুজাতির সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রের দুর্বলতা এবং ইলখানিদের প্রতি বিরূপ মনোভাব দায়ী ছিল। উমাইয়াদের পতনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ কারণ পরিলক্ষিত হয়। উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে মুয়াবিয়া, আবদুল মালিক, আল-ওয়ালিদ ও দ্বিতীয় ওমর ছাড়া প্রায় সকল শাসকই ছিলেন অযোগ্য ও অকমর্থ। এই নৈতিক অধঃপতন ও অযোগ্যতার ফলে সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এছাড়া মাওয়ালিদের (অনারব মুসলিম) প্রতি উমাইয়া শাসকদের বৈষম্যমূলক নীতি তাদের পতন ত্বরান্বিত করেছিল, যা উদ্দীপকের 'বিরূপ মনোভাব'-এর সাথে সংগতিপূর্ণ। তাছাড়া উমাইয়া-হাশেমি দ্বন্দ্ব, মুদারীয়-হিমারীয় গোত্রীয় সংঘাত, শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের ক্ষোভ এবং খারেজিদের বিদ্রোহ উমাইয়া বংশের ভিত্তি দুর্বল করে দিয়েছিল। পরিশেষে বলা যায়, উমাইয়া শাসনের পতনের পেছনে প্রাকৃতিক কারণ, অযোগ্য খলিফা, অনারব মুসলমানদের প্রতি বৈষম্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্রোহ বিশেষভাবে দায়ী ছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2023)Rajshahi Board (2023)Mymensingh Board (2023)Dhaka Board (2023)Combined Board (2023)

ইলখানি সুলতান গাজান খান একজন প্রজারঞ্জক শাসক ছিলেন। তিনি জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সকল প্রকার অন্যায় কর নিষিদ্ধ করেন। তার শাসন নীতি ছিল প্রজাকল্যাণ ও ন্যায়নীতি। প্রতিষ্ঠা। তিনি অত্যন্ত ন্যায়বান, সচ্চরিত্রের অধিকারী, পরিশ্রমী শাসক ছিলেন সত্য, তবে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরোধিতা, বহুজাতির সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রের দুর্বলতা, ইলখানিদের প্রতি বিরূপ মনোভাব ইত্যাদি। কারণে ইলখানি সাম্রাজ্যটি খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ক. কত সালে উমাইয়া খিলাফতের পতন হয়?

খ. কোন উমাইয়া খলিফাকে আশীর্বাদের চাবি বলা হতো এবং কেন?

গ. গাজান খানের শাসন নীতির সাথে কোন উমাইয়া খলিফার শাসন নীতির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত কারণগুলোর আলোকে উমাইয়া খিলাফতের পতনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আবদুল মালিকের শাসনামলে উল্লেখযোগ্য সংস্কারসমূহ হলো- i. আরবি মুদ্রা চালুকরণ ii. আরবি লিপির উৎকর্ষ সাধন iii. কুরআন সংকলন ন...

“আরবদের নীরো' বলে কে পরিচিত ছিলেন?

ইলখানি সুলতান গাজান খান গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা এবং দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য ডাকব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেন। তিনি...

ইসলামে নওমুসলিমরা কী নামে পরিচিত?

উত্তর আফ্রিকার এক বিখ্যাত-রাজা ছিলেন মিস্টার হান্টার। সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আয়ত্তে আনেন। তি...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : ইব্রাহিম একজন মহান শাসক ছিলেন। ধর্মভীরু মুসলিম শাসক হলেও পর ধর্মের প্রতি তিনি খুবই স...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : ইব্রাহিম একজন মহান শাসক ছিলেন। ধর্মভীরু মুসলিম শাসক হলেও পর ধর্মের প্রতি তিনি খুবই স...

উমাইয়া আমলে কাদের প্রাধান্য স্থাপিত হয়?

উমাইয়া খিলাফতে মোট কতজন শাসক ছিলেন?

উমাইয়া খিলাফতের রাজধানী কোথায় ছিল

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।