Facebook Pixel

সুজলা সুফলা, শস্য শ্যামলা এক দেশে জন্মেছিলেন এক অবিসংবাদিত নেতা। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী এবং অন্যায়ের সাথে আপসহীন। জীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দেওয়ার জন্য। তার নির্দেশে আপামর জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। নয় মাসের যুদ্ধে ছিনিয়ে আনে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। লাল সবুজের পতাকা । ক. অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন? খ. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে কোন মহান নেতার রাজনৈতিক জীবনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. “উক্ত মহান নেতা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক সূত্রে গাঁথা”- ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ

উৎস: Board Exam Question JB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। (খ) মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কারণ তিনি আজীবন শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা সোচ্চার ছিলেন এবং তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অত্যাচার, শোষণ ও জুলুমের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে 'মজলুম জননেতা' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মহান নেতা হলেন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাবলির সাথে উদ্দীপকের বর্ণনাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই প্রতিবাদী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন। ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতা ও সক্রিয়তা শুরু হয়। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির প্রতিটি স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। পাকিস্তান সরকার তাঁকে দমনের জন্য আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করলে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাঁকে মুক্ত করে আনে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন। তাঁর নির্দেশে আপামর জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে লাল-সবুজের পতাকাবাহী স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত জীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় কারাগারে কাটানো এবং স্বাধীন দেশের জন্ম দেওয়ার বিষয়টি বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনেরই প্রতিফলন। (ঘ) “উক্ত মহান নেতা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক সূত্রে গাঁথা”, উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম একে অপরের পরিপূরক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালির জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। তিনি কেবল রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা। তিনি বলেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার পর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তাঁর এই ঘোষণা ও দিকনির্দেশনা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। সুতরাং, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ছিল অকল্পনীয়। তাই বলা যায়, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক সূত্রে গাঁথা।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2021)

সুজলা সুফলা, শস্য শ্যামলা এক দেশে জন্মেছিলেন এক অবিসংবাদিত নেতা। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী এবং অন্যায়ের সাথে আপসহীন। জীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দেওয়ার জন্য। তার নির্দেশে আপামর জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। নয় মাসের যুদ্ধে ছিনিয়ে আনে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। লাল সবুজের পতাকা ।

ক. অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

খ. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে কোন মহান নেতার রাজনৈতিক জীবনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উক্ত মহান নেতা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা এক সূত্রে গাঁথা”- ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘X’ একজন রাজনৈতিক নেতা। মানুষের সেবাই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য । তিনি সংকীর্ণতা ও গোড়ামির উর্ধ্বে মানবপ্রেমে বিশ্বাস কর...

‘Y’ রাষ্ট্রের একজন অবিসংবাদিত নেতা দেশটির স্বাধীনতা অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। তিনি দেশটির শোষিত জনগণের মুক্তি জন্য সরক...

অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন কে?

অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

“অসমাপ্ত আত্মজীবনী” গ্রন্থটি কার রচনা?

‘আঁখি’ ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যেয়ে এস এম হল দেখে তার পৌরনীতি স্যারের ক্লাস লেকচারের কথা মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন বাংল...

আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেয়া হয় কত সালে?

আজমল সাহেব একজন খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ। তিনি তার সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারণের জন্য নিজ দলের অধিবেশনে একাধিক রাষ্ট্...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।