Facebook Pixel

সাজিদ সাহেব বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য প্রয়োজনীয় সব খাদ্যদ্রব্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাংলাদেশে এখনও খাদ্যের টেকসই মজুদ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আবার, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে উচ্চ মুনাফা লাভ করার চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় সরকারকে উপযোগী নীতি নির্ধারণ করে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে এবং জনগণকেও অধিক সচেতন হতে হবে। ক. খাদ্যের উপযোগিতা কী? খ. নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা ধারণা এক নয়-বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকের খাদ্য নিরাপত্তার দিকসমূহ চিহ্নিত কর। ঘ. খাদ্য নিরাপদকরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাসমূহের ভূমিকা আলোচনা কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ খাদ্য নিরাপত্তা

উৎস: Test Exam Question NDC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মানুষের জন্য খাদ্যের অভাব মোচনের ক্ষমতা এবং নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা হলো খাদ্যের উপযোগিতা। (খ) নিরাপদ খাদ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তা এই দুটি ধারণা এক নয়। অকলুষিত, টাটকা, মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যকে নিরাপদ খাদ্য বলে। অর্থাৎ নিরাপদ খাদ্য মূলত খাদ্যের গুণগত মান এবং স্বাস্থ্যগত দিক নির্দেশ করে। অন্যদিকে, খাদ্য নিরাপত্তা এমন একটি অবস্থাকে নির্দেশ করে, যে অবস্থায় সমাজের সকল মানুষের জন্য সব সময় পর্যাপ্ত, নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাদ্যের প্রাপ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত থাকে। নিরাপদ খাদ্যের ধারণাটি তুলনামূলকভাবে নতুন, কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তার ধারণাটি অনেক প্রাচীন। সহজ কথায়, নিরাপদ খাদ্য হলো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, আর খাদ্য নিরাপত্তা হলো খাদ্যের জোগান ও প্রাপ্তির নিশ্চয়তা। তাই নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা ভিন্ন ধারণা। (গ) উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি প্রধান দিক বা স্তম্ভের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো: খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা এবং খাদ্যের উপযোগিতা বা ব্যবহার। নিচে উদ্দীপকের আলোকে এগুলোর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো: ১. খাদ্যের প্রাপ্যতা: এটি দেশের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন, আমদানি ক্ষমতা এবং আপদকালীন সময়ের জন্য খাদ্যের টেকসই মজুদ বা বাফার স্টক নিশ্চিত করাকে বোঝায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশে এখনও খাদ্যের টেকসই মজুদ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি", যা খাদ্যের প্রাপ্যতার সংকটের ইঙ্গিত দেয়। ২. খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা: এটি মূলত খাদ্যের অর্থনৈতিক দিক। বাজারের দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকাই হলো খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা। উদ্দীপকে সাজিদ সাহেব দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রয়োজনীয় খাদ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতার অভাবকে নির্দেশ করে। ৩. খাদ্যের উপযোগিতা: এর অর্থ হলো যে খাদ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা হতে হবে নিরাপদ, বিষমুক্ত ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। উদ্দীপকে অসাধু ব্যবসায়ীদের খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে মুনাফা লাভের চেষ্টার কথা বলা হয়েছে, যা খাদ্যের উপযোগিতা বা গুণগত মানের অভাব ফুটিয়ে তোলে। সুতরাং, উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তার এই তিনটি মৌলিক দিকের সমস্যাই পরিলক্ষিত হয়। (ঘ) উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপদ করার লক্ষ্যে সরকার এবং জনগণ, এই দুই পক্ষের সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো: ১. সরকারের ভূমিকা: সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো কঠোর নীতিমালা ও আইনি কাঠামো তৈরির মাধ্যমে বাজারে ভেজাল রোধ করা। নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় এনে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদের ব্যবস্থা করা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের প্রতিটি ধাপে সরকারি তদারকি জোরদার করা অপরিহার্য। উদ্দীপকে উল্লিখিত "উপযোগী নীতি নির্ধারণ" এবং "বাজার মনিটরিং জোরদার" করার বিষয়টি সরকারের এই দায়িত্বকেই নির্দেশ করে। ২. জনগণের ভূমিকা: সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের মূল চাবিকাঠি। সচেতন ভোক্তা হিসেবে খাদ্য কেনার সময় মান ও মেয়াদ যাচাই করা এবং যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জনগণের দায়িত্ব। সচেতন সমাজ যখন একজোট হয়ে ভেজাল খাদ্য বর্জন ও প্রতিরোধ করে, তখন অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বাধ্য হয়। উদ্দীপকে "জনগণকেও অধিক সচেতন হতে হবে" বলে এই ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সরকারের কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং জনগণের সতর্কতা, এই দুইয়ের সক্রিয় সমন্বয়েই কেবল নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Notre Dame College, Dhaka (2026)

সাজিদ সাহেব বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য প্রয়োজনীয় সব খাদ্যদ্রব্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাংলাদেশে এখনও খাদ্যের টেকসই মজুদ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আবার, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে উচ্চ মুনাফা লাভ করার চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় সরকারকে উপযোগী নীতি নির্ধারণ করে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে এবং জনগণকেও অধিক সচেতন হতে হবে।

ক. খাদ্যের উপযোগিতা কী? খ. নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা ধারণা এক নয়-বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকের খাদ্য নিরাপত্তার দিকসমূহ চিহ্নিত কর। ঘ. খাদ্য নিরাপদকরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাসমূহের ভূমিকা আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশের জনগণ অতি দরিদ্র। খাদ্যসামগ্রীও প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প। A দেশে প্রতিবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রচুর ফসলহানি হয়। কি...

BSTI-এর পূর্ণরূপ কী?

TCB-এর পূর্ণরূপ হলো—

আদর্শ খাদ্য বলতে কোন খাদ্য বোঝায়?

আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের সংস্থান দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার অভ্যন...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : আমির সাহেব সেমিনারে আলোচনাকালে বলেন, বাংলাদেশে জনগণ নিরাপদ খাদ্যের অভাবে ক্যান্সার,...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : আমির সাহেব সেমিনারে আলোচনাকালে বলেন, বাংলাদেশে জনগণ নিরাপদ খাদ্যের অভাবে ক্যান্সার,...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। এ ধরনের খাদ্য জনস...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। এ ধরনের খাদ্য জনস...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দিনমজুর ময়না মিয়া বাজারে খাদ্যদ্রব্যের যথেষ্ট যোগান দেখে খুশি হন । কিন্তু তিনি যে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।