Facebook Pixel

সিংহাসনে আরোহণ করেই শাসক তাহযীদ-আল-জুবায়ের বেশ কিছু নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি কার্যকরী পরামর্শ সভা ভেঙে দিলেন, রাজকোষের ওপর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং নির্বাচন প্রথা বাতিল করে মনোনয়ন প্রথা চালু করলেন। তিনি আড়ম্বর ও জাঁকজমকপূর্ণ রাজদরবার পরিচালনা করার কথা ঘোষণা করলেন? ক. কারবালার যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? খ. দিওয়ান আল বারিদ কী? গ. উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শাসকের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশ্লেষণ কর। ঘ. উক্ত কার্যকলাপ মুসলিম খিলাফতে কি প্রভাব ফেলেছে ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কারবালার যুদ্ধ ৬৮০ সালে সংঘটিত হয়। খ. দিওয়ানুল বারিদ হলো ডাকবিভাগ। মুয়াবিয়া (রা.) সর্বপ্রথম দিওয়ানুল বারিদ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে এটি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সৃষ্টি করা হলেও পরবর্তী সময়ে জনসাধারণের সুবিধার্থে এ বিভাগের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। এ ব্যবস্থায় ঘোড়া অথবা উটের সাহায্যে দূরদূরাঞ্চলে ডাক প্রেরণ করা হতো এবং মাইল অন্তর অন্তর বদলি ঘোড়ার ব্যবস্থা ছিল। এসমস্ত উপায়ে কেবল ডাকই নয়; বরং কোনো জরুরি সংবাদ, বিদ্রোহ এবং অসন্তোষের খবরও কেন্দ্রে পাঠানো হতো। গ. উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শাসক হলেন হযরত মুয়াবিয়া (রা.)। তিনি শাসন ক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। উদ্দীপকের শাসক তাহমীদের কার্যকলাপের সাথে হযরত মুয়াবিয়ার কর্মকান্ড মিলে যায়। তাহমীদের মতো মুয়াবিয়া পরামর্শসভা ভেঙ্গে দেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে ব্যক্তিগত কোষাগারে পরিণত করেন এবং মনোনয়ন প্রথা চালু করেন। খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা) একজন সুদক্ষ ও প্রতিভাবান শাসক ছিলেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলে। প্রবর্তিত মজলিস-উশ-শূরা বা পরামর্শসভা বাতিল করে প্রচলিত ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় কতকগুলো শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন এনেছিলেন। এছাড়া তিনি ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে স্বীয় পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করে উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজতন্ত্রের প্রবর্তন করেন। মুয়াবিয়া ছিলেন উমাইয়া নামে একটি নতুন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। শুধু তাই নয়, খলিফা মুয়াবিয়াই সর্বপ্রথম খিলাফতকে সালতানাতে রূপান্তরিত করেন। তিনি নতুন মুসলিম রাষ্ট্রকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করেন। তিনিই প্রথম শাসক যিনি নিজেকে রাজ মর্যাদায় ভূষিত করেন। মুসলিম শাসকদের মধ্যে তিনিই প্রথম রাজকীয় সিংহাসন, খোঁজাদের দিয়ে গঠিত দেহরক্ষী দল, প্রাসাদদ্বারে রক্ষীবাহিনী, জামাতের নামাজের সময় মসজিদে সাধারণ মানুষ থেকেহ দূরে পৃথক তাঁবু এবং নিরাপত্তার জন্য আলাদা কক্ষ এবং রেশম ও মুক্তার মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদির ব্যবহার করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে রাজা তাহমীদের কার্যক্রমের মধ্যে মুয়াবিয়ার শাসনব্যবস্থার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হয়। ঘ. উক্ত কার্যকলাপ তথা মজলিসে শূরা ভেঙ্গে দেওয়া, রাজকোষের উপর ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠা, রাজতন্ত্র চালু মুসলিম খিলাফতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) সিরিয়ার একজন প্রাদেশিক শাসনকর্তা হয়ে পরবর্তীতে হযরত আলী (রা.)-এর সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে চালাকি করে সমগ্র খিলাফত দখল করেন। তিনি সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে একটি নতুন রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন যা উমাইয়া খিলাফত নামে পরিচিত। খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে মুয়াবিয়া রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন এবং দৃক্ষ নৌবাহিনীর সাহায্যে সাইপ্রাস, রোডস, এশিয়া মাইনরের উপকূলবর্তী অন্যান্য গ্রিক দ্বীপ জয় করেন। এছাড়াও তিনি প্রাচ্যের কাবুল, গজনি, কান্দাহারসহ উত্তর আফ্রিকা জয় করে সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। তিনি পরামর্শ সভা ভেঙ্গে দিলে শাসন পরিচালনায় অন্যদের মতামত প্রদানের পথ রহিত হয় এবং মুয়াবিয়া একক সিস্থান গ্রহণ শুরু করেন। তাছাড়া রাজকোষের উপর উমাইয়াদের ব্যক্তিগত প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থ লুণ্ঠি থাকে এবং এক সময় গিয়ে রাজকোষ শূন্য হয়ে যায়। তাছাড়া অনেক খলিফা কোষাগার থেকে অর্থ নিয়ে বিলাসিতায় ব্যয় করলে জনকল্যাণ কমে যায়। অপরদিকে মুয়াবিয়া নিজ পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করার মাধ্যমে রাজতন্ত্র চালু করলে গণতন্ত্রের পথ বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে শাসকগণ স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার হয়ে ওঠে। এসব বিষয় ওমাইয়া খিলাফতের প্রতি জনসমর্থন হ্রাস পায় এবং আব্বাসীয় আন্দোলন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এসব নীতির ফলে উমাইয়াদের পতন ঘনিয়ে আসে এবং এক পর্যায়ে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ তাদের পতন ঘটে। তারা ভয়াবহ নৃসংসতার শিকার হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সিংহাসনে আরোহণ করেই শাসক তাহযীদ-আল-জুবায়ের বেশ কিছু নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি কার্যকরী পরামর্শ সভা ভেঙে দিলেন, রাজকোষের ওপর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং নির্বাচন প্রথা বাতিল করে মনোনয়ন প্রথা চালু করলেন। তিনি আড়ম্বর ও জাঁকজমকপূর্ণ রাজদরবার পরিচালনা করার কথা ঘোষণা করলেন?

ক.

কারবালার যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

খ.

দিওয়ান আল বারিদ কী?

গ.

উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শাসকের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশ্লেষণ কর।

ঘ.

উক্ত কার্যকলাপ মুসলিম খিলাফতে কি প্রভাব ফেলেছে ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।