Facebook Pixel

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে যে খলিফাকে নির্দেশ করা হয়েছে তাঁর জাতীয়তাবাদ নীতি ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত খলিফাকে উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কেন বলা হয়? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে 'দিওয়ান আল-বারিদ' বলা হতো। খ. কারবালার যুদ্ধে করুণভাবে মুসলমানদের হত্যা করা হয় এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে নবি করিম (স)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের শিরশ্ছেদ করা হয়। তাই এ হত্যাকাণ্ডকে মর্মান্তিক বলা হয়। ৬০ হিজরির ১০ই মহররম কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেনের বাহিনী ও ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শুরু হয়। ইয়াজিদ বাহিনী ফোরাত নদীর পাড় দখল করে ইমাম হোসেনের বাহিনীকে পানি থেকে বঞ্চিত করে। ফলে পানির অভাবে ইমাম হোসেনের ভ্রাতুস্পুত্র কাসেম মৃত্যুবরণ করেন। পরে ইমাম হোসেন নিজপুত্র শিশু আসগরকে নিয়ে ফোরাত নদীতে পানির জন্য গেলে আসগর শরবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। পরে ইয়াজিদের নির্দেশে পাপিষ্ঠ সীমার তরবারি দ্বারা ইমাম হোসেনের শিরশ্ছেদ করে। নবি করিম (স)-এর দৌহিত্রের এ বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ডকে তাই মর্মান্তিক ঘটনা বলা হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিককে নির্দেশ করা করা হয়েছে। তার শাসন নীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল আরব জাতীয়তাবাদ। খলিফা আবদুল মালিক ছিলেন উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তাকে রাজেন্দ্র বলা হতো। তিনি আরব জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দিয়ে শাসন নীতি প্রণয়ন করেছিলেন। জেরুজালেমে নির্মিত কুব্বাতুস সাখরা তার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ছিল। উদ্দীপকে বর্ণিত তথ্যগুলো তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আবদুল মালিকের শাসননীতির মূল বিষয় ছিল আরব জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ। তিনি শাসন ক্ষমতায় বসে দেখেন যে, আরব মুসলিমরা রাজ্য শাসন করলেও মূলত অনারব জনগোষ্ঠী বিশেষ করে পারসিক ও রোমানরা উমাইয়া খিলাফতের প্রশাসন পরিচালনা করছে। এমতাবস্থায় তিনি বিজাতীয়দের প্রভাব হ্রাস করার লক্ষ্যে আরবি ভাষাভাষীদের চাকরি দেওয়ার বিধান চালু করেন। আবদুল মালিক রাষ্ট্রে আরব জাতীয়তাবাদের প্রতিফলন ঘটানো এবং সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য ফারসি, সিরীয় ও গ্রিকসহ প্রচলিত ভাষার পরিবর্তন সাধন করে আরবিকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দান করেন। এ ব্যবস্থার ফলে অনারব মুসলমানেরা কর্মচ্যুত হলে তাদের স্থলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগে আরব মুসলমানেরা নিযুক্ত হন। আবদুল মালিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার জন্য দিনার, দিরহাম, ও ফালুস নামের স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রা প্রচলন করেন। এছাড়া তিনি আরবীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের জন্য আরবি লিপির উন্নতি বিধানেও কাজ করেন। ঘ. বিভিন্ন সংস্কার ও বিদ্রোহীদের দমনের জন্য উক্ত খলিফা তথা খলিফা আবদুল মালিককে উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়। উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক আরবি ভাষার উন্নতির পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার, ডাক বিভাগের উন্নতি, এবং বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনে যথেষ্ট যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তার শাসনামলে ব্যাপক সংস্কার সাধনের জন্য তিনি উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে খ্যাত। উদ্দীপকে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের স্থাপত্যশিল্পের আলোচনা করা হয়েছে। এসব কীর্তির পাশাপাশি তিনি সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন উমাইয়া বংশের শাসন সুদৃঢ় করার মাধ্যমে। তিনি সিংহাসনে আরোহণ করে শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সব সংস্কার সাধন করেন। তিনি রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে রাজ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটানোর জন্য কিছু নীতি গ্রহণ করেন। এ নীতিগুলোর মধ্যে ছিল ইসলাম গ্রহণ করলেও মাওয়ালিদের জিজিয়া ও খারাজ দিতে হবে, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও সৈন্যরা গ্রামে গিয়ে স্ব-স্ব পেশায় নিযুক্ত হতে হবে। মুসলমানরা জমি ক্রয় করলে আগের মতো কর দিতে হবে এবং অনাবাদি জমি ও জলাভূমির জল নিষ্কাশন করে সেগুলো চাষ করতে হবে। খলিফা আবদুল মালিক ডাক বিভাগের সংস্কারের জন্য পারসিকদের পদ্ধতি অনুযায়ী ডাক চালান প্রথার প্রচলন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের বড় রাস্তার পাশে ডাকচৌকি নির্মাণ করেন। তার এ ডাক বিভাগ সরকারি চিঠিপত্র, আদেশ-নিষেধ আদান-প্রদান, সরকারি কর্মচারীদের স্থানান্তর, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সৈন্য ও রসদ সরবরাহ এবং গোয়েন্দা বিভাগের কাজ সম্পাদন করত। তিনি সাম্রাজ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়ও অসামান্য ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও খলিফা আবদুল মালিক কঠোরহস্তে বিদ্রোহীদের দমন করেন। তিনি সিংহাসনের দাবিদার খালিদ বিন ইয়াজিদকে স্বীয় দলভুক্ত এবং আমর বিন সাঈদকে কৌশলে রাজপ্রাসাদে আহ্বান করে হত্যা করেন। মুসাবকে তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত ও নিহত করেন। এরপর তিনি বার্বার নেতা কোমেইলার ও কাহিনার বিদ্রোহ দমন করেন। সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক বিভিন্ন সংস্কার সাধন এবং সাম্রাজ্যে বিদ্রোহীদের দমনের ক্ষেত্রে অপরিসীম কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাই তাকে উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ক.

মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো?

খ.

কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে যে খলিফাকে নির্দেশ করা হয়েছে তাঁর জাতীয়তাবাদ নীতি ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উক্ত খলিফাকে উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কেন বলা হয়? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

আব্দুল মালিক প্রচলন করেন- i. দিনার নামের মুদ্রা ii. দিরহাম নামের মুদ্রা iii.. ফালুস নামের মুদ্রা নিচের কোনটি সঠিক?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।