ক.
মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে 'দিওয়ান আল-বারিদ' বলা হতো।
খ.
কারবালার যুদ্ধে করুণভাবে মুসলমানদের হত্যা করা হয় এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে নবি করিম (স)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের শিরশ্ছেদ করা হয়। তাই এ হত্যাকাণ্ডকে মর্মান্তিক বলা হয়।
৬০ হিজরির ১০ই মহররম কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেনের বাহিনী ও ইয়াজিদের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শুরু হয়। ইয়াজিদ বাহিনী ফোরাত নদীর পাড় দখল করে ইমাম হোসেনের বাহিনীকে পানি থেকে বঞ্চিত করে। ফলে পানির অভাবে ইমাম হোসেনের ভ্রাতুস্পুত্র কাসেম মৃত্যুবরণ করেন। পরে ইমাম হোসেন নিজপুত্র শিশু আসগরকে নিয়ে ফোরাত নদীতে পানির জন্য গেলে আসগর শরবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। পরে ইয়াজিদের নির্দেশে পাপিষ্ঠ সীমার তরবারি দ্বারা ইমাম হোসেনের শিরশ্ছেদ করে। নবি করিম (স)-এর দৌহিত্রের এ বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ডকে তাই মর্মান্তিক ঘটনা বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিককে নির্দেশ করা করা হয়েছে। তার শাসন নীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল আরব জাতীয়তাবাদ।
খলিফা আবদুল মালিক ছিলেন উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তাকে রাজেন্দ্র বলা হতো। তিনি আরব জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দিয়ে শাসন নীতি প্রণয়ন করেছিলেন। জেরুজালেমে নির্মিত কুব্বাতুস সাখরা তার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ছিল। উদ্দীপকে বর্ণিত তথ্যগুলো তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
আবদুল মালিকের শাসননীতির মূল বিষয় ছিল আরব জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ। তিনি শাসন ক্ষমতায় বসে দেখেন যে, আরব মুসলিমরা রাজ্য শাসন করলেও মূলত অনারব জনগোষ্ঠী বিশেষ করে পারসিক ও রোমানরা উমাইয়া খিলাফতের প্রশাসন পরিচালনা করছে। এমতাবস্থায় তিনি বিজাতীয়দের প্রভাব হ্রাস করার লক্ষ্যে আরবি ভাষাভাষীদের চাকরি দেওয়ার বিধান চালু করেন। আবদুল মালিক রাষ্ট্রে আরব জাতীয়তাবাদের প্রতিফলন ঘটানো এবং সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য ফারসি, সিরীয় ও গ্রিকসহ প্রচলিত ভাষার পরিবর্তন সাধন করে আরবিকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দান করেন। এ ব্যবস্থার ফলে অনারব মুসলমানেরা কর্মচ্যুত হলে তাদের স্থলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগে আরব মুসলমানেরা নিযুক্ত হন। আবদুল মালিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার জন্য দিনার, দিরহাম, ও ফালুস নামের স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্র মুদ্রা প্রচলন করেন। এছাড়া তিনি আরবীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের জন্য আরবি লিপির উন্নতি বিধানেও কাজ করেন।
ঘ.
বিভিন্ন সংস্কার ও বিদ্রোহীদের দমনের জন্য উক্ত খলিফা তথা খলিফা আবদুল মালিককে উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়।
উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক আরবি ভাষার উন্নতির পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার, ডাক বিভাগের উন্নতি, এবং বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনে যথেষ্ট যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তার শাসনামলে ব্যাপক সংস্কার সাধনের জন্য তিনি উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে খ্যাত।
উদ্দীপকে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের স্থাপত্যশিল্পের আলোচনা করা হয়েছে। এসব কীর্তির পাশাপাশি তিনি সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন উমাইয়া বংশের শাসন সুদৃঢ় করার মাধ্যমে। তিনি সিংহাসনে আরোহণ করে শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সব সংস্কার সাধন করেন। তিনি রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে রাজ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটানোর জন্য কিছু নীতি গ্রহণ করেন। এ নীতিগুলোর মধ্যে ছিল ইসলাম গ্রহণ করলেও মাওয়ালিদের জিজিয়া ও খারাজ দিতে হবে, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও সৈন্যরা গ্রামে গিয়ে স্ব-স্ব পেশায় নিযুক্ত হতে হবে। মুসলমানরা জমি ক্রয় করলে আগের মতো কর দিতে হবে এবং অনাবাদি জমি ও জলাভূমির জল নিষ্কাশন করে সেগুলো চাষ করতে হবে। খলিফা আবদুল মালিক ডাক বিভাগের সংস্কারের জন্য পারসিকদের পদ্ধতি অনুযায়ী ডাক চালান প্রথার প্রচলন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের বড় রাস্তার পাশে ডাকচৌকি নির্মাণ করেন। তার এ ডাক বিভাগ সরকারি চিঠিপত্র, আদেশ-নিষেধ আদান-প্রদান, সরকারি কর্মচারীদের স্থানান্তর, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সৈন্য ও রসদ সরবরাহ এবং গোয়েন্দা বিভাগের কাজ সম্পাদন করত। তিনি সাম্রাজ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়ও অসামান্য ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও খলিফা আবদুল মালিক কঠোরহস্তে বিদ্রোহীদের দমন করেন। তিনি সিংহাসনের দাবিদার খালিদ বিন ইয়াজিদকে স্বীয় দলভুক্ত এবং আমর বিন সাঈদকে কৌশলে রাজপ্রাসাদে আহ্বান করে হত্যা করেন। মুসাবকে তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত ও নিহত করেন। এরপর তিনি বার্বার নেতা কোমেইলার ও কাহিনার বিদ্রোহ দমন করেন।
সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক বিভিন্ন সংস্কার সাধন এবং সাম্রাজ্যে বিদ্রোহীদের দমনের ক্ষেত্রে অপরিসীম কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাই তাকে উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়।