Facebook Pixel

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট আইন - কানুন না থাকায় সাম্রাজ্যে বহু গোলযোগ দেখা দেয়। এ যুগের শেষ দিকে শাসকগণ সুন্দরী দাসী ও রমনী নিয়ে এত ব্যস্ত থাকতেন যে তারা জুমুআর জামায়াতেও যোগদান করত না। এসব কারণ ছাড়াও আরো বিভিন্ন কারণে তরবারির জোরে প্রতিষ্ঠিত ‘ ক ' রাজবংশ ৯০ বছর পর আরেক নতুন তরবারির জোরেই তা বিধ্বস্ত হয়ে যায় । ক. কোন উমাইয়া খলিফার শাসনামলে টুরসের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ? খ. ইয়াজিদ কে ছিলেন ? সংক্ষেপে লেখো । গ. উদ্দীপকের ‘ ক ’ রাজবংশের পতন তোমার পঠিত কোন রাজবংশকে ইঙ্গিত করে ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. তোমার পঠিত উক্ত ‘ ক ' বংশের পতন কোন আন্দোলনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল ? উক্ত আন্দোলনের নিয়ামকগুলো আলোচনা করো ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. উমাইয়া খলিফা হিশামের শাসনামলে টুরস্ত্রে যুদ্ধ সংঘটিত হয় । খ. ইয়াজিদ উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা মুয়াবিয়ার পুত্র এবং কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের পৌত্র ছিলেন। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে মুয়াবিয়া ইন্তেকাল করলে ইয়াজিদ নিজেকে খলিফা হিসেবে ঘোষণা দেন। তিনি ৬৮০ থেকে ৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সিরিয়া ও ইরাক ইয়াজিদের আনুগত্য স্বীকার করে। ঐতিহাসিকদের মতে ; ইয়াজিদ ছিল পাপাসক্ত , অত্যাচারী , মদ্যপায়ী ও হৃদয়হীন। এই ইয়াজিদের সাথেই কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন ( রা ) এর ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। গ. উদ্দীপকের ' ক ' রাজবংশের পতন দামেস্কের উমাইয়া বংশের পতনের বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে। উমাইয়া যুগে গণতন্ত্রের পরিবর্তে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তরাধিকার নীতি ছিল না। খলিফারা যোগ্যতার ভিত্তি চিন্তা না করে নিজ নিজ পুত্রদের পরবর্তী খলিফা নিয়োগ করতেন। ফলে সাম্রাজ্যে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিত , যা এ বংশের পতনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া শাসকদের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড এ বংশের পতনকে ত্বরান্বিত করে। উদ্দীপকেও এ কারণসমূহের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে ' ক ' নামের একটি রাজবংশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে এ বংশের পতন ঘটে। একই ঘটনা দামেস্কের উমাইয়া বংশের পতনের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়। এ বংশেরও উত্তরাধিকার নির্বাচনের কোনো সুনির্দিষ্ট আইন - কানুন না থাকায় সাম্রাজ্যে বহু গোলযোগ দেখা দিয়েছিল । খলিফাগণ কখনো জ্যেষ্ঠ পুত্রকে , কখনো পর্যায়ক্রমে সকল পুত্রকে , আবার কখনো বা পিতৃব্যপুত্র ও ভ্রাতুষ্পুত্রকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করে রাজপরিবারের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের বীজ বপন করতেন। এই বংশের ১৪ জন খলিফার মধ্যে কেবল ৪ জন খলিফার পুত্রগণ তাদের উত্তরাধিকারী হতে পেরেছিলেন । উত্তরাধিকার মনোনয়নের এ অস্থিতিশীলতা উমাইয়া শাসনের পতনকে ত্বরান্বিত করে । সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ও সম্পদ বৃদ্ধির ফলে পরবর্তী দুর্বল খলিফারা অন্তঃপুরে নপুংশক নিয়োগ করেন এবং সুন্দরী দাসী ও রমণী নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। এসব অনাচার ও ব্যভিচারে শাসক পরিবারের রক্তে অবিমিশ্র ধারা ঢুকে পড়ে। এমনকি তৃতীয় ইয়াজিদ ও তার উত্তরাধিকারী দাসীপুত্র ছিল। তাছাড়া তারা জুমুআর নামাজ পড়ত না এবং রমজান মাসে রোজা রাখত না। এরূপ আচরণে মুসলমানগণ তাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে উমাইয়া বংশের পতন ঘটে। তাই বলা যায় , উদ্দীপকে বর্ণিত ' ক ' রাজবংশ ও উমাইয়া বংশের পতনের কারণ একইসূত্রে গাথা। ঘ. আব্বাসি আন্দোলনের মাধ্যমে উক্ত বংশের বা উমাইয়া বংশের পতন হয়। বিভিন্ন কারণে আব্বাসি আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল । ইমাম হাসানের প্রতি মুয়াবিয়ার বিশ্বাসঘাতকতা , কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা ইত্যাদি আলির সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করে। তাছাড়া আরব ও অনারব মুসলমানদের মধ্যে বৈষম্যমূলক নীতি , বিজিত জাতির সদস্যদের , বিশেষ করে পারসিকদের সরকারি চাকরির বড় বড় পদ ও সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে অপসারিত করা , হিমারীয় ও মুদারীয় দ্বন্দ্ব এবং সর্বোপরি উমাইয়া খলিফাদের রাষ্ট্রের প্রতি অবহেলা প্রভৃতি কারণে আব্বাসি আন্দোলন গড়ে ওঠে । আন্দোলনকারীরা মুহাম্মদ বিন আলির মাধ্যমে খিলাফতে হাশেমি বংশের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ' আব্বাসি মতবাদ ' নামে একটি মতবাদ প্রচার করতে থাকেন। এ মতবাদ অনুযায়ী খিলাফতের দায়িত্ব আলি বংশীয়দের হাতে প্রদান করা উচিত এবং হযরত আলির ঔরসজাত পুত্র আল হানিফার ওপর ইমামতির দায়িত্ব অর্পিত হওয়া উচিত। কারণ , ইমাম হুসাইনের নাবালক পুত্র জয়নুল আবেদিন ইমামতি করার অনুপযুক্ত। এরপর আব্বাসিরা সর্বদলীয় প্রচারণা শুরু করে কুরাইশদের হাশেমি গোত্রের পক্ষে খিলাফতের দাবি করতে থাকে। এরপর ইবনে আব্বাসের পুত্র আলির মৃত্যুর পর মুহাম্মদ বিন আলি নেতৃত্ব গ্রহণ করে আব্বাসিদের প্রচারণা এগিয়ে নিতে থাকেন এবং এ লক্ষ্যে তিনি হযরত ফাতেমার বংশধরদের নিজ দলে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু তার উদ্দেশ্য সফল হওয়ার আগেই তিনি ৭৪৪ খ্রিষ্টাব্দে মারা যান। মৃত্যুর আগে মুহাম্মদ বিন আলি ইব্রাহিম , আবুল আব্বাস এবং আবু জাফর নামে তিন পুত্রকে পর্যায়ক্রমে উত্তরাধিকারী করে যান। এ সময় আবু মুসলিম নামে একজন দাঈ ( প্রচারক ) খোরাসানে আব্বাসি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে ব্যাপক প্রচার চালান। আবু মুসলিম রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সেনাপতি কাহতাবার মাধ্যমে খোরাসান ও ফারগনা দখল করতে সক্ষম হন । ইতোমধ্যে ইব্রাহিম উমাইয়াবিরোধী কাজের জন্য বন্দি হন এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু আবু মুসলিম আন্দোলন চালিয়ে যান এবং সেনাপতি কাহতাবা ও খালিদ বিন বার্মাককে ইরাকে প্রেরণ করেন। এখানে তুমুল যুদ্ধের পর সেনাপতি কাহতাবা মৃত্যুবরণ করেন। কাহতাবার পুত্র হাসান বিন কাহতাবা ইরাকের শাসনকর্তাকে পরাজিত করে কুফা অধিকার করেন। এরপর আব্বাসি বাহিনী নিহাওয়ান্দ ও মেসোপটেমিয়া জয় করে ইব্রাহিমের মনোনয়ন অনুসারে ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে কুফার এক মসজিদে আবুল আব্বাসকে খলিফা বলে ঘোষণা করা হয়। আবুল আব্বাস ভ্রাতৃহত্যা এবং উমাইয়া নৃশংসতার প্রতিশোধ নেবেন বলে শপথ গ্রহণ করেন এবং ' আস - সাফফাহ ' ( রক্তপিপাসু ) উপাধি গ্রহণ করেন। এ সময়ই আবু মুসলিমের সেনাপতি আবু আয়ুন মারওয়ানের পুত্রকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। এরপর জাবের যুদ্ধের মাধ্যমে উমাইয়াদের চূড়ান্ত পরাজয় হয়। উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় , আব্বাসি আন্দোলনের মাধ্যমে উমাইয়া বংশের পতন হয় ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

‘ক’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট আইন-কানুন না থাকায় সাম্রাজ্যে বহু গোলযোগ দেখা দেয়। এ যুগের শেষ দিকে শাসকগণ সুন্দরী দাসী ও রমনী নিয়ে এত ব্যস্ত থাকতেন যে তারা জুমুআর জামায়াতেও যোগদান করত না। এসব কারণ ছাড়াও আরো বিভিন্ন কারণে তরবারির জোরে প্রতিষ্ঠিত ‘ক' রাজবংশ ৯০ বছর পর আরেক নতুন তরবারির জোরেই তা বিধ্বস্ত হয়ে যায় ।

ক.

কোন উমাইয়া খলিফার শাসনামলে টুরসের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ?

খ.

ইয়াজিদ কে ছিলেন ? সংক্ষেপে লেখো ।

গ.

উদ্দীপকের ‘ক’ রাজবংশের পতন তোমার পঠিত কোন রাজবংশকে ইঙ্গিত করে ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

তোমার পঠিত উক্ত ‘ক' বংশের পতন কোন আন্দোলনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল ? উক্ত আন্দোলনের নিয়ামকগুলো আলোচনা করো ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

আব্দুল মালিক প্রচলন করেন- i. দিনার নামের মুদ্রা ii. দিরহাম নামের মুদ্রা iii.. ফালুস নামের মুদ্রা নিচের কোনটি সঠিক?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।