Facebook Pixel

সোহানার স্বামী ছোট দুটি সন্তান রেখে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই পরিবারের সম্মতিতে সোহানার সাথে স্বামীর ছোট ভাই মতিনের বিবাহ হয়। ক. পরিবার কাকে বলে? খ. কাল্পনিক জ্ঞাতি বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে সোহানার সাথে মতিনের বিবাহ কোন ধরনের বিবাহকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে নির্দেশিত বিবাহ রীতির সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ বাংলাদেশ বিবাহ পরিবার ও জ্ঞাতি সম্পর্ক

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. পরিবার বলতে আমরা বুঝি এমন একটি সংগঠনকে যেখানে বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক যৌথভাবে বসবাস করে। খ. রক্ত বা বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ নয় এমন ব্যক্তিদের সাথে আমরা রক্ত বা বৈবাহিক সম্পর্কের জ্ঞাতিদের মতো আচরণ করি। এটিই কাল্পনিক জ্ঞাতি। অথবা এমন একটি বিশ্বাসে আত্মীয়তার বন্ধন, যেখানে কোনো গোত্র মনে করে তারা সবাই একই গোত্র থেকে এসেছে। যেমন- বয়স্ক ব্যক্তিকে কখনো বা আমরা কথা বলতে গিয়ে আলাপচারিতার চাচা, মামা, খালু, খালাম্মা বলে সম্বোধন করি। সমবয়সী হলে ভাই, আপা ইত্যাদি বলে সম্বোধন করি। এটাই কাল্পনিক জ্ঞাতি। গ. উদ্দীপকে সোহানার সাথে মতিনের বিবাহ ও লেভিরেট বিবাহকে নির্দেশ করে। মৃত স্বামীর যেকোনো ভাইয়ের সঙ্গে বিধবা মহিলার বিবাহের রীতিকে লেভিরেট বিবাহ বলে। এ রীতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী মৃত স্বামীর ভাইয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সাধারণত মৃত ভাইয়ের ছোট সন্তান থাকলে সন্তানদের লালনপালন এবং মৃত ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ির সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক যাতে বিচ্ছিন্ন না হয় সেজন্য মৃত স্বামীর বিবাহযোগ্য ছোট ভাই থাকলে তার সঙ্গে এ ধরনের বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, সোহানার স্বামী দুটি সন্তান রেখে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে দুই পরিবারের সম্মতিতে সোহানার সাথে মৃত স্বামীর ছোট ভাই মতিনের বিবাহ হয়। বিবাহের এ ধরনটি উপরে বর্ণিত লেভিরেট বিবাহের ধরনকে নির্দেশ করে। ঘ. উদ্দীপকে নির্দেশিত বিবাহ তথা লেভিরেট বিবাহ রীতির সামাজিক গুরুত্ব ব্যাপক। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'লেভিরেট' বিবাহ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত বিধবা মহলিাটির স্বামীর মৃত্যুর পর প্রাপ্য সম্পত্তির পরিমাণ বেশি হলে বা তার ছোট ছোট সন্তান থাকলে এ ধরনের বিবাহ সংঘটিত হয়। ফলে উক্ত সন্তানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। আবার, স্বামীর মৃত্যুর পর দুটি পরিবারের আত্মীয়তা যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য লেভিরেট বিবাহ আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে মৃত ব্যক্তি কোনো সন্তান রেখে গেলে, তার সুষ্ঠু লালন-পালন ও যত্নের বিষয় বিবেচনা করেই সাধারণত এ ধরনের বিবাহকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া কোনো মহিলার স্বামী মারা গেলে সে মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এক্ষেত্রে ভ্রাতৃবিধবা বিবাহের মাধ্যমে বিধবা মহিলার সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট, বিধবা নারী ও পিতৃহীন সন্তানদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিক থেকে 'লেভিরেট' বা 'ভ্রাতৃবিধবা' বিবাহের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সোহানার স্বামী ছোট দুটি সন্তান রেখে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই পরিবারের সম্মতিতে সোহানার সাথে স্বামীর ছোট ভাই মতিনের বিবাহ হয়।

ক.

পরিবার কাকে বলে?

খ.

কাল্পনিক জ্ঞাতি বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে সোহানার সাথে মতিনের বিবাহ কোন ধরনের বিবাহকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে নির্দেশিত বিবাহ রীতির সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।