Facebook Pixel

সুলতান সুলাইমান এর সিংহাসনারোহণ বিভিন্ন কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে। তাকে মহামতি সুলাইমানও বলা হয়। সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি প্রথমেই রাজ্য জয়ে মনোনিবেশ করেন। কতিপয় যোগ্য সেনাপতির সাহায্যের কারণেই তার পক্ষে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছিল। তাদের মধ্যে ইব্রাহিম পাশা ও খায়রুদ্দিন বারবারোসার নাম অগ্রগণ্য। তিনি এশিয়ার পারস্যসহ ইউরোপের হাঙ্গেরি, বেলগ্রেড, ভিয়েনা ও রোডস অধিকার করেন। এভাবে তিন মহাদেশব্যাপী তার সাম্রাজ্য বিস্তৃত করার পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। ক. উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন? খ. 'কুব্বাতুস সাখরা' কেন নির্মাণ করা হয়েছিল? গ. উদ্দীপকের সুলতান সোলায়মানের কর্মকাণ্ডের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ইব্রাহিম পাশা ও খায়রুদ্দিন বারবারোসার চেয়ে উমাইয়া সেনাপতিগণ অধিক কর্মতৎপর ছিলেন বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মুয়াবিয়া (রা.) বা প্রথম মুয়াবিয়া (আমির মুয়াবিয়া)। তিনি ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। খ. 'কুব্বাতুস সাখরা' হলো জেরুজালেমে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও পবিত্র ইসলামি স্থাপনা, যা উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক নির্মাণ করেন। এটি নির্মাণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন ও পবিত্র তীর্থস্থান তৈরি করা। তৎকালীন সময়ে মক্কা ও মদিনা খলিফাবিরোধী আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.)-এর দখলে থাকায় খলিফা আবদুল মালিক সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের মুসলমানদের হজ ও জিয়ারতের বিকল্প স্থান হিসেবে জেরুজালেমের পবিত্র পাথরের (যেখান থেকে মহানবি (সা.) মিরাজে গমন করেছিলেন) ওপর এই চমৎকার গম্বুজটি নির্মাণ করেছিলেন। গ. উদ্দীপকের সুলতান সুলাইমানের কর্মকাণ্ডের সাথে উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদ-এর সাম্রাজ্য সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট মিল রয়েছে। উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের শাসনামল ইসলামি সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের ইতিহাসে এক সুবর্ণ যুগ হিসেবে পরিচিত। সুলতান সুলাইমানের মতোই তিনিও সিংহাসনে আরোহণ করে রাজ্য জয়ে মনোনিবেশ করেন। তাঁর সময়েই মুসলিম সাম্রাজ্য এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা—এই তিন মহাদেশে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। উদ্দীপকে দেখা যায়, সুলতান সুলাইমান কতিপয় যোগ্য সেনাপতির সাহায্যে ইউরোপ ও এশিয়ায় বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদও ঠিক একই কাজ করেছিলেন। তাঁর সুযোগ্য সেনাপতিদের মধ্যে মুসা বিন নুসায়ের, তারিক বিন জিয়াদ, কুতাইবা বিন মুসলিম এবং মুহাম্মদ বিন কাসিমের নাম অগ্রগণ্য। এসব সেনাপতিদের বীরত্বেই আল-ওয়ালিদের আমলে স্পেনের আন্দালুসিয়া, মধ্য এশিয়ার ট্রান্সঅক্সিয়ানা এবং ভারতের সিন্ধু ও মুলতান বিজিত হয়। তাই বলা যায়, সাম্রাজ্য বিস্তার এবং যোগ্য সেনাপতিদের পৃষ্ঠপোষকতার দিক থেকে উভয়ের কর্মকাণ্ড অভিন্ন। ঘ. "উদ্দীপকে বর্ণিত ইব্রাহিম পাশা ও খায়রুদ্দিন বারবারোসার চেয়ে উমাইয়া সেনাপতিগণ অধিক কর্মতৎপর ছিলেন"—উক্তিটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যথার্থ। উদ্দীপকে সুলতান সুলাইমানের সেনাপতি ইব্রাহিম পাশা এবং নৌ-সেনাপতি খায়রুদ্দিন বারবারোসার ইউরোপের বেলগ্রেড, হাঙ্গেরি, রোডস দ্বীপ অধিকার এবং ভূমধ্যসাগরে আধিপত্য বিস্তারের কথা বলা হয়েছে। নিঃসন্দেহে তারা ছিলেন সুদক্ষ ও পরাক্রমশালী। কিন্তু উমাইয়া খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের সেনাপতিদের সমসাময়িক ও বহুমুখী সামরিক সাফল্যের সাথে তুলনা করলে উমাইয়া সেনাপতিদের অর্জন অনেক বেশি বিস্ময়কর ও বিস্তৃত। খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের সেনাপতিরা একই সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিলেন। সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ ও মুসা বিন নুসায়ের ৭১১ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপের স্পেনে প্রবেশ করে রডারিককে পরাজিত করেন এবং সেখানে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন। একই সময়ে, পূর্ব রণাঙ্গনে কুতাইবা বিন মুসলিম মধ্য এশিয়ার বোখারা, সমরকন্দ, খাওয়ারিজমসহ বিশাল ট্রান্সঅক্সিয়ানা জয় করেন। অন্যদিকে, মাত্র ১৭ বছর বয়সী তরুণ সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষের সিন্ধু ও মুলতান বিজয় করে দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামের ঝান্ডা উড্ডীন করেন। সুতরাং, অটোমান বা উসমানীয় সেনাপতিরা মূলত ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগর কেন্দ্রিক সাফল্য পেলেও, উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের সেনাপতিরা একই সাথে পূর্ব ও পশ্চিমে, এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত একযোগে যে ক্ষিপ্রতায় বিশাল সাম্রাজ্য জয় করেছিলেন, তা ইতিহাসে বিরল। তাই সামগ্রিক মূল্যায়নে উমাইয়া সেনাপতিদের কর্মতৎপরতা ও ব্যাপ্তি অনেক বেশি ছিল—এই বিশ্লেষণটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

সুলতান সুলাইমান এর সিংহাসনারোহণ বিভিন্ন কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে। তাকে মহামতি সুলাইমানও বলা হয়। সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি প্রথমেই রাজ্য জয়ে মনোনিবেশ করেন। কতিপয় যোগ্য সেনাপতির সাহায্যের কারণেই তার পক্ষে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছিল। তাদের মধ্যে ইব্রাহিম পাশা ও খায়রুদ্দিন বারবারোসার নাম অগ্রগণ্য। তিনি এশিয়ার পারস্যসহ ইউরোপের হাঙ্গেরি, বেলগ্রেড, ভিয়েনা ও রোডস অধিকার করেন। এভাবে তিন মহাদেশব্যাপী তার সাম্রাজ্য বিস্তৃত করার পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

ক.

উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

খ.

'কুব্বাতুস সাখরা' কেন নির্মাণ করা হয়েছিল?

গ.

উদ্দীপকের সুলতান সোলায়মানের কর্মকাণ্ডের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ইব্রাহিম পাশা ও খায়রুদ্দিন বারবারোসার চেয়ে উমাইয়া সেনাপতিগণ অধিক কর্মতৎপর ছিলেন বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।