Facebook Pixel

সুলতান ইলতুৎমিশ ছিলেন ভারতবর্ষে তুর্কী সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা । বিদ্রোহ দমন , রাজ্য বিস্তার নীতি অবলম্বন , বৈদেশিক আক্রমণ থেকে স্বীয় সাম্রাজ্য সুরক্ষা প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি দিল্লির দাস বংশকে সুসংহত করেন। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। তিনি মুদ্রা ব্যবস্থা , রাজস্ব ব্যবস্থা ও হিসাব পত্র বিভাগ ঢেলে সাজান। স্থাপত্য শিল্পের বিকাশেও তিনি বিশেষ অবদান রাখেন । ক. উমাইয়া খিলাফতের রাজধানী কোথায় ছিল ? খ. ‘ ডোম অব দ্যা রক ' নির্মাণের কারণ ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার শাসন ব্যবস্থার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয় ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. যুগোপযোগী শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করাই উক্ত খলিফার শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম কারণ — উক্তিটি বিশ্লেষণ করো ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. উমাইয়া খিলাফতের রাজধানী ছিল দামেস্ক । খ. হজ যাত্রীদের মক্কায় গমন থেকে বিরত রাখা এবং জেরুজালেমের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যই ডোম অব দ্যা রক (Dome of the Rock) নির্মাণ করা হয় । আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের মক্কা ও মদিনায় আধিপত্য বিস্তার করে নিজেকে খলিফা হিসেবে ঘোষণা করে। তার বিদ্রোহ দমন , জেরুজালেমের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা এবং মক্কা - মদিনার জনগণকে হতাশ করার জন্য উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ৬৯১ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেমে ‘Dome of the Rock' নির্মাণ করেন। মহানবি ( স ) যে পাথরের ওপর পদচিহ্ন রেখে মিরাজ গমন করেন সে পাথরকে কেন্দ্র করে 'Dome of the Rock' নির্মাণ করা হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের সাথে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের শাসনব্যবস্থার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয় । আবদুল মালিক ছিলেন প্রথম মারওয়ানের পুত্র। মুয়াবিয়া ও মারওয়ানের সংক্ষিপ্ত শাসনকালের পর ৬৮৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি ছিলেন উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তার সিংহাসনে আরোহণের পর উমাইয়া বংশের শাসন সুদৃঢ় হয়। তিনি তার সামরিক দক্ষতাবলে রাজ্যে সংঘটিত বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন করেন এবং রাজ্যের অনেক বিস্তার ঘটান। তাছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার সাধন করেন । তার এ বিষয়গুলোই উদ্দীপকে চিত্রিত হয়েছে । উদ্দীপকের সুলতান ইলতুৎমিশের মতো আবদুল মালিক একজন দক্ষ শাসনকর্তা ছিলেন। ইলতুৎমিশ যেমন ভারতবর্ষে তুর্কি সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা তেমনি আবদুল মালিক ছিলেন উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা । দিল্লি সিংহাসনে আরোহণ করে তিনি অনেক বিরোধী শক্তিকে দমন করেন । এছাড়া আবদুল মালিকের মতো দক্ষ সামরিক শক্তিবলে তিনি রাজ্যের অনেক বিস্তার ঘটান। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার সাধন করেন। খলিফা আবদুল মালিকও নিজ যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে প্রশাসনের সকল ক্ষেত্রে সংস্কার সাধন করে উমাইয়া খিলাফতের প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেন। তিনি আরবিকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দান করেন এবং আরবি বর্ণমালা লিখন , পঠন ও উচ্চারণ পদ্ধতির অনেক সংস্কার সাধন করেন। তিনি প্রশাসনের সকল কাজে আরবি ভাষা ব্যবহার করেন। এতে আরবে আরবীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় এবং ইসলামি সাম্রাজ্যের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়। সুতরাং বলা যায় , সুলতান ইলতুৎমিশের সংস্কারসমূহ উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের সংস্কারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ । ঘ. যুগোপযোগী শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করাই উক্ত খলিফা অর্থাৎ খলিফা আবদুল মালিকের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম কারণ — উক্তিটি যথার্থ । আবদুল মালিকের শাসন সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল রাষ্ট্রকে আরবীয়করণ। বিজাতীয় প্রভাব থেকে সাম্রাজ্যকে মুক্ত করা এবং সাম্রাজ্যে - একই ধরনের শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করার জন্য তিনি আরবিকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রদান করেন। তৎকালীন প্রচলিত মুদ্রার পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে আদ - দিনার , আন - নিসফু , আস - সুলস , দিরহাম এবং ফালুস বা তাম্রমুদ্রার প্রবর্তন করেন। এসব মুদ্রায় কালিমা , তাসমিয়া , কুরআনের আয়াত ও মুদ্রাঙ্কনের তারিখ উৎকীর্ণ করার নির্দেশ দেন। এছাড়া জাতীয় টাকশালে বিশেষ পদ্ধতিসহ ত্রুটিমুক্ত মুদ্রাঙ্কন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় মুদ্ৰা জাল করার প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পায়। উদ্দীপকের সুলতান ইলতুৎমিশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শাসন সংস্কারের দৃষ্টান্ত লক্ষণীয়। একইভাবে খলিফা আবদুল মালিকও তার শাসনামলে বহু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সাধন করেন। তার মুদ্রা সংস্কারের ফলে ইসলামি সাম্রাজ্যে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়। এছাড়া তিনি আরবি বর্ণমালার লিখন , পঠন ও উচ্চারণ পদ্ধতির উন্নতি বিধান করেন । ফলে শতাব্দীকাল পর হলেও আরবি ভাষা আন্তর্জাতিক ভাষার মর্যাদা লাভ করে। ডাক ও গোয়েন্দা বিভাগের উন্নতিকল্পে তিনি যোগাযোগকারী সড়কের স্থানে স্থানে বদলি ঘোড়ার ব্যবস্থা করেন। কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য তিনি ধর্মান্তরিত মুসলিমদের শহর থেকে গ্রামে ফিরতে বাধ্য করেন এবং রাজ্যের আয় বাড়াতে তাদের ওপর খাজনা ও জিজিয়া কর পুনঃপ্রবর্তন করেন। এভাবে আবদুল মালিক তার শাসন ব্যবস্থায় সংস্কার সাধন করেন। উপরের আলোচনা শেষে বলা যায় , আবদুল মালিক ও সুলতান ইলতুৎমিশ নিজ নিজ সাম্রাজ্যে প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের উন্নয়ন বিধান করে যথেষ্ট ' মৌলিক প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। আর এটিই আবদুল মালিকের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম কারণ ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সুলতান ইলতুৎমিশ ছিলেন ভারতবর্ষে তুর্কী সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা । বিদ্রোহ দমন, রাজ্য বিস্তার নীতি অবলম্বন, বৈদেশিক আক্রমণ থেকে স্বীয় সাম্রাজ্য সুরক্ষা প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি দিল্লির দাস বংশকে সুসংহত করেন। কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। তিনি মুদ্রা ব্যবস্থা, রাজস্ব ব্যবস্থা ও হিসাব পত্র বিভাগ ঢেলে সাজান। স্থাপত্য শিল্পের বিকাশেও তিনি বিশেষ অবদান রাখেন ।

ক.

উমাইয়া খিলাফতের রাজধানী কোথায় ছিল ?

খ.

‘ডোম অব দ্যা রক' নির্মাণের কারণ ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকে উল্লেখিত শাসকের সাথে কোন উমাইয়া খলিফার শাসন ব্যবস্থার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয় ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

যুগোপযোগী শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করাই উক্ত খলিফার শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম কারণ— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।