ক.
মানবসভ্যতার ধারক ও বাহক হলো বস্ত্র।
মৌলিক
খ.
মৌলিক মানবিক চাহিদার মধ্যে প্রথম এবং সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য। যে জৈব উপাদান গ্রহণের মাধ্যমে জীবদেহের গঠন, ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি সাধন, অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন, পেশি পরিচালনা এবং রোগ প্রতিরোধ করে দেহকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে তাকে খাদ্য বলে। বেঁচে থাকা, বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য খাদ্য অপরিহার্য। দেহকে যন্ত্রের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। যন্ত্রে 'যেমন তেল, মরিল না দিলে তার ইঞ্জিন চলে না, তেমনি মানুষের দেহের জন্য প্রয়োজন খাদ্যের। খাদ্য ব্যতীত মানুষ বাঁচতে পারে না।
গ.
উদ্দীপকে জসিমের পরিবার প্রধানত খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষা এ তিনটি মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌল মানবিক চাহিদা হলো খাদ্য, বাসস্থান এবং শিক্ষা। খাদ্য শরীরকে শক্তি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সুস্থ জীবনধারণের সুযোগ করে দেয়। বাসস্থান মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে এবং একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরি করে। আর শিক্ষা মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়িয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নের পথ খুলে দেয়। যখন এ তিনটি মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়, তখন মানুষ 'একটি সম্মানজনক এবং উন্নত জীবন ধারণ করতে পারে।
উদ্দীপকে নদীভাঙনে জসিমের পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা গৃহহীন হয়ে পড়ে। ফলে তারা ফুটপাতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, যা তাদের বাসস্থানের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতাকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে, দারিদ্র্যের কারণে জসিম কখনো বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি, ফলে শিক্ষালাভের মৌলিক সুযোগ থেকেও সে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত আয় না থাকায় পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবারও পায় না, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কষ্টকর করে তোলে। অতএব বলা যায় যে, জসিমের পরিবারের মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষা- সবগুলোই পূরণ হয়নি।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মৌলিক মানবিক চাহিদা অপূরণজনিত কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো বেশ গুরুতর।
মানুষের জীবনের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ হওয়া এতই আবশ্যক যে, যেমন করে হোক তা পূরণ করতেই হয়। স্বাভাবিক বা বৈধ পথে না হলে প্রয়োজনে অবৈধ উপায়েও চাহিদাগুলো পূরণ করতে মানুষ বাধ্য হয়। ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে মানুষ খুন পর্যন্ত করে। আবার ঘর না পেলে মানুষ রাস্তাতেই ঘুমায়। সেজন্য রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা। কেননা, এই চাহিদা পূরণে ব্যর্থতার ফলে সমাজে দেখা দেয় নানা ধরনের সমস্যা।
মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতার ফলস্বরূপ জসিমের পরিবারকে শারীরিক ও মানসিক দুর্দশার শিকার হতে হয়। অপর্যাপ্ত খাদ্যের কারণে তারা অপুষ্টিতে ভুগতে পারে, যা তাদের শরীরকে দুর্বল করে দেয় এবং নানা ধরনের রোগের কারণ হয়। এ স্বাস্থ্যহীনতা তাদের কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করে, ফলে তারা আয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আটকে পড়ে। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর কারণে গৃহহীনতা তাদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশার জন্ম দেয়। ফুটপাতে বা বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া তাদের জীবনযাত্রার মানকে আরও নিম্নমুখী করে তোলে এবং সম্মান ও মর্যাদাহানির কারণ হয়। দারিদ্র্যের কারণে জসিমের লেখাপড়া করতে না পারা তাকে নিরক্ষর ও অজ্ঞ করে তুলেছে। শিক্ষার অভাবে সে কোনো ভালো কাজ পায় না, যা তাকে বেকারত্বের বোঝায় ফেলে দেয়। এ বেকারত্ব পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যখন মানুষের জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হয় না, তখন হতাশা থেকে অপরাধের জন্ম নেয়। জসিমের মতো কিশোররা যখন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে ভোগে, তখন তারা জীবনধারণের জন্য চুরি, ছিনতাই বা অন্যান্য অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতে পারে। এটি সমাজে কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি করে এবং সামগ্রিকভাবে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে।
সুতরাং বলা যায়, একটি পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে তা কেবল সেই পরিবারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং পুরো সমাজের শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।