ক.
'Common Human Needs' গ্রন্থের লেখক Charlotte Towle.
খ.
মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা হলো বস্ত্র। এ চাহিদা পূরণ ছাড়া কোনো মানুষ সমাজে বসবাস করতে পারে না। বস্ত্র ছাড়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বস্ত্র একদিকে যেমন লজ্জা নিবারণ করে, অন্যদিকে শীত, তাপ ও রোগ থেকেও রক্ষা করে। তাছাড়া মানবসভ্যতার ধারক ও বাহক হিসেবে বস্ত্রের প্রয়োগ শুধু অপরিহার্য নয়, বরং মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্র বিকাশেও বস্ত্রের গুরুত্ব সমধিক। দৈহিক, সামাজিক, ধর্মীয় প্রভৃতি সকল দিক থেকেই বস্ত্রের আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। যে কারণে বস্ত্রকে মানবিক চাহিদা বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে জৈবিক বা মৌলিক চাহিদাকে বোঝানো হয়েছে।
মৌলিক চাহিদা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্কিত। এগুলোকে অনেক সময় জৈবিক বা মৌলিক চাহিদাও বলা হয়। মানুষসহ জীবন্ত প্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষা, দৈহিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য যেসব চাহিদা পূরণ করা অপরিহার্য তাকে মৌলিক চাহিদা বলে। এ চাহিদাগুলো পূরণে ব্যর্থ হলে মানবদেহের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। মৌলক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলো খাদ্য, ঘুম, যৌন প্রবৃত্তি ইত্যাদি। এ অপরিহার্য চাহিদাগুলো সব সমাজে একই রকম।
উদ্দীপকে পাঁচ স্তরের যে ছকটি তুলে ধরা হয়েছে তা মূলত আব্রাহাম মাসলোর (Abraham Maslow) চাহিদা তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আব্রাহাম মাসলোর চাহিদা তত্ত্ব অনুযায়ী মানুষের চাহিদার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা হলো জৈবিক বা মৌলিক চাহিদা, যা ডায়াগ্রামের ১নং এ রাখা হয়েছে। আবার সকল চাহিদার ভিত্তি হিসেবে দৈহিক চাহিদাকে রাখা হয়েছে। যেহেতু আব্রাহাম মাসলোর চাহিদা ডায়াগ্রাম অনুসারে ছকটি সাজানো হয়েছে এবং ভিত্তির চাহিদাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই সেটি মৌলিক চাহিদা হবে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রে মৌল মানবিক চাহিদাগুলোকে প্রয়োজনীয়তার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য যে চাহিদাগুলো পূরণ করতে হয় তাকে মৌলিক মানবিক চাহিদা বলে। এ চাহিদা পূরণ না করলে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও চিত্তবিনোদন। প্রত্যেক মানুষের জন্য এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। তবে মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলোর মধ্যে গুরুত্ব বিচারে ধারাবাহিকতা রয়েছে। যেমনটি উদ্দীপকের ছকে দেখানো হয়েছে। মানুষের জীবনে সব থেকে বেশি জরুরি যে চাহিদা রয়েছে তা হলো জৈবিক বা মৌলিক চাহিদা। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য বা অন্ন এবং বস্ত্র। জৈবিক চাহিদার প্রয়োজনগুলো অপূরিত থাকলে অন্য চাহিদাগুলো মূল্যহীন হয়ে পড়ে। জৈবিক চাহিদা হলো সর্বনিম্নস্তরের চাহিদা। এর পরে রয়েছে নিরাপত্তামূলক চাহিদাগুলো। যদিও এগুলো জৈবিক চাহিদার সাথে সম্পর্কিত, তবুও এগুলো একটু উঁচু স্তরের। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা, বাসস্থান প্রভৃতি। গুরুত্ব বিচারে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামাজিক চাহিদা বা মানবিক চাহিদা। নিম্নের দুই স্তরের চাহিদাগুলো যাদের পূরণ হবে, তারাই এই স্তরের চাহিদাগুলো পূরণে সচেষ্ট হয়। যেমন ভালোবাসা ও বন্ধুবান্ধব। বিনোদনের চাহিদাকে এ স্তরে যুক্ত করা যায়। চতুর্থ স্তরে রয়েছে আত্মতৃপ্তির চাহিদা তথা আত্মমর্যাদা, স্বীকৃতি প্রভৃতি। পূর্ববর্তী তিন স্তরের চাহিদা পূরণ হলে মানুষ চতুর্থ স্তরের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট হয়। সর্বশেষ যে আত্ম প্রতিষ্ঠার চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো আত্মোপলব্ধির চাহিদা। সকলের পক্ষে এ চাহিদা পর্যন্ত পৌঁছা সম্ভব হয় না।