ক.
মানবসভ্যতার ধারক ও বাহক হলো বস্ত্র।
খ.
জীবন চলার পথে মানুষ বিভিন্ন কারণে অসুস্থ, রোগগ্রস্ত ও আহত হয়ে থাকে। এ অবস্থায় প্রয়োজন দেখা দেয় চিকিৎসা, খাদ্য ও পরিচর্যার। সুস্থ জীবনযাপনের প্রথমেই দরকার শারীরিক সুস্থতা। কেননা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে না পারলে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব হয় না। ফলে আমাদের স্বাভাবিক সামাজিক জীবন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন শারীরিক সুস্থতা। আর শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত চিকিৎসা, খাদ্য ও পরিচর্যার।
গ.
উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদার অন্যতম খাদ্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মৌলিক মানবিক চাহিদার প্রথম এবং সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য। সব জীবন্ত প্রাণীর জন্যই এটি আবশ্যক। যে জৈব উপাদান গ্রহণের মাধ্যমে জীবদেহের গঠন, ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি সাধন, অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন, পেশি পরিচালনা, রোগ প্রতিরোধ করে দেহকে সুস্থ ও সবল রাখে তাকে খাদ্য বলে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেলে মেশিন যেমন সচল থাকে না, তেমনি খাদ্য না পেলে মানুষও নিস্তেজ হতে হতে একুসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। খাদ্যের উপাদান ছয়টি। যথা- আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন, লবণ ও পানি। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানিগণ খাদ্য বলতে ছয়টি উপাদানের প্রয়োজনীয় উপাদান সমন্বিত সুষম খাদ্যকে বোঝায়।
উদ্দীপকে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। যথা- বেঁচে থাকা, বেড়ে ওঠা এবং সুস্থ সবল দেহ। এই তিনটি বিষয় খাদ্য চাহিদার সাথেই জড়িত। কেননা বেঁচে থাকাসহ দেহের গঠন, বৃদ্ধি, বিকাশ, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি এবং দেহ সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য খাদ্য গ্রহণ করা আবশ্যক। খাদ্যের উপাদান দ্বারা তিনটি বিষয়ই নিয়ন্ত্রিত হয়।
তাই বলতে হয়, উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদা বলতে খাদ্যকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খাদ্য চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা খুব বেশি আশাব্যঞ্জক নয়।
বাংলাদেশ দারিদ্র্যপীড়িত একটি দেশ। এদেশে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দরিদ্র। দরিদ্র মানুষের পক্ষে উচ্চমূল্যের খাদ্য গ্রহণ করা কঠিন হয়ে আসছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.৭১ শতাংশ। ফলে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়ছে এবং ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। গবেষণায় এসেছে, পরিবারগুলোর তাদের মাসিক আয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ খাদ্যের পিছনে ব্যয় করতে হয়। খাদ্য সংকট সম্পর্কিত বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী, তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আবার বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ২০২৫ এ ১২৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৫তম, যেখানে দেশের মোট জনসংখ্যার ১০.৪ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। জাতীয় পর্যায়ের বিশ্লেষণে বলছে, দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং এর মধ্যে ১৬ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার। আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক চাপ ও মানবিক সহায়তার ঘাটতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বাংলাদেশে অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য অপুষ্টি একটি গুরুতর সমস্যা। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ নারী অপুষ্টিতে ভুগছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩০.৭শতাংশ খর্বাকৃতি এবং ২১.৮ শতাংশ কম ওজনের। তবে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন আগের থেকে বেড়েছে। দেশের গুদামগুলোতে রেকর্ড ২.২১ মিলিয়ন মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে।
তাই খাদ্য চাহিদার বর্তমান অবস্থা বলতে গেলে বলতে হয়, আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।