Facebook Pixel

সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয় এবং জ্বালানি তেলসহ অধিকাংশ খাদ্য পণ্যের যোগান ঘাটতি দেখা দেয়। এর প্রভাবে 'D' দেশের খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে 'D' দেশের সরকার তার সকল ধরনের ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। ক. মুদ্রাস্ফীতি কী? খ. মুদ্রাস্ফীতির ফলে কৃষকের উৎপাদনের ওপর কেমন প্রভাব পড়বে? গ. উদ্দীপকে 'D' দেশের যে ধরনের মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপক অনুযায়ী 'D' দেশের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কীভাবে ভূমিকা পালন করবে? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ মুদ্রাস্ফীতি

উৎস: Board Exam Question SB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) সাধারণত উৎপাদন স্থির থেকে দ্রব্যের দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধির প্রবণতাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে। (খ) মুদ্রাস্ফীতির ফলে কৃষকের উৎপাদনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। মুদ্রাস্ফীতির সময় দামস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু উৎপাদন ব্যয় সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায় না। ফলে কৃষিজীবী সম্প্রদায়, বিশেষ করে বড় কৃষক বা ধনী কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বেশি দামে বিক্রি করে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারে। এছাড়া, মুদ্রাস্ফীতির ফলে কৃষকের ঋণের প্রকৃত বোঝা হ্রাস পায়, যা তাদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করে। (গ) উদ্দীপকে 'D' দেশে যে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে তা হলো ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Cost-Push Inflation)। সাধারণত উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে যখন দ্রব্যের দামস্তর বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। উদ্দীপকে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং খাদ্য পণ্যের যোগান ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেল উৎপাদনের একটি অপরিহার্য উপকরণ। এর দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়লে উৎপাদকরা তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে সামগ্রিক দামস্তর বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকের এই পরিস্থিতি ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতিরই একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। (ঘ) উদ্দীপকে 'D' দেশের সরকার ব্যয় কমানোর যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর রাজস্ব নীতি। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সাধারণত সরকারি ব্যয় হ্রাস, কর বৃদ্ধি এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১. সরকারি ব্যয় হ্রাস: সরকার যখন তার উন্নয়নমূলক বা অনুন্নয়নমূলক ব্যয় কমিয়ে দেয়, তখন বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে যায়। ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং সামগ্রিক চাহিদা কমে গিয়ে দামস্তর নিয়ন্ত্রণে আসে। ২. কর বৃদ্ধি: সরকার যদি করের হার বাড়িয়ে দেয়, তবে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় কমে যায়। এতে ভোগ ও বিনিয়োগ হ্রাস পায়, যা মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে সাহায্য করে। ৩. ভর্তুকি প্রত্যাহার ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ: সরকার ভর্তুকি কমিয়ে বা ঋণ গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে বাজারে অর্থের জোগান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যয় সংকোচনের নীতিটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। সরকার যখন ব্যয় হ্রাস করে, তখন বাজারে অর্থের সরবরাহ কমে যায়, যা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সরাসরি ভূমিকা রাখে। সুতরাং, সরকারের এই পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2023)

সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয় এবং জ্বালানি তেলসহ অধিকাংশ খাদ্য পণ্যের যোগান ঘাটতি দেখা দেয়। এর প্রভাবে 'D' দেশের খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে 'D' দেশের সরকার তার সকল ধরনের ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

ক. মুদ্রাস্ফীতি কী?

খ. মুদ্রাস্ফীতির ফলে কৃষকের উৎপাদনের ওপর কেমন প্রভাব পড়বে?

গ. উদ্দীপকে 'D' দেশের যে ধরনের মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপক অনুযায়ী 'D' দেশের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কীভাবে ভূমিকা পালন করবে? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।