Facebook Pixel

সমাজকে সামগ্রিক এবং ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করে বলে সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয় । সমাজবিজ্ঞান সমাজের গঠন-প্রকৃতি ও সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা করে। কী নিয়ে সমাজ এবং কীভাবেই বা সমাজ একটা কাঠামোগত রূপ নেয় বা গড়ে ওঠে সমাজবিজ্ঞান সেটির প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখে। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, সমাজ কাঠামোর ভিত্তি হলো মানব সম্পর্ক। এভাবে সমাজবিজ্ঞান ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক, ব্যক্তির সাথে গোষ্ঠী, সমাজ বা অন্যকোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক গোষ্ঠী ও সমাজ বা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সর্বোপরি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, পেশাদার গোষ্ঠী, মর্যাদা গোষ্ঠী, ধর্ম, ও জাতিবর্ণভিত্তিক সম্প্রদায় ইত্যাদির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। সমাজবিজ্ঞান সমাজ বিশ্লেষণে সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করে এবং পরিবর্তনশীল সমাজের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান সমাজকে সামগ্রিকভাবে ও ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করে । আর সমাজবিজ্ঞান গোটা সমাজের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণের নিশ্চয়তা দেয়। মূলত সমাজের অখণ্ড আলোচনাই সমাজবিজ্ঞানের লক্ষ্য। তাই বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ । রনি তার জন্মদিনে একটি বই উপহার পায়। বইটি পড়ে সে সমাজের একটি ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন এবং তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারে। ক. “সমাজবিজ্ঞানই একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে”- উক্তিটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর? খ. শিক্ষার সমাজবিজ্ঞান বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর । গ. উদ্দীপকে রনি বই পড়ে যে ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন সম্পর্কে জানতে পারে তা সমাজবিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি মানবসমাজের সামগ্রিক পাঠ। বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

উৎস: Board Exam Question BB 2017, Board Exam Question RB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) “সমাজবিজ্ঞানই একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে” উক্তিটি রবার্ট এম ম্যাকাইভার ও চার্লস এইচ পেজ-এর। (খ) শিক্ষার সমাজবিজ্ঞান বলতে সমাজবিজ্ঞানের সেই বিশেষ শাখাকে বোঝায়, যা শিক্ষা এবং সমাজের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে। শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠদান নয়, বরং এটি একটি সামাজিক প্রক্রিয়া। শিক্ষার সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে যে, কীভাবে সামাজিক পরিবেশ, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং সামাজিক শ্রেণি একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষালাভের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। আবার, শিক্ষা কীভাবে সমাজের পরিবর্তন, আধুনিকায়ন এবং সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে, তাও এই শাখার আলোচ্য বিষয়। সহজ কথায়, শিক্ষা ব্যবস্থার সামাজিক ভিত্তি এবং শিক্ষার সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করাই হলো শিক্ষার সমাজবিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য। (গ) উদ্দীপকে রনি বই পড়ে যে ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন সম্পর্কে জানতে পারে, তা হলো পরিবার। এই পরিবার এবং পরিবার সম্পর্কিত বিষয়গুলো সমাজবিজ্ঞানের 'বিবাহ ও পরিবার' নামক শাখায় আলোচনা করা হয়। 'বিবাহ ও পরিবার' সমাজবিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যা পরিবারের গঠন, প্রকৃতি এবং এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে। সমাজবিজ্ঞানের এই শাখাটি পরিবারের উৎপত্তি, প্রকারভেদ, কার্যাবলি, বিকাশ এবং সময়ের সাথে সাথে পরিবারের কাঠামোর পরিবর্তনশীলতা অধ্যয়ন করে। এছাড়া সমাজজীবনে পরিবারের প্রয়োজনীয়তা, পরিবারের ভেতরে সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় পরিবারের ভূমিকা এই শাখার অন্যতম আলোচ্য বিষয়। পাশাপাশি পরিবার গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবাহ, বিবাহের ধরন, রীতিনীতি এবং আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কেও এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, রনি তার জন্মদিনে একটি বই উপহার পায় এবং সেটি পড়ে সে সমাজের একটি ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারে। যেহেতু পরিবার হলো সমাজের ক্ষুদ্রতম এবং মৌলিক সামাজিক সংগঠন, তাই রনির অর্জিত জ্ঞানটি সমাজবিজ্ঞানের 'বিবাহ ও পরিবার' শাখার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বলা যায়, রনি যে ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন সম্পর্কে জানতে পারে, তা সমাজবিজ্ঞানের 'বিবাহ ও পরিবার' নামক শাখায় আলোচনা করা হয়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতিকে নির্দেশ করে এবং এটি প্রতীয়মান হয় যে, সমাজবিজ্ঞান হলো মানবসমাজের সামগ্রিক পাঠ। সমাজবিজ্ঞান হলো মানবসমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক সম্পর্কিত বিজ্ঞান। মানবসমাজের সামগ্রিক পাঠ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: প্রথমত, সমাজবিজ্ঞান সমাজের কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে আলোচনা না করে বরং গোটা সমাজকে সামগ্রিকভাবে অধ্যয়ন করে। এটি সমাজের গঠন-প্রকৃতি, সামাজিক কাঠামো এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের জটিল জাল বিশ্লেষণ করে। দ্বিতীয়ত, সমাজবিজ্ঞানের আওতায় সমাজের বিভিন্ন স্তর যেমন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক সমাজকাঠামোর পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচিত হয়। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি, পেশাজীবী গোষ্ঠী, ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের মধ্যকার সম্পর্ক সমাজবিজ্ঞানের মূল আলোচ্য বিষয়। তৃতীয়ত, সমাজবিজ্ঞান সমাজের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিটি উপাদানের সমন্বিত রূপ বিশ্লেষণ করে। সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল সমাজের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা এই বিজ্ঞানের লক্ষ্য। চতুর্থত, সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখা (যেমন: অপরাধ বিজ্ঞান, নগর সমাজবিজ্ঞান, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান, শিক্ষার সমাজবিজ্ঞান ইত্যাদি) মানবসমাজের প্রতিটি ক্ষুদ্র ও বৃহৎ দিককে স্পর্শ করে, যা প্রমাণ করে যে এটি সমাজের একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ প্রদান করে। পরিশেষে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা আলোচনা করে না, বরং সমাজের অখণ্ড রূপ এবং সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে। তাই উদ্দীপকের আলোকে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, সমাজবিজ্ঞান হলো মানবসমাজের সামগ্রিক পাঠ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2017)Rajshahi Board (2017)
সমাজকে সামগ্রিক এবং ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করে বলে সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয় । সমাজবিজ্ঞান সমাজের গঠন-প্রকৃতি ও সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা করে। কী নিয়ে সমাজ এবং কীভাবেই বা সমাজ একটা কাঠামোগত রূপ নেয় বা গড়ে ওঠে সমাজবিজ্ঞান সেটির প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখে। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, সমাজ কাঠামোর ভিত্তি হলো মানব সম্পর্ক। এভাবে সমাজবিজ্ঞান ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক, ব্যক্তির সাথে গোষ্ঠী, সমাজ বা অন্যকোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক গোষ্ঠী ও সমাজ বা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সর্বোপরি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, পেশাদার গোষ্ঠী, মর্যাদা গোষ্ঠী, ধর্ম, ও জাতিবর্ণভিত্তিক সম্প্রদায় ইত্যাদির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। সমাজবিজ্ঞান সমাজ বিশ্লেষণে সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করে এবং পরিবর্তনশীল সমাজের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান সমাজকে সামগ্রিকভাবে ও ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করে । আর সমাজবিজ্ঞান গোটা সমাজের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণের নিশ্চয়তা দেয়। মূলত সমাজের অখণ্ড আলোচনাই সমাজবিজ্ঞানের লক্ষ্য। তাই বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ । রনি তার জন্মদিনে একটি বই উপহার পায়। বইটি পড়ে সে সমাজের একটি ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন এবং তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারে। ক. “সমাজবিজ্ঞানই একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে”- উক্তিটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর? খ. শিক্ষার সমাজবিজ্ঞান বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর । গ. উদ্দীপকে রনি বই পড়ে যে ক্ষুদ্র সামাজিক সংগঠন সম্পর্কে জানতে পারে তা সমাজবিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি মানবসমাজের সামগ্রিক পাঠ। বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Logos শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?

Sociology' শব্দটির প্রবক্তা কে?

'The Prince' গ্রন্থের লেখক কে?

'The Republic' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

অগাস্ট কোঁৎ সমাজবিজ্ঞানকে মনে করেন- i. সামাজিক স্থিতিশীলতার বিজ্ঞান ii. সামাজিক পরিবর্তনশীলতার বিজ্ঞান iii. সামাজিক গতিশ...

অষ্টাদশ শতাব্দীতে কোথায় শিল্প বিপ্লব ঘটে?

এলাকাটির অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী । অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দারিদ্র্য আর নিরক্ষরতা তাদের নিত্যসাথী। অঞ্চলটিতে জনবসতি তেম...

ক. সমাজবিজ্ঞানের জনক কে? খ. “সমাজবিজ্ঞান সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ”– বুঝিয়ে দাও ৷ গ. প্রদত্ত ছকচিত্রের ‘?' চিহ্নিত স্থানটিতে...

কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র। সে তার খালার বাসায় থেকে পড়ালেখা করছে। তার খালু একজন সরকারি চাকরিজীবী । এ...

কাজল ও পারুল দুই বান্ধবী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। কাজল যে বিষয়টা নিয়ে পড়ছে, সেটিকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।