Facebook Pixel

সম্রাট শাহজাহানের চারপুত্রের মধ্যে তৃতীয়পুত্র আওরঙ্গজেব ছিলেন যোগ্যতম। এতদসত্ত্বেও জ্যেষ্ঠপুত্র দারা সম্রাটের অধিক প্রিয় ছিল এবং দারাকেই পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। শুরু হয় ভাতৃদ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্বে বিজয়ী হয়ে যোগ্যতম আওরঙ্গজেব পরবর্তী সম্রাট হন। ক. কোন যুদ্ধে উমাইয়াদের পতন ঘটে? খ. আবুল আব্বাসকে 'আস সাফফাহ' বলা হয় কেন? গ. খলিফা হারুন-অর-রশিদের পুত্র আমীন ও মামুনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ঘ. উক্ত দ্বন্দ্বের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. জাবের যুদ্ধে উমাইয়াদের পতন ঘটে। খ. আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আব্বাস আবদুল্লাহকে 'আস-সাফফাহ' (রক্তপিপাসু বা রক্ত ঝরানো) বলা হয়, কারণ তিনি উমাইয়া বংশের ধ্বংস ও আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠার সময় অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেছিলেন। ক্ষমতা সুসংহত করতে তিনি উমাইয়া পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্বিচারে হত্যা করেন এবং শত্রুদের দমনে রক্তক্ষয়ী নীতি গ্রহণ করেছিলেন, যার ফলে ইতিহাসে তিনি "আস-সাফফাহ" বা রক্তপিপাসু হিসেবে পরিচিত। গ. আব্বাসি শাসনামলে আল আমিন ও আল মামুনের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় এবং এ দ্বন্দে মামুন জয়ী হয়ে খিলাফত লাভ করেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, সম্রাট শাহজাহানের চারপুত্রের মধ্যে তৃতীয়পুত্র আওরঙ্গজেব ছিলেন যোগ্যতম। এতদসত্ত্বেও জ্যেষ্ঠপুত্র দারাকে পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করা হলে। শুরু হয় ভ্রাতৃদ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্বে বিজয়ী হয়ে যোগ্যতম আওরঙ্গজেব পরবর্তী সম্রাট হন, যা আমিন ও মামুনের দ্বন্দের অনুরূপ। হারুন অর রশিদের মৃত্যুর পর আমিন ক্ষমতা গ্রহণ করে। কিন্তু আমিন ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বেচ্ছাচারী নীতি গ্রহণ করলে আমিন ও মামুনের মধ্যে গৃহযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এ ভ্রাতৃবিরোধের অনেক কারণ রয়েছে। মূলত আব্বাসীয়দের উত্তরাধিকারী নির্বাচনের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি না থাকার ফলে ভ্রাতৃদ্বয়ের বিরোধ দেখা দেয়। ভ্রাতৃদ্বয়ের চারিত্রিক বৈসাদৃশ্য তাদের দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ। দুই ভাইয়ের মধ্যে আল মামুন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান ও ধার্মিক ছিলেন এবং আল-আমিন চরিত্রহীন, বিলাসী, আরামপ্রিয় ও চঞ্চল স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। চারিত্রিক বৈসাদৃশ্যের জন্য আল আমিন আল মামুনের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন কতকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যা ভ্রাতৃবিরোধ ত্বরান্বিত করেছিল। আল মামুনের প্রাচ্যে সুশাসনের জন্য ক্রমবর্ধমান সুখ্যাতি অর্জন করেন, যা আল আমিনের মনে ঈর্ষার উদ্রেক করে। যার কারণে তিনি মামুনকে প্রাচ্যের শাসনকর্তার পদ থেকে অপসারিত করার সুযোগ অন্বেষণ করতে থাকেন। তাছাড়া ক্ষমতালোভী অনেকের প্ররোচনায় উভয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, যা একসময় গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এ ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধে আল আমিন পরাজিত হলে আল মামুন ক্ষমতা দখল করেন। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার আল-আমিন ও মামুনের যুদ্ধের চিত্র ফুটে ওঠেছে। ঘ. আমিন ও মামুনের মধ্যকার গৃহযুদ্ধ এবং এতে আমিনের পরাজিত ও নিহত হওয়ার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর ফলে ইসলামের ইতিহাসে আরব প্রাধান্য তথা আরব জাতীয়তাবাদের বিলুপ্তি ঘটে। আব্বাসি খিলাফতে আরবি ভাষা ও তাদের ইসলাম ধর্মই কেবল বেঁচে থাকে। প্রশাসনের সর্বত্র পারসিক চিন্তা-চেতনা ও রীতিনীতির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এস এম ইমামুদ্দীন বলেন, "উমাইয়াদের ক্ষমতাচ্যুতির ফলে আরবদের ওপর পারসিকরা আংশিক বিজয়লাভ করে; কিন্তু আমিনের ওপর মামুনের প্রভুত্ব বিস্তার আরবদের ওপর তাদের সম্পূর্ণ বিজয় সূচিত করে। অন্যদিকে, মামুনের এ জয়ের মধ্য দিয়ে বাগদাদ শিক্ষা-সংস্কৃতির এক তীর্থকেন্দ্রে পরিণত হয়। খলিফা আল মামুন কর্তৃক ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য 'বায়তুল হিকমা' প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রখ্যাত পণ্ডিত, অনুবাদক ও চিকিৎসক হুনাইন বিন ইসহাককে বায়তুল হিকমার পরিচালক পদে নিযুক্ত করে এ প্রতিষ্ঠানকে তিনটি ইউনিটে বিভক্ত করেন। যথা-গ্রন্থাগার, শিক্ষানিকেতন ও অনুবাদ বিভাগ। পারসিক, গ্রিক, হিন্দু, খ্রিষ্টান ইত্যাদি সম্প্রদায় ও জাতীয় পণ্ডিতগণ শিক্ষামূলক গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও অনুবাদ কাজে নিযুক্ত থাকতেন। আল-মামুনের শাসনকাল ছিল আব্বাসি খিলাফতের এক গৌরবময় যুগ। শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নতির জন্য তার শাসনকালকে অগাস্টান যুগ অপেক্ষাও অধিক উন্নত ও গৌরবময় ছিল। বিশ্বের ইতিহাসে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে শাসনকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় এমন উদ্দীপনা, এমন জাগরণ আর দেখা যায় না। তাই বলা যায়, ভ্রাতৃযুদ্ধের ফলস্বরূপ আল মামুন বিজয়ী হলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সম্রাট শাহজাহানের চারপুত্রের মধ্যে তৃতীয়পুত্র আওরঙ্গজেব ছিলেন যোগ্যতম। এতদসত্ত্বেও জ্যেষ্ঠপুত্র দারা সম্রাটের অধিক প্রিয় ছিল এবং দারাকেই পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। শুরু হয় ভাতৃদ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্বে বিজয়ী হয়ে যোগ্যতম আওরঙ্গজেব পরবর্তী সম্রাট হন। 

ক.

কোন যুদ্ধে উমাইয়াদের পতন ঘটে?

খ.

আবুল আব্বাসকে 'আস সাফফাহ' বলা হয় কেন?

গ.

খলিফা হারুন-অর-রশিদের পুত্র আমীন ও মামুনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ঘ.

উক্ত দ্বন্দ্বের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবের ‘জোয়ান অব আর্ক’ উপাধি কার?

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রো...

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এই স্বপ্ন...

অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, মামুনের রাজধানী প্রধান কেন্দ্ররূপে সমাদৃত হয়েছিল- i. ব্যবসায় বাণিজ্যের ii. শিল্পের iii. জ্ঞ...

"অল্পকালের মধ্যে বার্মাকিগণ প্রভূত ধনের অধিকারী হন" বলতে বোঝাতে চেয়েছেন- i. প্রচুর সম্পদের মালিক হন ii. কম সময়ে অনেক সম্...

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এ সাম্রাজ্যের শাসকেরা জ্ঞান - বিজ্ঞান ...

আজদুদ্দৌলাহ্ কার পুত্র ছিলেন?

‘আন নাফস উজ জাকিয়া' শব্দের অর্থ কী?

আবু জাফর মনসুরকে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ তিনি- i. আব্বাসি বংশের শাসন সুদৃঢ় করেছিলেন ii. উমাইয়াদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।