Facebook Pixel

সম্রাট 'ক' ছিলেন কিংবদন্তি নায়ক। অন্যায়কারী ও বিদ্রোহীদের তিনি যেমন ছিলেন কঠোর, অন্যদিকে গরিব দুঃখীদের প্রতি ছিল তার অপরিসীম দয়া। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ছাড়াও গভীর রাত পর্যন্ত ধর্মীয় কাজ সম্পাদন করতেন। তিনি প্রচুর দান-খয়রাত করতেন। যে বছর হজে যেতে পারতেন না সে বছর তিনি নিজ খরচে অনেক লোককে হজে পাঠাতেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে তিনি সহাবস্থান ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন। ক. আল-মনসুর শব্দের অর্থ কী? খ. নাহরে জুবাইদা বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সম্রাটের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে কোন বিখ্যাত শাসকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. 'পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শাসকের চেয়ে উক্ত আব্বাসি খলিফা ছিলেন আরও বিখ্যাত' উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আল মনসুর শব্দের অর্থ বিজয়ী। খ. নহর-ই-জুবাইদা হলো খলিফা হারুন-অর-রশীদের স্ত্রী জুবাইদার অর্থায়নে খনন করা একটি খালের নাম। হারুন-অর-রশীদ ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে তার স্ত্রী জুবাইদা এবং পুত্র আমীন ও মামুনকে নিয়ে মক্কায় হজ পালন করতে যান। এ সময় জুবাইদা মক্কাবাসী ও হজ যাত্রীদের পানির কষ্ট দেখে মর্মাহত হন। তিনি পানির সংকট দূর করার জন্য প্রচুর অর্থ (প্রায় ২০ লক্ষ দিনার) ব্যয়ে ফোরাত নদীর উপকূল থেকে মক্কা পর্যন্ত একটি খাল খনন করেন। এটিই নহর- ই-জুবাইদা নামে পরিচিত। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সম্রাটের এবং আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের মানবিক গুণাবলির মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিল রয়েছে। আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদ ছিলেন একজন প্রজারঞ্জক শাসক। তার চরিত্রে কঠোরতা ও কোমলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল। তিনি একদিকে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দিতেন, অপরদিকে নিষ্ঠার সাথে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন এবং প্রজাদের কল্যাণে প্রচুর দান করতেন। তার এসব গুণ উদ্দীপকের শাসকের চরিত্রেও ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সম্রাট অন্যায়কারীদের প্রতি কঠোর এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি উদার ও মহানুভব ছিলেন। আরব্য রজনীর রূপ কথার নায়ক হিসেবে পরিচিত খলিফা হারুন-অর- রশীদও এরূপ স্বভাবের ছিলেন। তিনি খারেজি সম্প্রদায় এবং খাজার উপজাতির বিদ্রোহসহ অন্যান্য বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করেন। প্রজাদের কল্যাণে তিনি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা, মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা, বিমারিস্তান (হাসপাতাল) প্রভৃতি নির্মাণ করেন। পানীয় জল ও সেচ কাজের সুবিধার জন্য হারুন-অর-রশীদ অনেক খাল খনন করেন। সম্রাটের মতো খলিফা হারুন-অর-রশীদও প্রজাসাধারণের অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য রাতে ছদ্মবেশে লোকালয়ে ঘুরে বেড়াতেন। আবার, সম্রাট নিষ্ঠার সাথে ধর্মকর্ম করতেন ও প্রচুর দান- খয়রাত করতেন। একইভাবে খলিফা হারুন-অর-রশীদ দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ এবং প্রত্যেক রাতে একশ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। তিনি প্রতিদিন ১০০০ দিরহাম দরিদ্র প্রজাদের দান করতেন। তবে খলিফা কিছুটা সন্দেহ প্রবণ স্বভাবের ছিলেন যা উদ্দীপকের সম্রাটের মধ্যে নেই। এ দিকটি ছাড়া উদ্দীপকের সম্রাটের মানবিক গুণাবলি এবং আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। ঘ. ‘পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শাসকের চেয়ে উক্ত আব্বাসি খলিফা অর্থাৎ হারুন-অর-রশীদ ছিলেন আরও বিখ্যাত'— উক্তিটি যথার্থ । আব্বাসি বংশের শ্রেষ্ঠ খলিফা হারুন-অর-রশীদ শান্তিপূর্ণ বৈদেশিক নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ফ্রান্স, চীন এবং ভারতের রাজন্যবর্গের সাথে তিনি দূত এবং উপঢৌকন বিনিময় করতেন। হারুন-অর-রশীদ সাম্রাজ্যবাদী নীতি পছন্দ করতেন না। এজন্য বাইজান্টাইন সম্রাট নাইসিফোরাস বার বার সন্ধি ভঙ্গ করলেও খলিফা তাকে ক্ষমা করে দেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, শাসকের নিজ রাজ্যের পাশাপাশি বিদেশেও জনপ্রিয় ছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে তিনি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন খলিফা হারুন-অর-রশীদও অনেক রাজ্যের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করেন। ৭৯৭-৮০৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে বেশ কয়েকবার ফ্রান্সের তৎকালীন নৃপতি শার্লিম্যানের সাথে হারুনের দূত ও উপঢৌকন বিনিময় হয়। এছাড়া হারুন-অর-রশীদ চীনের সম্রাটের (Faghfur) প্রেরিত দূতকে সাদরে অভ্যর্থনা জানান এবং চৈনিকদের সাথে মুসলমানদের বন্ধুত্বের ঘোষণা দেন। ঐতিহাসিক পি কে হিট্টির মতে, ভারতের রাজাদের সাথেও হারুন-অর-রশীদের সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেশী বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সাথেও খলিফা সুম্পর্ক বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেন। ৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে রোমান এবং মুসলমানদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি বাইজান্টাইন সম্রাট নাইসিফোরাস ৮০৩ খ্রিষ্টাব্দে ভঙ্গ করেন। হারুন- অর-রশীদ তাকে পরাজিত ও ক্ষমা করে পুনরায় সন্ধি করেন। পরবর্তী সময়ে নাইসিফোরাস আরও কয়েকবার সন্ধি ভঙ্গ এবং যুদ্ধে খলিফার কাছে পরাজিত হন। প্রতিবারই খলিফা হারুন-অর-রশীদ তাকে ক্ষমা করেন, যা তার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতির বড় প্রমাণ। তবে খলিফা শত্রুকে সমূলে বিনাশ না করে বার বার ক্ষমা করায় তা আব্বাসি খিলাফতের জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছিল। উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের এবং আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদ দুজনেই পরাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী ছিলেন। তবে শত্রুকে পরাজিত এবং ক্ষমা করার ক্ষেত্রে হারুন-অর-রশীদ তুলানামূলকভাবে বেশি বিখ্যাত ছিলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সম্রাট 'ক' ছিলেন কিংবদন্তি নায়ক। অন্যায়কারী ও বিদ্রোহীদের তিনি যেমন ছিলেন কঠোর, অন্যদিকে গরিব দুঃখীদের প্রতি ছিল তার অপরিসীম দয়া। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ছাড়াও গভীর রাত পর্যন্ত ধর্মীয় কাজ সম্পাদন করতেন। তিনি প্রচুর দান-খয়রাত করতেন। যে বছর হজে যেতে পারতেন না সে বছর তিনি নিজ খরচে অনেক লোককে হজে পাঠাতেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে তিনি সহাবস্থান ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন।

ক.

আল-মনসুর শব্দের অর্থ কী?

খ.

নাহরে জুবাইদা বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সম্রাটের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে কোন বিখ্যাত শাসকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

'পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শাসকের চেয়ে উক্ত আব্বাসি খলিফা ছিলেন আরও বিখ্যাত' উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবের ‘জোয়ান অব আর্ক’ উপাধি কার?

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রো...

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এই স্বপ্ন...

অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, মামুনের রাজধানী প্রধান কেন্দ্ররূপে সমাদৃত হয়েছিল- i. ব্যবসায় বাণিজ্যের ii. শিল্পের iii. জ্ঞ...

"অল্পকালের মধ্যে বার্মাকিগণ প্রভূত ধনের অধিকারী হন" বলতে বোঝাতে চেয়েছেন- i. প্রচুর সম্পদের মালিক হন ii. কম সময়ে অনেক সম্...

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এ সাম্রাজ্যের শাসকেরা জ্ঞান - বিজ্ঞান ...

আজদুদ্দৌলাহ্ কার পুত্র ছিলেন?

‘আন নাফস উজ জাকিয়া' শব্দের অর্থ কী?

আবু জাফর মনসুরকে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ তিনি- i. আব্বাসি বংশের শাসন সুদৃঢ় করেছিলেন ii. উমাইয়াদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।