ক.
ইংল্যান্ডে বসতি আইনটি ১৬৬২ সালে প্রণীত হয়।
খ.
সামাজিক বিমা বলতে ঝুঁকির বিপরীতে নাগরিকদের রক্ষায় সরকার বা বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মসূচিকে বোঝায়।
সাধারণত বার্ধক্য, অক্ষমতা, উপার্জনকারীর মৃত্যু, পেশাগত দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার মতো ঝুঁকির বিপরীতে নাগরিকদের জন্য সামাজিক বিমা কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এর উদাহরণ হলো— চাকরিজীবীদের পেনশন, কল্যাণ তহবিল, যৌথ বিমা, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি। সামাজিক বিমার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ধারণার সূচনা হয়।
গ.
সৌম্যের দেখা ভিক্ষুকদের জন্য ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রযোজ্য।
প্রাক-শিল্প যুগে ইংল্যান্ড বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত এসব সমস্যা মোকাবিলায় গৃহীত সরকারি কার্যক্রমের বেশির ভাগ ছিল শাস্তি ও দমনমূলক। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্রদের সঠিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রণয়ন করা হয়।
উদ্দীপকে সৌম্য টেলিভিশনে ভিক্ষুকদের ওপর প্রচারিত একটি অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান দেখছিল। সেখানে সে দেখে, প্রকৃত ভিক্ষুকের চেয়ে ছদ্মবেশী ও ব্যবসায়ী ভিক্ষুকের সংখ্যাই বেশি। এ অবস্থা মোকাবিলায় ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি কার্যকরি হবে। কারণ এ আইনে প্রকৃত ভিক্ষুকদের চিহ্নিত করে তাদের সাহায্যদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। পাশাপাশি কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এ আইনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডের ইতিহাসে দরিদ্র ও ভবঘুরেদের দায়িত্ব সরকারিভাবে গ্রহণ করা হয়। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে দরিদ্রদের তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা— সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র ও নির্ভরশীল শিশু। শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী তাদের কাজ ও সাহায্য দেওয়া হয়। পারিবারিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের বিধান এ আইনে রাখা হয়। এ আইন অনুযায়ী দরিদ্রদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের সাহায্য করবে। দরিদ্রদের স্বচ্ছল কোনো আত্মীয়- স্বজন না থাকলে তাদের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করতো। সক্ষম দরিদ্রদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এ আইনে ভিক্ষাবৃত্তি মনোভাব কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এ আইনের অধীনে দরিদ্রদের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন করারোপের ব্যবস্থা করা হয়।
ঘ.
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য মোকাবিলায় এ ধরনের আইন অর্থাৎ ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি অত্যন্ত কার্যকর হবে।
প্রাক-শিল্প যুগে ইংল্যান্ডে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। এ সময় সরকার বিভিন্ন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনের চেষ্টা করেও আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। অবশেষে পূর্বের বিভিন্ন আইনের অভিজ্ঞতার আলোকে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি প্রণীত হয় যা দারিদ্র্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
উদ্দীপকের সৌম্য টেলিভিশনে ভিক্ষুকদের নিয়ে একটি অনুসন্ধানীমূলক অনুষ্ঠান দেখছিল। এ সময় সে ইংল্যান্ডের একটি আইনের কথা শুনলো যা ভিক্ষুকদের কর্মীতে রূপান্তরিত করেছিল। এ আইনটি হলো ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন। আমাদের দেশেও দারিদ্র্য দিনে দিনে চরম আকার ধারণ করছে। এ সমস্যা সমাধানে ১৬০১ সালের দরিদ্র্য আইন প্রয়োগ করা যায়। এ অনুযায়ী দরিদ্রদের চিহ্নিত করা হতো। প্রকৃত দরিদ্রদের যথাযথভাবে সাহায্য করার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ। আমাদের দেশের দরিদ্রদের সাহায্য করার এ বিধান প্রয়োগ করা যায়। দরিদ্র আইনে দরিদ্রবস্থা ও ভিক্ষাবৃত্তি দূর করতে সরকারের দায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়। আমাদের দেশের সরকারও দারিদ্র্য বিমোচনে এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন অনুযায়ী আমাদের দেশেও দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ করে সাহায্যদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এক্ষেত্রে অক্ষম দরিদ্ররা সাহায্য পাবে। আর ছদ্মবেশী সক্ষম দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে। আমাদের দেশের সরকার দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্য তাদের স্বচ্ছল আত্মীয়-স্বজনদের বাধ্য করতে পারে। যেসব দরিদ্রদের স্বচ্ছল আত্মীয়-স্বজন থাকবে না তাদের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া আমাদের দেশের সরকারকে আইনের মাধ্যমে কঠোরভাবে ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ কর্মসূচি আমাদের দেশের ভিক্ষাবৃত্তি দূর করতে সহায়ক হবে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আমাদের দেশের দরিদ্রবস্থা ও ভিক্ষাবৃত্তি দূর করার জন্য ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।