ক.
বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্মের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৮ সালে।
খ.
প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে বিশ্বের সকল মানুষকেই বার্ধক্যে উপনীত হতে হয়। এ কারণে প্রবীণ সমস্যাকে স্বাভাবিক, সর্বজনীন এবং বিশ্বব্যাপী বলা যায়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। সেইসাথে প্রবীণদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সে তুলনায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা কিংবা নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ে নি । তাই দেখা যায়, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই প্রবীণরা নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত।
গ.
উদ্দীপকে সুমনের বাবা প্রবীণ কল্যাণের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত বৃদ্ধ নিবাসে যাওয়ার কথা চিন্তা করছেন। প্রবীণ কল্যাণে উক্ত ব্যবস্থাটির ভূমিকা অপরিসীম।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে দারিদ্র্য, অনাহার, অনাদর, অবহেলা, বিদ্রুপ, মানসিক নির্যাতন, প্রতারণা আর শারীরিক নানা ধরনের বাধা-বিপত্তি ব্যক্তিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এসব সমস্যার সমাধান ও প্রবীণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর এবং নিরাপদ পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মের উৎপত্তি হয়েছে। উদ্দীপকে এই শাখার কার্যক্রমের প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রথাগতভাবে প্রবীণদের দেখাশোনার দায়িত্ব পরিবারের ওপর ন্যস্ত ছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ও ভোগবাদী যুগে ব্যাপক শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা বা পারিবারিক বন্ধন ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে পড়ছে। আবার চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি মৃত্যুহার কমিয়ে দেওয়ায় অন্যের ওপর নির্ভরশীল বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমাজের এই অংশের আর্থ- মনো-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি রয়েছে। এর অন্যতম হলো বৃদ্ধনিবাস। মূলত উন্নত দেশের ধারণা হলেও সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশেও ধীরে ধীরে এটি পরিচিতি পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার ও বিভিন্ন এনজিওর পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বৃদ্ধনিবাস গড়ে উঠছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবীণদের শারীরিক-মানসিক সুস্থতা ও আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দেয়। উদ্দীপকে সুমনের বাবা বৃদ্ধ নিবাসে যাওয়ার চিন্তা করছেন। প্রতিষ্ঠানটি সুমনের বাবার মতো প্রবীণদের থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বৃদ্ধনিবাস প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্মের কার্যক্রমের আওতাভুক্ত। যেখানে সুমনের বাবা যাওয়ার চিন্তা করছেন। প্রবীণদের কল্যাণে যার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘ.
“প্রবীণ কল্যাণের জন্য উক্ত ব্যবস্থাটি বাংলাদেশে জনপ্রিয় করা প্রয়োজন” – মন্তবটি যথার্থ।
বার্ধক্যে ব্যক্তি যে ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন সে ব্যাপারে অনেক সময় পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকে না। এতে করে প্রবীণদের প্রতি আমাদের করণীয় কী হতে পারে সে সম্পর্কেও সবার সঠিক ধারণা নেই । এজন্য সাধারণ মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা জরুরি। প্রবীণদের কল্যাণের জন্য উক্ত ব্যবস্থা তথা বৃদ্ধ নিবাস ব্যবস্থাটি বাংলাদেশে জনপ্রিয় করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন সমাজকর্মী প্রবীণকল্যাণে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। এছাড়াও সামাজিক সচেতনতা, সকলকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং পারিবারিকভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেন। প্রবীণদের কল্যাণে বৃদ্ধাশ্রম বা বৃদ্ধ নিবাসকে জনপ্রিয় করতে বৃদ্ধ নিবাসের পরিবেশ উন্নয়ন। সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা। বৃদ্ধ নিবাসে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থার উন্নতি করা। এছাড়াও নামাজ পড়ার ঘর, লাইব্রেরি, প্রবীণদের জন্য উপযোগী বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, টিভি, জার্নালের ব্যবস্থাকরণ। উক্ত ব্যবস্থাগুলো ব্যক্তি ভেদে বা আলাদা আলাদা পছন্দ অভিরুচির জন্য স্বাতন্ত্র ব্যবস্থা রাখা। বৃদ্ধ নির্বাস কর্মসূচি সম্পর্কে সকলকে অবহিতকরণ, প্রচার মাধ্যমের সহায়তা নেওয়া । বৃদ্ধ নিবাসে সকলের সমান সুযোগ ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করা, বৃদ্ধ নিবাসের চিকিৎসা ব্যবস্থা, খাদ্য, সুপেয় পানি প্রভৃতি আধুনিকায়ন করা, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। উক্ত ব্যবস্থা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন করা। এছাড়াও স্থানীয় ক্ষমতাবানদের, নেতা ও বিত্তশালী মানুষদের সাথে বৃদ্ধাশ্রমের অর্থায়ণের সমন্বয় সাধন করা। উপরের কার্যক্রমগুলো গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে বৃদ্ধাশ্রম জনপ্রিয় করা সম্ভব।
উক্ত ব্যবস্থা তথা বৃদ্ধাশ্রম জনপ্রিয় হলে মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। বঞ্চিত, সমস্যাগ্রস্থ মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন সৃষ্টি হবে এবং মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তাই বলা যায়, প্রবীণদের কল্যাণে উক্ত ব্যবস্থা তথা বৃদ্ধনিবাস বা বৃদ্ধাশ্রম জনপ্রিয় করা প্রয়োজন ।