ক.
ধর্ম হলো পবিত্র সম্পর্কিত কতকগুলো বিশ্বাস ও প্রথার সমষ্টি।
খ.
অটিজম সম্পর্কে সমাজের অধিকাংশ মানুষের ভ্রান্ত ধারণার কারণে এটিকে সামাজিক সমস্যা বলা হয়। আমাদের দেশে অটিজম সম্পর্কে সাধারণ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই নেতিবাচক অনেকেই এ রোগকে সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ বলে মনে করেন। ফলে অটিজম আক্রান্তদের জন্য সমাজে বসবাস করাটা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া অটিস্টিক শিশুরা সামাজিক যোগাযোগে অক্ষম । অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয়। ফলে তাদের বোঝা হিসেবে দেখা হয়। মূলত এসব কারণেই অটিজমকে একটি সামাজিক সমস্যা বলে বিবেচনা করা হয়।
গ.
উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণমাধ্যমকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। গণমাধ্যম হলো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম । গণমাধ্যম সমাজের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে একটি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে এবং মানুষের চিন্তাচেতনা, আবেগ, বিশ্বাস, আগ্রহ-অনাগ্রহসহ বিভিন্ন তথ্য অধিক সংখ্যক লোকের কাছে পৌঁছে দেয়। গণমাধ্যম কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন— ১. প্রিন্ট মিডিয়া— সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন প্রভৃতি; ২. ইলেকট্রনিক মিডিয়া টেলিভিশন, বেতার প্রভৃতি; ৩. আধুনিক গণমাধ্যম — মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব প্রভৃতি।
উদ্দীপকের ছকে প্রদত্ত সংবাদপত্র হলো প্রিন্ট মিডিয়া, টেলিভিশন হলো ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট হলো আধুনিক গণমাধ্যম সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের প্রশ্নচিহ্নিত স্থানে মূলত 'গণমাধ্যমকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ.
সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
মানুষকে মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে গণমাধ্যম তথা রেডিও, টেলিভিশন বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফলে মৌলিক অধিকার হরণ করার প্রবণতা হ্রাস পায়। জনাধিক্যের সমস্যা হ্রাস করার জন্য পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে জনগণকে আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করে। মাদকাসক্তি থেকে যুবকদের বাঁচাতে মাদকের কুফলতা ও সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার বিষয়ে প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তুলতে পারে। গ্রাম ও শহরাঞ্চলের জনগণকে স্বাস্থ্যসচেতন করার অন্যতম মাধ্যম হলো গণমাধ্যম। স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাবে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যা, যেমন- অপুষ্টি, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতিতে ভোগে। বর্তমানে ব্যক্তির সামাজিকীকরণের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা বেড়েছে। সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি সমাজের আদর্শ, মূল্যবোধ, বিভিন্ন রকম সংস্কার ও বিশ্বাসকে জনগণের আচরণে স্থায়িত্ব দিতে ভূমিকা রাখে। সামাজিক সমস্যা সমাধানের অন্যতম কৌশল হলো জনমত গঠন । আর জনমত গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা সর্বাগ্রে। সামাজিক কুসংস্কারের পাশাপাশি অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন ইত্যাদি সামাজিক সমস্যা সমাধানে জনমত গঠনের কোনো বিকল্প নেই। সামাজিক ঐক্য ও সংহতি স্থাপন করার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যার সমাধানে সমাজের সকলের মধ্যে ঐক্যবোধ তৈরিতে গণমাধ্যম সক্ষম।
সুতরাং বলা যায়, সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অতুলনীয়।