Facebook Pixel

সামাজিক জীব হিসেবে মানুষকে এমন দুইটি মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করতে হয় যা প্রতিকূল প্রাকৃতিক অবস্থা থেকে মানুষকে রক্ষা করে। এদের মধ্যে একটি চাহিদাকে সভ্যতার ধারক ও বাহক বলা হয়। ক. মৌলিক মানবিক চাহিদা মূলত কয় ধরনের চাহিদার সমন্বয়? খ. চিত্তবিনোদনকে কেন মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়? গ. উদ্দীপকে কোন দুইটি মৌল মানবিক চাহিদাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মৌল মানবিক চাহিদাসমূহ পরিপূরণে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপসমূহ আলোচনা করো।

বিষয়: সমাজকর্ম ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে মৌলিক মানবিক চাহিদা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মৌলিক মানবিক চাহিদা মূলত দুই ধরনের চাহিদার সমন্বয়। খ. চিত্তবিনোদনের মাধ্যমে সৃজনশীল কাজ ও গঠনমূলক চিন্তার খোরাক তৈরি হয় বলে চিত্তবিনোদনকে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়। চিত্তবিনোদন হচ্ছে অবসরকালীন সময়কে অর্থবহ করে তোলার উপায়, যা মানুষের কর্মস্পৃহাকে জাগিয়ে তোলে। এর ফলে সময় অর্থবহ হয়ে ওঠে, মানুষের ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজে নতুন উদ্যম ফিরে আসে। তাই চিত্তবিনোদনকে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়। গ. উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদা বস্ত্র ও বাসস্থানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। মানবজীবনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা হলো বস্ত্র। এটি সভ্যতার প্রতীক। এটি আদিম অবস্থা থেকে মানুষকে বর্তমান সময়ের সভ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। বস্ত্র ছাড়া কোনো মানুষ সভ্য সমাজে বসবাস করতে পারে না। বস্ত্রহীন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বাসস্থান মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৌল মানবিক চাহিদা। সমাজ ও সভ্যতাকে স্থিতিশীল রূপ দেওয়ার পেছনে বাসস্থানের অবদান সবচেয়ে বেশি। পরিবার কাঠামো গড়ে ওঠার পটভূমি হলো বাসস্থান। এটি সমাজের ভিত্তি। সেই সাথে এটি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করার একটি মাধ্যম। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে, এই চাহিদা দুটি মানুষকে প্রতিকূল প্রাকৃতিক অবস্থা (যেমন- রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, শীত) থেকে রক্ষার পাশাপাশি সভ্যতার ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বস্ত্র ও বাসস্থানের চাহিদাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মৌল মানবিক চাহিদা অর্থাৎ বস্ত্র ও বাসস্থানের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে বাসস্থানের নিশ্চয়তা দান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সকলের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭সালে গ্রহণ করা হয় আশ্রয়ণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে এ পর্যন্ত ২,১৭৬টি প্রকল্প গ্রাম তৈরিপূর্বক ৪৭১০০৬টি পরিবার পূনর্বাসন করা হয়েছে। নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে ১,৫৩,৮৫৩টি পরিবারকে গৃহনির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার বস্ত্র চাহিদা নিশ্চিত করার জন্য ১৯৯৩ সালে প্রথম বস্ত্রনীতি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক (১৯৯৭-২০০২) পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৫ সালের মধ্যে মাথাপিছু ১৭মিটার বস্ত্র প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যার ফলে প্রতিবছর সরকারিভাবে কাপড় উৎপাদন বাড়ছে। দেশের বস্ত্রখাতের উন্নয়নে বস্ত্র প্রযুক্তিবিদ ও বস্ত্রবিষয়ক দক্ষ জনশক্তির চাহিদা পূরণে বস্ত্র মন্ত্রণালয় ১১টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ৬টি টেক্সটাইল ইনিস্টিটিউট এবং ৪০টি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ রেশম বোর্ড, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, বাংলাদেশ সিল্ক ফাউন্ডেশন, পাট অধিদপ্তর প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান বস্ত্রখাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বস্ত্র ও বাসস্থানের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সামাজিক জীব হিসেবে মানুষকে এমন দুইটি মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করতে হয় যা প্রতিকূল প্রাকৃতিক অবস্থা থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
এদের মধ্যে একটি চাহিদাকে সভ্যতার ধারক ও বাহক বলা হয়।

ক.

মৌলিক মানবিক চাহিদা মূলত কয় ধরনের চাহিদার সমন্বয়?

খ.

চিত্তবিনোদনকে কেন মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়?

গ.

উদ্দীপকে কোন দুইটি মৌল মানবিক চাহিদাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মৌল মানবিক চাহিদাসমূহ পরিপূরণে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপসমূহ আলোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।