ক.
ক্লিনিক্যাল সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের একটি বিশেষ শাখা যেখানে সাহায্যার্থীর সমস্যা (রোগ) নির্ণয় বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সাহায্য করা হয়।
খ.
প্রবীণ সমাজকর্ম বলতে সমাজকর্মের এমন শাখাকে বোঝায় যেটি প্রবীণদের সার্বিক কল্যাণের জন্য কাজ করে।
বর্তমানে প্রবীণদের বিশেষ জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে প্রবীণকল্যাণের প্রতি বিশ্বের সবদেশে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতেই প্রবীণ সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে। সমাজকর্ম অভিধানের (১৯৯৫) ব্যাখ্যানুযায়ী, প্রবীণকল্যাণ সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের বিশেষ অনুশীলন ক্ষেত্র, যাতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মনো- সামাজিক চিকিৎসা এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।
গ.
উদ্দীপকের মালিক-শ্রমিক স্বন্দ্ব নিরসনের জন্যে সমাজকর্মের অন্যতম বিশেষায়িত শাখা শিল্প সমাজকর্ম তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে।
শিল্প সমাজকর্ম শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করে। বিশেষ করে শিল্প প্রতিষ্ঠানে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে শিল্প সমাজকর্ম কাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যাটি শিল্প সমাজকর্মের পরিধির আওতাভুক্ত।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে, সাভারের একটি গার্মেন্টসে মালিক-শ্রমিক স্বন্দ্বের কারণে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে মালিক পক্ষের স্বার্থের কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নিম্ন শ্রেণির কর্মীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিতে সৃষ্ট সংকটাবস্থার অবসান ঘটাতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে শিল্প সমাজকর্মী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের সংকটের কারণেই সময়ের প্রয়োজনে শিল্প সমাজকর্মের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের মাধ্যমে শিল্প-শ্রমিকদের চাহিদা, শ্রমিক উন্নয়ন এবং বৃহৎ সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা প্রদান করাই শিল্প সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য। এক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যকার নানা সমস্যা সমাধানে শিল্প সমাজকর্ম যুক্তিসংগত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উপায় বা পথ বাতলে দেয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে পেশাদার সমাজকর্মের বিশেষায়িত শাখা শিল্প সমাজকর্মের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব নিরসনে শিল্প সমাজকর্ম পরামর্শ প্রদান ও কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারে।
শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধি-বিধান রয়েছে। বিশেষ করে শ্রম আইনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের সমাধানে শ্রম আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে শিল্প সমাজকর্ম ভূমিকা রাখে। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রয়োজন হলে সরাসরি হস্তক্ষেপও এক্ষেত্রে লক্ষণীয়। উদ্দীপকেও শিল্প সমাজকর্মের এরূপ ভূমিকা ফলপ্রসূ হবে।
উদ্দীপক থেকে জানা যায়, সাভারের গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানটিতে মালিক- শ্রমিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। এখন শিল্প সমাজকর্মীরা এই দ্বন্দ্ব সৃষ্টির পেছনে বিদ্যমান কারণসমূহ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। দ্বন্দ্বের কারণ চিহ্নিত করার পর তারা বিদ্যমান শ্রম আইনের আলোকে বিশ্লেষণ করে এর সমাধান নির্ধারণ করবেন। পরবর্তী ধাপে তারা মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টির কাজ করবেন। তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার প্রকৃতি ও কারণ তুলে ধরে সমাধানের পথ নির্দেশ করে দেবেন। এক্ষেত্রে মূলত শিল্প সমাজকর্মীরা দল সমাজকর্মের পদ্ধতির আলোকে সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন। তারা সাভারের শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে বিদ্যমান দল বা সমষ্টিকে অর্থাৎ মালিক-শ্রমিক পক্ষকে পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন। এভাবে তারা আলোচ্য সমস্যার একটি যৌক্তিকা সমাধান দিতে সমর্থ হবেন।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে শিল্প সমাজকর্মের কর্মপদ্ধতি প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।