Facebook Pixel

স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের অধিকারী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহপ্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। আসলে ইরাকের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি , জাতিগত বিদ্বেষ , বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের আত্মকলহ তাকে কঠোর হতে বাধ্য করেছিল। সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন কৌশলে শতধাবিভক্ত ইরাকিদের একত্র করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েম করতে সক্ষম হন। ক. ' আল মনসুর ' শব্দের অর্থ কী ? খ. আল মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন কেন ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ খলিফা আল মনসুরের কোন কর্মকাণ্ডের অনুরূপ ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে আল - মনসুর আরও দূরদর্শী ছিলেন — উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ আব্বাসি খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ‘ আল মনসুর ' শব্দের অর্থ ' বিজয়ী ' । খ. প্রশাসনিক কাঠামোকে সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ় করার জন্য খলিফা আল মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। বাগদাদ দজলা ( টাইগ্রিস ) নদীর পশ্চিম তীরে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। এটা ছিল স্বাস্থ্যকর , সাম্রাজ্যের মধ্যস্থল এবং অধিকতর নিরাপদ স্থান। নদীর তীরে অবস্থানের ফলে এ নগরীর সাথে নৌপথে সিরিয়া , মেসোপটেমিয়া , আর্মেনিয়া ও সাম্রাজ্যের অন্যান্য স্থানের যোগাযোগ সহজ ছিল। এছাড়া এখান থেকে অন্যান্য দেশ এমনকি সুদূর চীনের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন সম্ভবপর হয়েছিল। তাছাড়া এতে আন্তঃবাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যে ব্যাপক সাফল্যের সম্ভাবনা ছিল । এসব কারণে খলিফা মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ আব্বাসি খলিফা আল মনসুরের হযরত আলি ( রা )- এর বংশধরদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অনুরূপ। হযরত আলি ( রা ) ও তার স্ত্রী রাসুল ( স )- এর মেয়ে ফাতিমার বংশধররা আব্বাসি বংশের উত্থানের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরপরও খলিফা আল মনসুর তাদেরকে সুনজরে দেখেননি। আলির বংশধরদের প্রতি মানুষের অসীম ভক্তি ও শ্রদ্ধার জন্য তিনি নিজ বংশের শাসনের স্থায়িত্বের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন এবং তাদের ধ্বংস সাধনে তৎপর হন । তার এই প্রতিহিংসামূলক কাজের প্রতিফলন উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের মধ্যেও লক্ষণীয়। সাদ্দাম হোসেন দেশপ্রেমসহ বিভিন্ন গুণের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু তার মধ্যে প্রবল সন্দেহপ্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। খলিফা মনসুরের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। উমাইয়াদের পতনের পর আলি ( রা )- এর বংশধর ইমাম হাসানের প্রপৌত্র মুহাম্মদ সিংহাসনে আরোহণের ন্যায়সংগত অধিকারী ছিলেন। এ কারণে আলি ও ফাতিমার বংশের লোকদের ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে আল মনসুর তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালান। ফলে মুহাম্মদ ও তার ভাই ইব্রাহিম মদিনা ও বসরায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। খলিফা আল মনসুর তাদেরকে পরাজিত করে নির্মমভাবে হত্যা করেন । তিনি মদিনায় বসবাসরত ইমাম হাসান ( রা ) ও হুসেন ( রা )- এর পরিবারবর্গের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। এমনকি ইমাম জাফর সাদিক , ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন । সুতরাং দেখা যায় , প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি সাদ্দাম হোসেনের আচরণ খলিফা মনসুরের আলি বংশীয়দের প্রতি দুর্ব্যবহারকেই মনে করিয়ে দেয়। ঘ. খলিফা আল মনসুর নানা দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সাম্রাজ্যকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন , যা উদ্দীপকে বর্ণিত সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে অধিক বিচক্ষণতার পরিচায়ক। খলিফা আল মনসুর ৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করে আব্বাসি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা আব্দুল্লাহ এবং আবু মুসলিম খোরাসানিকে হত্যা করেন। তিনি খারেজি ও আলি ( রা )- এর সমর্থকদের বিদ্রোহসহ অন্যান্য বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করে রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। আল মনসুরের সময় তাবারিস্তান , গিলান , এশিয়া মাইনর ও আফ্রিকার বিশাল অঞ্চলে আব্বাসি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ তিনি আব্বাসি খিলাফতকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। কিন্তু সাদ্দাম হোসেনের ক্ষেত্রে সঙ্গত কারণেই রাজ্য বিস্তারের দিকটি অনুপস্থিত। উদ্দীপকে বলা হয়েছে , রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেন। তিনি অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইরাকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। এসব বিষয় খলিফা আল মনসুরের গৃহীত পদক্ষেপেও রয়েছে। তবে আব্বাসি খলিফা আল মনসুর এক্ষেত্রে আরও বাস্তবধর্মী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন তিনি অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বিরোধিতার মূলোৎপাটন করে তার বংশকে শত্রুমুক্ত করেন । প্রশাসনিক কাঠামোকে সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি ৭৬২ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্ক থেকে বাগদাদে রাজধানী স্থানান্তর করেন। সামরিক শক্তিই সাম্রাজ্যের মূলভিত্তি — এ ধারণাকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করে আল মনসুর একটি প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের বিশ্বাস সুন্নি মতাদর্শকে তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেন। এছাড়া জ্ঞান - বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে আল মনসুর উদার ছিলেন। তার রাজত্বকালে গণিতশাস্ত্রের উৎকর্ষ সাধিত হয়। ব্যবসা - বাণিজ্য ও কৃষিকাজের উন্নয়নে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি বহু নগর , সরাইখানা , রাজপথ , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসালয় নির্মাণ করেন। এভাবে আব্বাসি শাসনামলে মুসলিম সভ্যতার যে অপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল , আল মনসুর তার শুভসূচনা করেন । উপরের আলোচনায় প্রমাণিত হয় , খলিফা আল মনসুর ঠাণ্ডা মাথায় তার সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে দমন করেছিলেন। এর ফলেই আব্বাসি শাসন প্ৰায় ৫০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। আল মনসুর আধুনিক ইরাকের নেতা সাদ্দাম হোসেনের মতো এত অস্থিরচিত্ত ছিলেন না। সুতরাং বলা যেতে পারে , দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েমের বিষয়ে সাদ্দামের চেয়ে আল মনসুর অনেক বেশি দূরদর্শী ছিলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের অধিকারী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহপ্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। আসলে ইরাকের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতিগত বিদ্বেষ, বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের আত্মকলহ তাকে কঠোর হতে বাধ্য করেছিল। সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন কৌশলে শতধাবিভক্ত ইরাকিদের একত্র করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েম করতে সক্ষম হন।

ক.

'আল মনসুর' শব্দের অর্থ কী ?

খ.

আল মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন কেন ? ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ খলিফা আল মনসুরের কোন কর্মকাণ্ডের অনুরূপ ? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে আল-মনসুর আরও দূরদর্শী ছিলেন— উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবের ‘জোয়ান অব আর্ক’ উপাধি কার?

অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রো...

অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন সেনাপতি ফুয়াদ পাশা। পরবর্তীতে ফুয়াদ পাশার সাহ...

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় এই স্বপ্ন...

অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, মামুনের রাজধানী প্রধান কেন্দ্ররূপে সমাদৃত হয়েছিল- i. ব্যবসায় বাণিজ্যের ii. শিল্পের iii. জ্ঞ...

"অল্পকালের মধ্যে বার্মাকিগণ প্রভূত ধনের অধিকারী হন" বলতে বোঝাতে চেয়েছেন- i. প্রচুর সম্পদের মালিক হন ii. কম সময়ে অনেক সম্...

অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এ সাম্রাজ্যের শাসকেরা জ্ঞান - বিজ্ঞান ...

আজদুদ্দৌলাহ্ কার পুত্র ছিলেন?

‘আন নাফস উজ জাকিয়া' শব্দের অর্থ কী?

আবু জাফর মনসুরকে আব্বাসি খিলাফতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ তিনি- i. আব্বাসি বংশের শাসন সুদৃঢ় করেছিলেন ii. উমাইয়াদ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।