ক.
পৌরসভার প্রধানকে বলা হয় মেয়র।
খ.
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বোঝায়।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় স্থানীয় সরকারগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত হয় না। এর প্রতিনিধিগণ এলাকার জনসাধারণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত অথবা সরকার কর্তৃক মনোনীত হন। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এরা নিজ নিজ এলাকার জনগণের নিকট দায়ী থাকেন। বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ প্রভৃতি।
গ.
উদ্দীপকে 'X' হলো সিটি কর্পোরেশন নামক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ অর্থাৎ মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলররা সিটি কর্পোরেশনের কার্যাবলি সম্পাদন করেন। এসব কাজে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে।
উদ্দীপকের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান 'X'-এর সংখ্যা হলো ১২। এ প্রতিষ্ঠানটি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিয়ে থাকে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এ জনগণের প্রত্যক্ষ ভূমিকার এ সংস্থাটি হলো সিটি কর্পোরেশন। সিটি কর্পোরেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান কাজ হলো নগর এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণ সাধন করা। যেমন- রাস্তাঘাট নির্মাণ, ড্রেন, পুল, কালভার্ট, ইমারত তৈরির জন্য এ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মহানগরীর জনগণের স্বাস্থ্যসেবা সিটি কর্পোরেশনের বহুমুখী কাজের মধ্যে অন্যতম। যেমন-হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে- রাস্তাঘাট নির্মাণ, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, বিনোদন কেন্দ্রের নির্মাণ, পৌরবাজার ও ট্রাক স্ট্যান্ড তথা সকল প্রকার যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি। এ সংস্থাটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, বনায়ন, পার্ক পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন, সাহায্য ও পুনর্বাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এছাড়াও জন্ম-মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন এবং অন্যান্য সামাজিক কাজও তারা সম্পাদন করে।
ঘ.
'X' প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশনকে অধিক কার্যকর করার ক্ষেত্রে জনগণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
'X' প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশনকে অধিক কার্যকর করতে হলে জনগণের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়। এর ফলে সিটি কর্পোরেশন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশনের সঠিক ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে বিশাল এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সম্ভব হয়। এজন্য জনগণ নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ও আবর্জনা ফেলে ও নিজ দায়িত্বে বাড়ির চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করে। মহানগরীর জনগণের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণের জন্য সিটি কর্পোরেশন গভীর ও অগভীর নলকূপ খনন করে। জনগণ পানির অপচয় রোধ করে সংক্রামক রোগ নির্মূলের প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকে। জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করে। এসব কাজে এলাকার জনগণ স্বেচ্ছায় শ্রম দান করে বা সহযোগিতা করে প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য করতে পারে। ভূমি অধিগ্রহণ, স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে ইমারত নির্মাণে জনগণ কর্পোরেশনকে সাহায্য করে।
এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী ঘরবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে জনগণ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন গ্রহণ করে। ইমারত নির্মাণে জনগণ সঠিক নিয়ম-কানুন মানা ও প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করে।
পরিশেষে বলা যায়, মহানগরের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সিটি কর্পোরেশন যেসব কাজ করে তা মূলত জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হয়। এ কারণে জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া সহযোগিতা করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।