Facebook Pixel

'X' নামক রাষ্ট্রের জনগণকে রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার মানসে সর্বজনীন ভোটাধিকার নীতি গ্রহণ করা হয়। স্ত্রী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ-বংশ নির্বিশেষে সকল প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বয়স্ক) নাগরিক ভোটদানের মাধ্যমে রাষ্ঠীয় শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণের অধিকারী। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন হলো নাগরিকদের প্রতিনিধি বাছাই করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। ক. দুর্নীতি দমন কমিশন কখন প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. গণভোেট কী? গ. উদ্দীপকের কর্মকাণ্ডের সাথে রাষ্ট্রের কোন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত? তার গঠন বর্ণনা করো। ঘ. বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ স্থানীয় শাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। খ. দেশের ভোটাধিকার প্রাপ্ত জনগণ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তের পক্ষে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে যে মতামত প্রদান করে, তাকে গণভোেট বলা হয়। গণভোটের মূল ভিত্তি হচ্ছে নির্বাচন ও নির্বাচকমণ্ডলী। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের পছন্দ, মতামত, সিদ্ধান্ত এবং সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে। গণভোট বলতে দেশের জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে কোনো জাতীয় প্রশ্নে যে মতামত দেয়, তাকেই গণভোট বলে অভিহিত করা হয়। গ. মি 'X'-এর সাথে আমার পঠিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের মিল খুঁজে পাই। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ায় জাতীয় জীবনে নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এজন্য দেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। সংবিধানের ১১৮ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি যেরূপ নির্দেশ করবেন, সেরূপ সংখ্যক নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণে তত্ত্বাবধান নির্দেশ, নিয়ন্ত্রণ নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রণয়ন, নির্বাচনি ব্যয়, তপশিল ঘোষণা, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম অর্থাৎ নির্বাচন পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মি. 'X' সংবিধানের ১১৮নং অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রণয়ন ও নির্বাচনি ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে। যা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণবিধি প্রণয়ন এবং নির্বাচনি ব্যয় পর্যবেক্ষণ করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ঘ. বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন অপরিহার্য- উক্তিটি যথার্থ। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন হলো সরকার পরিবর্তনের একমাত্র বৈধ পথ। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কোনো প্রকার ভয়-ভীতি বা চাপের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারে। একটি শক্তিশালী কমিশনই পারে ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'X' রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও সর্বজনীন ভোটাধিকার স্বীকৃত, যেখানে জনগণের প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। এই জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনি আচরণবিধি প্রণয়ন ও তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হয়। যদি কমিশন দুর্বল বা পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তবে উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হবে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। তাই নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায়, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া জনমতের সঠিক প্রতিফলন সম্ভব নয়। শক্তিশালী কমিশন কেবল নির্বাচন পরিচালনা করে না, বরং এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমতা নিশ্চিত করে এবং পেশিশক্তি ও অর্থের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন উপহার দেয়। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। পরিশেষে বলা যায়, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই জনপ্রতিনিধিত্বের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হয়, যার জন্য একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন থাকা একান্ত প্রয়োজন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

'X' নামক রাষ্ট্রের জনগণকে রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার মানসে সর্বজনীন ভোটাধিকার নীতি গ্রহণ করা হয়। স্ত্রী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ-বংশ নির্বিশেষে সকল প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বয়স্ক) নাগরিক ভোটদানের মাধ্যমে রাষ্ঠীয় শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণের অধিকারী। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন হলো নাগরিকদের প্রতিনিধি বাছাই করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। 

ক.

দুর্নীতি দমন কমিশন কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ.

গণভোেট কী?

গ.

উদ্দীপকের কর্মকাণ্ডের সাথে রাষ্ট্রের কোন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত? তার গঠন বর্ণনা করো।

ঘ.

বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

17 ক. দুর্নীতি কাকে বলে? খ. খাদ্যে ভেজাল রোধ করা প্রয়োজন কেন? গ. 'ক' শাসনব্যবস্থা দ্বারা কোন ধরনের শাসনব্যবস্থাকে বোঝায...

'Chittagong Hilltracts Regulation Act' কত সালে তৈরি করা হয়?

'Chittagong Hilltracts Regulation Act' কারা তৈরি করে?

Encyclopedia of Social Science এর বাংলা অর্থ কোনটি?

NGO-এর পূর্ণরূপ কী? [ঢা. বো. '১৬; রা. বো. '১৬; য. বো. '১৫]

ক. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গঠন উল্লেখ করো। খ. কীভাবে মৌলিক অধিকার বলবৎ করা যায়? গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্ত...

'M' একজন ছাত্র এবং এ বছর সে ভোটার হয়েছে। নিয়মমাফিক একটি স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে সে তিনজনকে ভোট দেওয়ার সুযো...

NGO-এর পূর্ণরূপ কী?

আধুনিককালে কী কারণে সরকারকে বহুমুখী কল্যাণমুখী কাজ সম্পাদন করতে হয়?

আধুনিককালে কোন ধরনের রাষ্ট্রের উদ্ভবের ফলে রাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক কার্যাবলি বৃদ্ধি পাচ্ছে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।