ক.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ এ দুটি বিভাগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত।
খ.
কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে হাইকোর্টের মাধ্যমে মৌলিক অধিকার বলবৎ করা যায়।
মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ১০২নং অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হয়েছে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতে তার এখতিয়ারে স্থানীয় সীমার মধ্যে কোর্ট কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য সকল বা যেকোনো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।
গ.
উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিফলন ঘটেছে।
বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন দুটি পর্যায়ে বিভক্ত। যেমন- গ্রামকেন্দ্রিক স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এবং নগরকেন্দ্রিক স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন। এর মধ্যে গ্রামকেন্দ্রিক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের অন্তর্গত ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক পর্যায়ের সর্বনিম্নে অবস্থিত। গ্রামীণ জনগণের সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে এলাকার সঠিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়েছে। এই ইউনিয়ন পরিষদ ১৩ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। উদ্দীপকেও এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যন, ৯ জন নির্বাচিত সদস্য ও ৩ জন সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত মহিলা সদস্যের কথা বলা হয়েছে। এখানে মূলত ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ একজন চেয়ারম্যান ও ১২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়, যার মধ্যে ৯ জন সাধারণ আসনের সদস্য ও ৩ জন সংরক্ষিত আসনের সদস্য। চেয়ারম্যান ও সাধারণ আসনের সদস্যগণ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য তিনটি আসন সংরক্ষিত থাকে। তবে উক্ত সংরক্ষিত আসনের সদস্যগণও প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। নয়টি সাধারণ আসনের সদস্য নির্বাচনে মহিলা প্রার্থীগণও অংশগ্রহণ করতে পারেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিষদের একজন সদস্য বলে গণ্য হন। ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করার জন্য একজন বেতনভুক্ত সচিব থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিফলন লক্ষণীয়।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের অংশগ্রহণ যত বৃদ্ধি পাবে গণতন্ত্রের ভিত ততো শক্তিশালী হবে- এ কথার সাথে আমি একমত।
বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ বা পল্লির জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্ব-শাসন প্রতিষ্ঠা, নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা, জবাবদিহিমূলক স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠা, শাসনব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটানো, সুশাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিষ্ঠানে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা হয় এবং গণতন্ত্রের ভিত আরো শক্তিশালী হয়। কেননা গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন। আর ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা। ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকান্ডে চেয়ারম্যান এবং মেম্বারগণকে সরাসরি জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হয়। স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ অনুসারে, প্রত্যেক ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে ওয়ার্ডসভা গঠিত হয়। এর বার্ষিক সভায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য বিগত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং আর্থিক সংশ্লেষসহ ওয়ার্ডের চলমান সকল উন্নয়ন কার্যক্রম উপস্থাপন করে। ওয়ার্ডসভার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করার বিধান রয়েছে। এর ফলে ওয়ার্ড পর্যায়ে জনগণের সম্পৃক্ততা ঘটে। ওয়ার্ড পর্যায়েই প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত এবং বাস্তবায়নযোগ্য স্কিম এবং উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রাধিকার নিরূপণ করার ফলে স্থানীয় জনগণ অধিকতর সচেতন হয়ে ওঠে। তাছাড়া বয়স্কভাতা, ভর্তুকিসহ বিভিন্ন ভাতা তাদেরকে কীভাবে দেওয়া হবে তা ওয়ার্ডসভাতে বসে ঠিক করা হয়। এছাড়াও যৌতুক, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, এসিড নিক্ষেপ, মাদকাসক্তি প্রভৃতি সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে ওয়ার্ডসভা আন্দোলন গড়ে তোলে এবং পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জনগণের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এ কথা বলা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। আর জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কাজে গতি আসবে, গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠ্য নিশ্চিত হবে।