Facebook Pixel

সকল যুগেই কৃষি ছিল মানুষের প্রাণ। কৃষির বিকল্প হিসেবে কখনো কিছু সৃষ্টি হয়নি। তাই সুলতান জামাল অনুধাবন করেছিলেন যে কৃষিই মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। তার রাজত্বকালে সেচব্যবস্থার অসুবিধা ছিল প্রকট। এজন্য তিনি পূর্ত বিভাগের অধীনে সেচ খাল খননের মহাপরিকল্পনা হাতে নেন। এ শাসককে তার দেশের সেচ ব্যবস্থার জনক বলেও অভিহিত করা হয়। ক. তুঘ্রিল খান কত খ্রিষ্টাব্দে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন? খ. মুহাম্মদ বিন তুঘলকের প্রতীক তাম্রমুদ্রা প্রচলনের ইতিহাস ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের সুলতান জামালের মাঝে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন শাসকের প্রভাব লক্ষণীয়? তার শাসন সংস্কারের ব্যাখ্যা দাও। ঘ. ভারতবর্ষে এ ধরনের একজন শাসকের রাজস্ব সংস্কার খুবই প্রশংসনীয়- মতামত দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ দিল্লি সুলতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬খ্রি.)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. তুলি খান ১২৭৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। খ. প্রতীক তাম্রমুদ্রার প্রচলন মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। রাজধানী স্থানান্তরের কিছুকাল পর এটি তার একটি নিরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। তার পিতার আমলে বা তার পূর্বেও সোনা ও ! রূপা মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তিনি দীর্ঘদিনের সোনা ও রূপার বদলে তাম্রমুদ্রার প্রচলন করেন। তিনি বিভিন্ন প্রকার মূল্যবান ধাতুর তুলনামূলক মূল্যমান নির্দিষ্ট করেন এবং বিভিন্ন রকম মুদ্রার প্রচলন করেন। তিনি দিনার নামে একটি নতুন স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেন। ২০০ গ্রেন বা রতি = ১ দিনার, ১০টি রুপার টক্কা = ১ দিনার, ১৪০ রৌপ্য = ১ আদালি, পূর্বে ১৭৫ রতি ওজনের রৌপ্য ও স্বর্ণ মুদ্রার প্রচলন ছিল। বিশিষ্ট মুদ্রা বিশেষজ্ঞ এন্ডওয়ার্ড থমাস মুহাম্মদ বিন তুঘলককে টাকা নির্মাতার রাজা হিসেবে অভিহিত করা হয়। গ. উদ্দীপকের সুলতান-জামালের মাঝে আমার পাঠ্যপুস্তকের ফিরোজ শাহ তুঘলকের প্রভাব লক্ষণীয়। ফিরোজ শাহ তুঘলক উদার শাসক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন। তিনি শাসনব্যবস্থার বহুবিধ সংস্কার প্রবর্তন করেন। তিনি উলামা ও অভিজাতশ্রেণির ক্ষোভ ও ষড়যন্ত্রের সাথে পূর্ব থেকে (মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে) পরিচিত ছিলেন। এজন্য তিনি সিংহাসনে আরোহণ করে উলামা ও অভিজাতদের পূর্বতন পদে ও গৌরবে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করেন। আলাউদ্দিন খলজি ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক উভয়ই জায়গির প্রথা বিলুপ্ত করতে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি জায়গির প্রথা ফিরিয়ে আনেন। সতীশ চন্দ্রের ভাষায়, "He decreed that whenever a noble died, his son should be allowed to succeed to his position, including his Iqta and if the had no son, his son-in- law and in his absence, his slave." অর্থাৎ তিনি ঘোষণা দেন যে, যখন কোনো অভিজাত মারা যাবে, তখন তার পুত্র ইকতার মালিক হবে। পুত্র না থাকলে তার জামাতা, জামাতা না থাকলে তার দাস উক্ত ইক্কার মালিক হবে। ফিরোজ শাহ অভিজাতদের ওপর দমনপীড়ন নীতি প্রত্যাহার করে নেন। অনেকের মতে, সুলতানের অভিজাত প্রীতি ছিল সুলতানি সাম্রাজ্যের ভাঙনের অন্যতম কারণ। ঈশ্বরীপ্রসাদ বলেন, "The welfare of the people was the watch ward to his administration." অর্থাৎ, জনকল্যাণকর তার শাসনব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল। তিনি সকল অবৈধ কর প্রত্যাহার করে নেন। তিনি শরিয়তভিত্তিক কর চালু করেন। ফিরোজ শাহ তুঘলকের জনকল্যাণমুখী শাসননীতির কারণে জনগণ সুখশান্তিতে বসবাস করতে সক্ষম হয়। সতীশচন্দ্র বলেন, "His reign was a period of peace and of quiet devolopment." অর্থাৎ, তার রাজত্বকাল ছিল সুখ-শান্তি ও উন্নয়নের যুগ। ঘ. ভারতবর্ষের এ ধরনের একজন শাসক অর্থাৎ ফিরোজ শাহ। তুঘলকের রাজস্ব সংস্কার খুবই প্রশংসনীয়। মুহাম্মদ বিন তুঘলক কৃষকদের তাকাভী ঋণ (অগ্রিম ঋণ/ধার) দিয়েছিলেন। কৃষকদের এ ঋণ পরিশোধের অক্ষমতা লক্ষ করে তাকাভী ঋণ ফিরোজ শাহ মাফ করে দেন। রাজকর্মচারীদের প্রতি কড়া নির্দেশ জারি করা হয় যে, তারা যেন কোনোভাবে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে না পারে। তাদের দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য সুলতান বেতন বৃদ্ধি করে দেন। সুলতান তার ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনেন। ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থায় খালিসা জমির হিসাব-নিকাশের ফলে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কে সুলতান রাজস্ব লাভ করতে থাকেন। তিনি শুরুতেই পূর্ববর্তী সুলতানের ২৪ ধরনের দমনমূলক কর প্রত্যাহার করে নেন। চারণ ভূমিকর, গৃহকর এই ২৪ প্রকার করের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পূর্বে উচ্চপদস্থ কর্মচারী নিয়োগ লাভের সময়ও প্রতিবছর সরকারকে অর্থ ও বিভিন্ন সুবিধা দিত। এর ফলে তারা জনগণের নিকট হতে এ বাড়তি অর্থ জোরপূর্বক আদায় করত। এতে জনসাধারণ সীমাহীন দুর্ভোগ করত। সুলতান উৎকোচের বিনিময়ে কর্মচারী নিয়োগ প্রথা বাতিল করে দেন। সুলতানের রাজস্বনীতির ভিত্তি ছিল ইসলামি আইন। তাই ইসলামি বিধানমতে, তিনি চার ধরনের কর নির্ধারণ করেন। সেগুলো হলো- খারাজ, যাকাত, জিজিয়া ও খুমস। খুমস হলো শত্রু সম্পত্তি। সে যুগে আবাদি জমিতে সেচ দেওয়ার তেমন ব্যবস্থা ছিল না। সুলতান বেশ কয়েকটি খাল খনন করেন। রাষ্ট্রীয় অর্থে খনন করা খাল হতে সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করায় সুলতান / ভাগ হারে কৃষকদের নিকট হতে সেচ কর আদায় করতেন। মূলত এ ছিল ফিরোজ শাহ তুঘলকের রাজস্ব সংস্কার।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সকল যুগেই কৃষি ছিল মানুষের প্রাণ। কৃষির বিকল্প হিসেবে কখনো কিছু সৃষ্টি হয়নি। তাই সুলতান জামাল অনুধাবন করেছিলেন যে কৃষিই মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। তার রাজত্বকালে সেচব্যবস্থার অসুবিধা ছিল প্রকট। এজন্য তিনি পূর্ত বিভাগের অধীনে সেচ খাল খননের মহাপরিকল্পনা হাতে নেন। এ শাসককে তার দেশের সেচ ব্যবস্থার জনক বলেও অভিহিত করা হয়।

ক.

তুঘ্রিল খান কত খ্রিষ্টাব্দে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন?

খ.

মুহাম্মদ বিন তুঘলকের প্রতীক তাম্রমুদ্রা প্রচলনের ইতিহাস ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের সুলতান জামালের মাঝে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন শাসকের প্রভাব লক্ষণীয়? তার শাসন সংস্কারের ব্যাখ্যা দাও।

ঘ.

ভারতবর্ষে এ ধরনের একজন শাসকের রাজস্ব সংস্কার খুবই প্রশংসনীয়- মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. কারাচিল কোথায় অবস্থিত? খ. মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তরের পরিকল্পনাটি ব্যাখ্যা কর। গ. উল্লিখিত ছকের মাধ্যমে...

ক. তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? খ. Blood & Iron Policy বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে "?" কোন শাসককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা ...

M একজন ক্রীতদাস হওয়া সত্ত্বেও তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দিয়ে প্রভুর মন জয় করেন। বিচক্ষণ এ রাজনীতিবিদ প্রভুর মৃত্যুর পর এক...

অনলাইন শপিং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অযোধ্যা গভর্নর কে ছিলেন?

'আইবেক' কোন ভাষার শব্দ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।