ক.
তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক।
খ.
রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের গৃহীত নিষ্ঠুর ও কঠোর পদক্ষেপই রক্তপাত ও কঠোর নীতি (Blood and Iron policy) নামে পরিচিত।
সিংহাসনে আরোহণ করেই বলবন নানা ধরনের সমস্যা সম্মুখীন হন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল আমির-ওমরাহ ও অভিজাত সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান ঔদ্ধত্য, দ্বন্দ্ব-কলহ ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপ, দিল্লির সন্নিকটস্থ মেওয়াটি দস্যুদের উপদ্রব, উপর্যুপরি মোজঙ্গল আক্রমণ প্রভৃতি। এসব সমস্যা সাম্রাজ্যের ভিতকে হুমকির সম্মুখীন করে তোলে। তাই নিজের ক্ষমতা সুসংহত করে সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি গুপ্তচর প্রথা চালু, বিচার ব্যবস্থার পুনর্গঠন, মোজঙ্গল নীতি প্রভৃতি বিষয়ে কঠোর ও নিষ্ঠুর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এগুলোই বলবনের 'রক্তপাত ও কঠোর নীতি' হিসেবে স্বীকৃত।
গ.
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খলজিকে নির্দেশ করা হয়েছে।
সুলতান আলাউদ্দিন খলজি দিল্লির সালতানাতের ইতিহাসে যুগান্তকারী অর্থনৈতিক সংস্কার ও বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি বিশাল সেনাবাহিনী রক্ষণাবেক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তার এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল কঠোর তদারকি এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কালোবাজারি বন্ধে মাল মজুদ না রাখা, প্রতিটি দ্রব্যের জন্য আলাদা বাজার স্থাপন এবং ব্যবসায়ীদের নাম রেজিস্ট্রিকরণ- এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মিল রয়েছে। তিনি শস্যের জন্য 'মান্ডি' এবং কাপড়ের জন্য 'সরাই-ই-আদল' নামক পৃথক বাজার স্থাপন করেছিলেন। ব্যবসায়ীদের 'দেওয়ান-ই-রিয়াসত' দপ্তরে নাম তালিকাভুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল এবং ওজনে কম দিলে বা মজুদদারি করলে কঠোর শাস্তির বিধান ছিল। উদ্দীপকের কার্যক্রমগুলো মূলত আলাউদ্দিন খলজিরই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিফলন।
ঘ.
সুলতান আলাউদ্দীন খলজি তার মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন- উক্তিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বল্প বেতনে একটি বিশাল ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী লালন করা এবং মুদ্রাস্ফীতি রোধ করে জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি কেবল পণ্যের দাম নির্ধারণ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তা কার্যকর করার জন্য একটি শক্তিশালী তদারকি কাঠামো ও গোয়েন্দা সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তার এই সংস্কার মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য ও বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকে বর্ণিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে সুলতান 'শাহনা-ই-মান্ডি' নামক বাজার পরিদর্শক এবং 'বারিদ' ও 'মুনহিয়ান' নামক গুপ্তচর নিয়োগ করেছিলেন। ব্যবসায়ীদের নাম রেজিস্ট্রি করা এবং সরকারি গুদামে শস্য মজুদ রাখা ছিল তার কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উদ্দীপকের 'কালোবাজারি বন্ধ' এবং 'ব্যবসায়ীদের নাম রেজিস্ট্রিকরণ' সরাসরি সুলতানের 'দেওয়ান-ই-রিয়াসত' বিভাগের কার্যাবলিকে নির্দেশ করে, যা বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখত। তিনি ওজনে কম দেওয়ার অপরাধে ব্যবসায়ীদের শরীর থেকে সমপরিমাণ মাংস কেটে নেওয়ার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছিলেন। এছাড়া দুর্ভিক্ষ বা জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় তিনি সরকারি শস্যভান্ডার গড়ে তুলেছিলেন, যা থেকে রেশন কার্ডের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করা হতো।
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলাউদ্দিন খলজির মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সফল হওয়ার পেছনে ছিল তার কঠোর শাসন ও নিয়মিত তদারকি। তার এই কঠোর ও নিপুণ ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘকাল দিল্লির বাজারে পণ্যের দাম এক পয়সাও বৃদ্ধি পায়নি।