Facebook Pixel

শ্রেণিশিক্ষক ছাত্রদের সাথে একজন বিখ্যাত ফিক্‌হবিদ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের সর্বাধিক সংখ্যক মুসলমান এ ফিক্হবিদের মতাদর্শের। কারণ তার উদ্ভাবিত ফিকহী মাসায়ালা অধিকতর গ্রহণযোগ্য ছিল। এরূপ একজন প্রখ্যাত ব্যক্তির জীবনাবসান হয়েছিল আব্বাসীয় শাসক আল মনসুরের প্রয়োগকৃত বিষক্রিয়ার মাধ্যমে। ক. মাযহাব কী? খ. “প্রতিটি বস্তুরই খুটি রয়েছে। আর দ্বীন ইসলামের খুঁটি হচ্ছে ফিক্হ।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর । গ. উদ্দীপকে কোন মাযহাবকে বোঝানো হয়েছে? এই মাযহাবের জনপ্রিয়তা অর্জনের কারণ ব্যাখ্যা কর । ঘ. শ্রেণিশিক্ষকের আলোচনায় উঠে আসা ফিক্‌হবিদের জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা কর।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ ফিকহশাস্ত্র

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. এমন উদ্ভূত সমস্যা যার সমাধান পবিত্র কুরআন ও হাদিসে সরাসরি নেই, তা সমাধানের জন্য মুজাহিদগণ তাদের সূক্ষ্ম গবেষণা প্রয়োগের মাধ্যমে কুরআন ও হাদিসের আলোকে যে অভিমত পেশ করেছেন তাদের সেসব ভিন্ন ভিন্ন অভিমতকে মাযহাব বলে । খ. খুঁটি হলো কোনো কিছুর ভিত্তিমূল। যার ওপর বস্তুটি প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাই খুঁটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাদিসেও ইলমে ফিকহকে ! দ্বীন ইসলামের খুঁটি বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফিকহশাস্ত্রের গুরুত্ব নির্দেশ করা হয়েছে। ইলমে ফিকহ পাঠ করলে ইসলামের মৌলিক, সূক্ষ্ম ও ক্ষুদ্রাতিত ক্ষুদ্র মাসয়ালাসমূহ জানা যায় এবং ইসলামি জীবনযাপন করা সহজ হয়। এ জ্ঞান অর্জন করতে পারলে নির্ভুলভাবে ইবাদাত-বন্দেগি করা যায়। তাই উক্ত হাদিসে ইলমে ফিক্‌হকে দ্বীন ইসলামের খুঁটি বলে এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গ. উদ্দীপকে হানাফি মাযহাবকে বোঝানো হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (র.) মাসয়ালা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইসতিহসান' অর্থাৎ জনকল্যাণের প্রতি গুরুত্ব দিতেন বিধায়, হানাফি মাযহাব অধিক জনপ্রিয় । ইমাম আবু হানিফা (র.) হানাফি মাযহাবের প্রবক্তা। তিনি প্রথম নিয়মতান্ত্রিক ফিকহশাস্ত্র প্রণয়ন করেন। তিনি ৪২ সদস্যের ফিকহ সংকলন পরিষদের মাধ্যমে কুতুবে হানাফিয়্যাহ প্রণয়ন করেন। এতে ৮৩ হাজার মাসায়ালা সন্নিবেশ করা হয়েছে। তার উদ্ভাবিত মাযহাব কুরআন, হাদিস, ইজমা, কিয়াস ও যৌক্তিক বিচারে অন্যান্য মাযহাবের = চাইতে অগ্রগণ্য। তাই মুসলিম দেশের সর্বাধিক সংখ্যক মুসলমান এ মাযহাবেরই অনুসারী। সর্বসাধারণের সুবিধা ও সহজীকরণের জন্য তিনি ইসতিহসান'-এর প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মনে 1 করতেন, বাহ্যিকতা ও কঠোরতার চেয়ে 'ইসতিহসান'-এর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া বেশি কল্যাণকর। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে হানাফি মাযহাবের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ মাযহাব জনসাধারণের জন্য সহজ ও কল্যাণকর বিধায় অধিক জনপ্রিয়। ঘ. শ্রেণিশিক্ষকের আলোচনায় প্রসিদ্ধ ফিকহশাস্ত্রবিদ ইমাম আৰু হানিফা (র.)-এর কথা বলা হয়েছে। তাঁর জীবন ও কর্ম ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইমাম আবু হানিফা (র) হিজরি ৮০ সন মোতাবেক ৬৯৯ মতান্তরে ৭০০ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের বিখ্যাত কুফা নগরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তাঁর পিতা মারা যান। সন্তানের লালন-পালন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাঁর মা হযরত ইমাম জাফর আস সাদিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ফলে সেখানেই ইমামের শৈশবকাল অতিবাহিত হয় । ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) ফিক্‌হশাস্ত্রে অদ্বিতীয় পণ্ডিত ছিলেন। ফিক্‌হশাস্ত্র ছাড়াও ইলমে হাদিস, ইলমে কালাম, ইলমে বালাগাত, ইলহে নাহু, ইলমে সরফ, ইলমে তাফসির প্রভৃতি বিষয়ে তিনি গভীর পান্ডিত্য অর্জন করেন। পিতার কাপড়ের ব্যবসায়ের মধ্য দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। নগরে-বন্দরে বিভিন্ন স্থানে তিনি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। সেকালে তাঁর সমপর্যায়ের ধনী খুব কমই ছিল। নিজস্ব এ অর্থানুকূল্যের দরুন তিনি সে সময়ে সামাজিক ও কল্যাণমূলক এবং বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। ইমাম আবু হানিফা (র.) সর্বপ্রথম ইলমে ফিক্‌হ সংকলনের মাধ্যমে এবং তা সর্বাধিক যুক্তিযুক্ত ও শক্তিশালী দলিলের ভিত্তিতে স্থাপন করায় দলে দলে লোকজন তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণ করতে থাকে। তাঁর মাযহাবের নাম হয় হানাফি মাযহাব। উল্লেখ্য, এ মাযহাব শক্তিশালী ও যুক্তিযুক্ত বলেই বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ মুসলমান এ মাযহাবের অনুসারী। উদ্দীপকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বলেন যে, পৃথিবীতে অধিকাংশ মুসলিম হানাফি মাযহাবের অনুসারী। কারণ, আবু হানিফার উদ্ভাবিত মাসয়ালা ছিল অধিকতর গ্রহণযোগ্য। ১৫০ হিজরি মোতাবেক ৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা মানসুর কর্তৃক বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে এ মহান ব্যক্তির জীবনাবসান ঘটে। বাগদাদের খাইযরান নামক স্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয় । সুতরাং তাঁর জীবন ও কর্ম ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

শ্রেণিশিক্ষক ছাত্রদের সাথে একজন বিখ্যাত ফিক্‌হবিদ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের সর্বাধিক সংখ্যক মুসলমান এ ফিক্হবিদের মতাদর্শের। কারণ তার উদ্ভাবিত ফিকহী মাসায়ালা অধিকতর গ্রহণযোগ্য ছিল। এরূপ একজন প্রখ্যাত ব্যক্তির জীবনাবসান হয়েছিল আব্বাসীয় শাসক আল মনসুরের প্রয়োগকৃত বিষক্রিয়ার মাধ্যমে।

ক. মাযহাব কী?

খ. “প্রতিটি বস্তুরই খুটি রয়েছে। আর দ্বীন ইসলামের খুঁটি হচ্ছে ফিক্হ।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর ।

গ. উদ্দীপকে কোন মাযহাবকে বোঝানো হয়েছে? এই মাযহাবের জনপ্রিয়তা অর্জনের কারণ ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. শ্রেণিশিক্ষকের আলোচনায় উঠে আসা ফিক্‌হবিদের জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

আব্দুস সালাম প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট মাসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকেন। মাগরিবের সময় অনেক মেহমান নিয়ে একসা...

আমিন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয় নিয়ে কুরআন ও হাদিস থেকে গবেষণালব্ধ এবং উদ্ভাবিত ইসলামের ব্যাবহারিক...

‘ইমাম আজম’ কার উপাধি?

ইমাম আবু হানিফা (র) জন্মগ্রহণ করেন-

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত পাও...

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত . সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত প...

উমাইয়া খিলাফতের সময়েই ফিকহ শাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত করার জন্য কাজ শুরু করেন এক মহান ব্যক্তি, যাকে ইমাম আযম বলা হয়। খলিফা ...

ক. ফিকহশাস্ত্রের মূল উৎস কয়টি? খ. ইমাম শাফেয়ি (র)-একজন শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ — ব্যাখ্য করো। গ. চিত্রে 'Y' চিহ্নিত করে ব্যাখ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।