Facebook Pixel

শিলমুরি এলাকার লোকজন বিশেষ নিয়মে ভাত পচিয়ে খায় যাতে নেশা তৈরি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন এ বিষয়ে ইমামকে জিজ্ঞেস করেন। ইমাম সাহেব বললেন, নেশা তৈরির কারনে পবিত্র কুরআনে মদকে হারাম করা হয়েছে। তাই একই কারণে ভাত পচিয়ে খাওয়া হারাম সাব্যস্ত হবে। অনেকে ইমামের কথা মানলেও কিছু অবাধ্য লোক বলল, "যেহেতু তা কুরআন হাদিসে সরাসরি নেই, তা আমরা মানব না।" ক. জাকাত কাকে বলে? খ. মাযহাব চারটির মধ্যে সীমাবদ্ধ কেন? ব্যাখা করো। গ. ইমাম সাহেবের প্রণীত বিধানটি ইসলামের কোন বিধানের আওতায় পড়ে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে শিলমুরি এলাকার অবাধ্য লোকদের উক্তির সাথে তুমি কি একমত? দলিলসহ তোমার মতামত ব্যক্ত করো।

বিষয়: ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ ফিকহশাস্ত্র

উৎস: Test Exam Question 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ, অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য অথবা তার সমপরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলিম ব্যক্তির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বছরান্তে শরিয়ত নির্ধারিত আটটি খাতের যে কোনো একটি খাতে প্রদান করাকে জাকাত বলে। খ. মাযহাব মূলত চারটি প্রসিদ্ধ ইমামের ইজতিহাদ বা গবেষণালব্ধ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।ইসলামি শরীয়তের বিধি-বিধান পালনের ক্ষেত্রে অসংখ্য মুজতাহিদ বা গবেষক থাকলেও ইমাম আবু হানিফা (র), ইমাম মালিক (র), ইমাম শাফেয়ি (র) ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (র)-এর গবেষণালব্ধ মাসয়ালাগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সংকলিত ও সংরক্ষিত হয়েছে। তাঁদের অনুসারীগণ এই পদ্ধতিগুলো প্রচার ও প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। কালক্রমে অন্যান্য মুজতাহিদদের মাযহাব বা মতবাদগুলো যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়, ফলে এই চারটি মাযহাবই বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। গ. উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের প্রণীত বিধানটি ইসলামের চতুর্থ উৎস 'কিয়াস'-এর আওতায় পড়ে।কিয়াস শব্দের অর্থ পরিমাপ করা, তুলনা করা বা অনুমান করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় কুরআন ও সুন্নাহর মূলনীতির আলোকে কোনো নতুন সমস্যার সমাধান বের করার জন্য সমজাতীয় কোনো বিষয়ের সাথে তুলনা করে বিধান প্রদান করাকে কিয়াস বলে। কিয়াসের মূল ভিত্তি হলো 'ইল্লত' বা কারণ। অর্থাৎ যে কারণে একটি বিষয় হারাম হয়েছে, সেই একই কারণ অন্য কোনো নতুন বিষয়ে পাওয়া গেলে সেটিও হারাম সাব্যস্ত হবে।উদ্দীপকে দেখা যায়, শিলমুড়ি এলাকার লোকজন ভাত পচিয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য তৈরি করে খাচ্ছে। পবিত্র কুরআনে মদকে হারাম করা হয়েছে কারণ এটি নেশা তৈরি করে এবং মানুষের হিতাহিত জ্ঞান লোপ করে। ইমাম সাহেব লক্ষ্য করলেন যে, ভাত পচিয়ে খাওয়ার ফলেও নেশা তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ মদের হারামের কারণ (নেশা) এখানেও বিদ্যমান। তাই তিনি কিয়াসের ভিত্তিতে মদ হারামের বিধানটি ভাত পচিয়ে খাওয়ার ওপর প্রয়োগ করেছেন। যেহেতু কুরআন ও হাদিসে সরাসরি 'ভাত পচিয়ে খাওয়া'র কথা উল্লেখ নেই, তাই যৌক্তিক তুলনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই হলো কিয়াস। ঘ. উদ্দীপকে শিলমুড়ি এলাকার অবাধ্য লোকদের উক্তির সাথে আমি একমত নই।ইসলামি শরিয়তের বিধান কেবল কুরআন ও হাদিসের আক্ষরিক শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর উৎস চারটি- কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস। কোনো সমস্যার সমাধান সরাসরি কুরআন ও হাদিসে পাওয়া না গেলে ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে তার সমাধান করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। তাই 'সরাসরি নেই' বলে কোনো বিধান প্রত্যাখ্যান করা শরিয়তসম্মত নয়।উদ্দীপকের অবাধ্য লোকগুলো দাবি করেছে যে, ভাত পচিয়ে খাওয়ার বিষয়টি কুরআন-হাদিসে সরাসরি নেই বলে তারা তা মানবে না। তাদের এই ধারণা ভুল, কারণ রাসুল (স) মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা)-কে যখন ইয়ামেনে পাঠান, তখন তিনি কুরআন ও হাদিসে সমাধান না পেলে নিজের বিবেক-বুদ্ধি বা ইজতিহাদ প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছিলেন। ইমাম সাহেব এখানে সেই ইজতিহাদ বা কিয়াসের মাধ্যমেই সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।কিয়াস ইসলামি আইনকে গতিশীল রাখে। যদি কেবল সরাসরি নাম উল্লেখ থাকা বিষয়গুলোই হারাম হতো, তবে বর্তমান যুগের অনেক আধুনিক মাদকদ্রব্যকেও বৈধ বলার সুযোগ তৈরি হতো, যা ইসলামের মূল চেতনার পরিপন্থি। রাসুল (স) বলেছেন, 'প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই মদ, আর প্রত্যেক মদই হারাম' (সহিহ মুসলিম)। এই মূলনীতি অনুযায়ী ভাত পচিয়ে তৈরি নেশাজাতীয় দ্রব্যও হারামের অন্তর্ভুক্ত। তাই অবাধ্য লোকদের উক্তিটি অজ্ঞতাপ্রসূত এবং এটি সমাজে বিশৃঙ্খলা ও নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনবে। তাই তাদের এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা (2026)

শিলমুরি এলাকার লোকজন বিশেষ নিয়মে ভাত পচিয়ে খায় যাতে নেশা তৈরি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন এ বিষয়ে ইমামকে জিজ্ঞেস করেন। ইমাম সাহেব বললেন, নেশা তৈরির কারনে পবিত্র কুরআনে মদকে হারাম করা হয়েছে। তাই একই কারণে ভাত পচিয়ে খাওয়া হারাম সাব্যস্ত হবে। অনেকে ইমামের কথা মানলেও কিছু অবাধ্য লোক বলল, "যেহেতু তা কুরআন হাদিসে সরাসরি নেই, তা আমরা মানব না।"

ক. জাকাত কাকে বলে?

খ. মাযহাব চারটির মধ্যে সীমাবদ্ধ কেন? ব্যাখা করো।

গ. ইমাম সাহেবের প্রণীত বিধানটি ইসলামের কোন বিধানের আওতায় পড়ে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে শিলমুরি এলাকার অবাধ্য লোকদের উক্তির সাথে তুমি কি একমত? দলিলসহ তোমার মতামত ব্যক্ত করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

অধ্যাপক আফতাব ইসলাম শিক্ষার পাঠদানকালে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ইসলামকে সহজ করতে মুজতাহিদগণ এর যাবতীয় বিধিবিধান কুরআন,...

আব্দুস সালাম প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট মাসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকেন। মাগরিবের সময় অনেক মেহমান নিয়ে একসা...

আমিন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয় নিয়ে কুরআন ও হাদিস থেকে গবেষণালব্ধ এবং উদ্ভাবিত ইসলামের ব্যাবহারিক...

‘ইমাম আজম’ কার উপাধি?

ইমাম আবু হানিফা (র) জন্মগ্রহণ করেন-

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত পাও...

ইসলামি আইনকানুন ও ইবাদাত সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়সমূহ ব্যতীত . সেগুলোর শাখা-প্রশাখাতে মুসলিম আইন বিশারদগণের বিভিন্ন মতামত প...

উমাইয়া খিলাফতের সময়েই ফিকহ শাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত করার জন্য কাজ শুরু করেন এক মহান ব্যক্তি, যাকে ইমাম আযম বলা হয়। খলিফা ...

ক. ফিকহশাস্ত্রের মূল উৎস কয়টি? খ. ইমাম শাফেয়ি (র)-একজন শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ — ব্যাখ্য করো। গ. চিত্রে 'Y' চিহ্নিত করে ব্যাখ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।