Facebook Pixel

শিক্ষক ক্লাসে খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে আলোচনায় বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে কিছু এলাকা রয়েছে। সেখানকার মানুষ তিনবেলা খেতে পেত না। এখন তারা পর্যাপ্ত খাবার পেলেও সেটা স্বাস্থ্যকর। কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বা ভেজাল খাবার খেলে মানুষের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়, কর্মক্ষমতা কমে যায়, এমনকি পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এটি নির্মূল করতে সরকার BSTI ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ আরো বিভিন্নমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ক. খাদ্য নিরাপত্তা বলতে কী বুঝ ? খ. নিরাপদ খাদ্যের সাথে খাদ্য নিরাপত্তার সম্পর্ক কী? গ. নিরাপদ খাদ্যের অভাবে মানুষের কী কী সমস্যা হয়? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে আর কী কী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ খাদ্য নিরাপত্তা

উৎস: Board Exam Question BB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) খাদ্য নিরাপত্তা বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে দেশের সকল মানুষ সব সময় তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত, পুষ্টিকর এবং নিরাপদ খাদ্য সংগ্রহের সক্ষমতা রাখে। (খ) নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। নিরাপদ খাদ্য বলতে সেই খাদ্যকে বোঝায়, যা উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত কোনোভাবে দূষিত হয় না এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। অন্যদিকে, খাদ্য নিরাপত্তা হলো নির্ভরযোগ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের পর্যাপ্ত যোগান যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে। বেঁচে থাকার জন্য কেবল খাদ্যের প্রাপ্যতা বা পরিমাণ নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই খাদ্যটি হতে হবে ভেজালমুক্ত ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন। অর্থাৎ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত না হলে প্রকৃত অর্থে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন সম্ভব নয়। (গ) নিরাপদ খাদ্যের অভাবে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটে, যা সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানকে নিম্নগামী করে। অনিরাপদ বা ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, কিডনি বিকল হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ভেজাল খাদ্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়, যা পরোক্ষভাবে উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ এখন পর্যাপ্ত খাবার পেলেও তা স্বাস্থ্যকর কি না তা নিশ্চিত নয়। যদি তারা অনিরাপদ বা ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করে, তবে তাদের স্বাস্থ্য নষ্ট হবে, পুষ্টিহীনতা দেখা দেবে এবং কর্মক্ষমতা কমে যাবে। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান আরও খারাপ হবে। সুতরাং, কেবল খাদ্যের পরিমাণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি। (ঘ) উদ্দীপকের আলোকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং জনগণের সমন্বিত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। নিচে এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হলো: ১. সরকারি পদক্ষেপ: সরকার বর্তমানে BSTI এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভেজাল প্রতিরোধ করছে। এর পাশাপাশি খাদ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ভেজালবিরোধী আইনগুলোকে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং নিয়মিত বাজার তদারকি বাড়াতে হবে। ২. বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা: এনজিওগুলো সাধারণ মানুষকে ভেজাল খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে পারে। তারা প্রান্তিক পর্যায়ে পুষ্টি শিক্ষা প্রদান এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে। এছাড়া ভেজালবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। ৩. জনগণের সচেতনতা: নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে জনগণের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভোক্তারা সচেতন হলে তারা ভেজাল পণ্য বর্জন করবে, যা বিক্রেতাদের ভেজাল দিতে নিরুৎসাহিত করবে। এছাড়া সুপেয় পানি ব্যবহার, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে খাদ্য দূষণ রোধ করা সম্ভব। কৃষকদের রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিমিত ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সরকার, এনজিও এবং সচেতন জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য এবং প্রকৃত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2019)

শিক্ষক ক্লাসে খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে আলোচনায় বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে কিছু এলাকা রয়েছে। সেখানকার মানুষ তিনবেলা খেতে পেত না। এখন তারা পর্যাপ্ত খাবার পেলেও সেটা স্বাস্থ্যকর। কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বা ভেজাল খাবার খেলে মানুষের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়, কর্মক্ষমতা কমে যায়, এমনকি পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এটি নির্মূল করতে সরকার BSTI ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ আরো বিভিন্নমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ক. খাদ্য নিরাপত্তা বলতে কী বুঝ ? খ. নিরাপদ খাদ্যের সাথে খাদ্য নিরাপত্তার সম্পর্ক কী? গ. নিরাপদ খাদ্যের অভাবে মানুষের কী কী সমস্যা হয়? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে আর কী কী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A দেশের জনগণ অতি দরিদ্র। খাদ্যসামগ্রীও প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প। A দেশে প্রতিবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রচুর ফসলহানি হয়। কি...

BSTI-এর পূর্ণরূপ কী?

TCB-এর পূর্ণরূপ হলো—

আদর্শ খাদ্য বলতে কোন খাদ্য বোঝায়?

আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের সংস্থান দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার অভ্যন...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : আমির সাহেব সেমিনারে আলোচনাকালে বলেন, বাংলাদেশে জনগণ নিরাপদ খাদ্যের অভাবে ক্যান্সার,...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : আমির সাহেব সেমিনারে আলোচনাকালে বলেন, বাংলাদেশে জনগণ নিরাপদ খাদ্যের অভাবে ক্যান্সার,...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। এ ধরনের খাদ্য জনস...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। এ ধরনের খাদ্য জনস...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দিনমজুর ময়না মিয়া বাজারে খাদ্যদ্রব্যের যথেষ্ট যোগান দেখে খুশি হন । কিন্তু তিনি যে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।