ক.
নগরায়ণ হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা গ্রাম ছেড়ে শহরে বসতি স্থাপন করে।
খ.
শিল্প দুর্ঘটনা বলতে শিল্পক্ষেত্রে দুর্ঘটনাকে বোঝায়। শিল্পায়নের ফলে শ্রমিকশ্রেণি যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হতে শুরু করে। ফলে তারা পেশাগত বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অকালমৃত্যু, বিকলাঙ্গতা ও কর্মক্ষমতা হারিয়ে আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। শিল্প দুর্ঘটনা বলতে এ অবস্থাকে বোঝানো হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত দিপু ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন অনুযায়ী 'নির্ভরশীল শিশু' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য দরিদ্র ও ভবঘুরেদের তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যথা- সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র ও নির্ভরশীল শিশু। এতিম, বেওয়ারিশ এবং যেসব শিশুকে। তাদের পিতামাতা পরিত্যাগ করত কিংবা যেসব পিতামাতা তাদের ভরণপোষণ করতে পারত না সেসব শিশুকে নির্ভরশীল শিশু বলা হতো। উদ্দীপকে দিপু অনাথ হওয়ায় এইশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এসব শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থাস্বরূপ আইনে উল্লেখ ছিল-
ক. নির্ভরশীল বালক-বালিকাদের যদি কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করার ইচ্ছা পোষণ করত তাহলে ওই ব্যক্তির আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনাপূর্বক নির্ভরশীল বালক-বালিকাদের দত্তক হিসেবে প্রেরণ করা হতো।
খ. এভাবে কোনো ব্যক্তি যদি তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ না করত তাহলে তাদের স্বল্প খরচে ভরণপোষণের ব্যবস্থা করত রাষ্ট্র, যা Lowest bidder নামে অধিক পরিচিত।
গ. যেসব বালক-বালিকার বয়স ৮-১২ বছরের মধ্যে হতো তাদেরকে 'শিক্ষানবিস হিসেবে সচ্ছল নাগরিকদের কাছে চুক্তির মাধ্যমে প্রেরণ করা হতো। এ চুক্তি অনুযায়ী ছেলেরা ২৪ বছর পর্যন্ত এবং মেয়েরা ২১ বছর পর্যন্ত তার মনিবের গৃহে কাজ করতে হতো। এভাবে এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনে দরিদ্র বালক-বালিকাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হতো।
অতএব বলা যায়, ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন অনুযায়ী দিপু নির্ভরশীল শিশু শ্রেণির দরিদ্র বলে বিবেচিত।
ঘ.
দিপু ছাড়াও উদ্দীপকে বর্ণিত অপর শ্রেণি হচ্ছে কদম আলী ও তার ভিক্ষুক দলের শারীরিক এবং বাকপ্রতিবন্ধী চার সদস্য। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি এই শ্রেণির দরিদ্রদের জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে আমি মনে করি।
১৬০১ সালের দরিদ্র আইন অনুযায়ী কদম আলী সক্ষম এবং তার দলের চার সদস্য অক্ষম দরিদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সবল ও কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সক্ষম দরিদ্র বলা হতো। এদের ভিক্ষাদান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। সক্ষম দরিদ্রদের শ্রমাগারে অথবা সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। রুগ্ন, বৃদ্ধ, পঙ্গু, বধির, অন্ধ এবং সন্তানাদিসহ বিধবা যারা কাজ করতে সক্ষম নয় তারাই অক্ষম দরিদ্রদের পর্যায়ভুক্ত। অক্ষম দরিদ্রদের দরিদ্রাগারে রেখে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হতো। যদি এসব অক্ষম দরিদ্রকে কোনো গৃহে বা আশ্রয়স্থলে রেখে কম খরচে ভরণপোষণ সম্ভব হতো। সেক্ষেত্রে তাদের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য, বস্ত্র, জ্বালানি ইত্যাদি বাহ্যিক সাহায্য দেওয়া হতো। মূলত অক্ষম দরিদ্রদের ভরণপোষণের সার্বিক দায়িত্ব সরকার বহন করত। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন ইংল্যান্ড তথা সারা বিশ্বের দরিদ্রদের সাহায্যার্থে ও কল্যাণে গৃহীত প্রথম পরিকল্পিত আইনগত পদক্ষেপ। এ আইনে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল, যা উদ্দীপকে নির্দেশিত অপর শ্রেণির দরিদ্রদের ভাগ্যোন্নয়নে ফলপ্রসূ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছিল। এ শ্রেণির দরিদ্রদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দারিদ্র্য নিরসনের পদক্ষেপ এবং কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে সমাজকর্মের ইতিহাসে আইনটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এ আইন দরিদ্র জনগণের তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক ও বাসস্থানজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। এ আইনের অধীনে দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসনে বিভিন্ন কর্মসূচি সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। স্থানীয় পর্যায়ে অসহায় ও ভবঘুরে ব্যক্তিদের সাহায্যার্থে সরকারিভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় লোকেরাও যেন এ শ্রেণির দরিদ্রদের সেবায় এগিয়ে আসতে পারে সে লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে এবং ত্রাণ সহায়তা, পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা ও দরিদ্র কর আরোপের মাধ্যমে এদের সুন্দর জীবনযাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সর্বোপরি ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়।