Facebook Pixel

শ্রেণিকক্ষে সুমন স্যার বললেন, মানুষ জন্মায়, বেঁচে থাকে আবার মারাও যায়। আসাদ বলে, এটিই প্রকৃতির নিয়ম। নাবিলা বলে, আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই প্রকৃতির নিয়মের অনুসারী। মিথিলা বলে, মানুষের মত উদ্ভিদ জন্ম নেয়। মানুষ টেলিভিশন আবিষ্কার করেছে। সুতরাং উদ্ভিদও টেলিভিশন আবিষ্কার করে। ক. আরোহ কী? খ. কোন ধরনের আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়? গ. সুমন স্যার ও আসাদের বক্তব্যে কোন ধরনের আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত নাবিলা আর মিথিলার বক্তব্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ আরোহের প্রকারভেদ

উৎস: Board Exam Question DB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যে অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে আরোহ (Induction) বলে। খ. বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। আমরা জানি, বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নীতির ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপনের প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির দুটি মৌলিক নীতি; যথা- কার্যকরণ ও প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ কারণে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। গ. সুমন স্যার ও আমাদের বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক আরোহকে (Scientific Induction) নির্দেশ করে। যে আরোহ অনুমানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে বিশেষ দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। যেমন- মনি, ফয়সাল ও সুমনের মরণশীলতা প্রত্যক্ষ করে সকল মানুষের মরণশীলতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রক্রিয়াই হলো বৈজ্ঞানিক আরোহ। বস্তুত বৈজ্ঞানিক আরোহে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করা হয় এবং কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। উল্লেখ্য, প্রকৃত অনুমানের তিনটি প্রকারভেদের মধ্যে একমাত্র বৈজ্ঞানিক আরোহেই কার্যকারণ নিয়ম অনুসরণ করা হয়। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত নাবিলা আর মিথিলার বক্তব্যে যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক আরোহ ও সাদৃশ্যমানুমানের প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে এ দুটি আরোহের মধ্যে তুলনামূলক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো- বৈজ্ঞানিক আরোহ হলো প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক দৃষ্টান্তে পৌঁছার একটি প্রক্রিয়া। বস্তুত এই অনুমান প্রক্রিয়ায় প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়মের ওপর অধিক জোর দেওয়া হয়। যেমন- উদ্দীপকের নাবিলা বলে, আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই প্রকৃতির নিয়মের অনুসারী। অর্থাৎ প্রকৃতি একই অবস্থায় সর্বদা অভিন্ন আচরণ করে থাকে। এ কারণেই বৈজ্ঞানিক আরোহের মাধ্যমে রহিম, করিম, সুমনের মৃত্যুর ঘটনা থেকে 'সকল মানুষ হয় মরণশীল' এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়। অন্যদিকে, যে অনুমান প্রক্রিয়ায় দুটি বস্তু বা ঘটনার মৌলিক ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে সাদৃশ্যানুমান (Analogy) বলে। সাদৃশ্যানুমানে কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো ভিত্তি নেই। যেমন- উদ্দীপকের মিথিলা বলে, মানুষের মতো উদ্ভিদও জন্ম নেয়। মানুষ টেলিভিশন আবিষ্কার করেছে। সুতরাং, উদ্ভিদও টেলিভিশন আবিষ্কার করে। অর্থাৎ এখানে বাহ্যিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বিধায় এটি একটি সাদৃশ্যানুমানের দৃষ্টান্ত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)

শ্রেণিকক্ষে সুমন স্যার বললেন, মানুষ জন্মায়, বেঁচে থাকে আবার মারাও যায়। আসাদ বলে, এটিই প্রকৃতির নিয়ম। নাবিলা বলে, আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই প্রকৃতির নিয়মের অনুসারী। মিথিলা বলে, মানুষের মত উদ্ভিদ জন্ম নেয়। মানুষ টেলিভিশন আবিষ্কার করেছে। সুতরাং উদ্ভিদও টেলিভিশন আবিষ্কার করে।

ক.

আরোহ কী?

খ.

কোন ধরনের আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়?

গ.

সুমন স্যার ও আসাদের বক্তব্যে কোন ধরনের আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত নাবিলা আর মিথিলার বক্তব্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।