Facebook Pixel

শুধু সাম্রাজ্য বিস্তারের মাধ্যমে নয় আরবদের শ্রেষ্ঠত্বকে সমগ্র সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে জনৈক খ্যাতিমান শাসক সর্বক্ষেত্রে আরবীয়করণ করার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি আরবিকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দান, আরবি বর্ণমালার সংস্কার এবং আরবি মুদ্রার প্রচলন করেন। ভাষা ও সংস্কৃতির তীক্ষ্ণতা যে কখনো কখনো তরবারিকে ছাড়িয়ে যায় উক্ত শাসকের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ক. কোন মুসলিম খলিফা সর্বপ্রথম নৌ বাহিনী গঠন করেন? খ. কুব্বাত-আস-সাখরা কী? গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত, শাসকের গৃহীত আরবীয়করণ নীতি পর্যালোচনা কর। ঘ. মুসলিম খিলাফতের স্থায়িত্বের পিছনে উক্ত নীতির প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুয়াবিয়া মুসলিম খলিফা সর্বপ্রথম নৌ বাহিনী গঠন করেন। খ. কুব্বাত-আস-সাখরা (Qubbat aṣ-Ṣakhra), যা ইংরেজিতে "Dome of the Rock" নামে পরিচিত, জেরুজালেমের পুরনো শহরের হারাম আশ-শরীফ (Temple Mount) বা আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি ইসলামী ধর্মীয় স্থাপনা। এটি ইসলামী স্থাপত্যের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, যা ৬৯১-৬৯২ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আব্দ আল-মালিকের আদেশে নির্মিত হয়েছিল । গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত শাসক হলে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করে আরবীয়করণ নীতি গ্রহণ করেন। উমাইয়া বংশের মারওয়ানি শাখার প্রতিষ্ঠাতা মারওয়ান-এর যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে তার পুত্র আব্দুল মালিক ক্ষমতাসীন হয়। তিনি সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে এনে সুষ্ঠু ও স্থায়ী শাসননীতি প্রণয়ন করেন। আরবি ভাষাকে সরকারি ভাষায় রূপান্তরকরণ তার সর্বপ্রধান কৃতিত্ব। ৬৯৩ খ্রিষ্টাব্দে আব্দুল মালিক সালিক বিন আব্দুর রহমান নামে জনৈক পারসিক মুসলিমের পরামর্শে সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এতে আরবি ভাষার ব্যাপক উন্নতি হয়। আরবি ভাষা জানা ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে চাকরি হয়। আরবি বর্ণমালার লিখন ও উচ্চারণ পদ্ধতির উন্নতি সাধন ছিল তার দ্বিতীয়, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। ইতোপূর্বে আরবি বর্ণমালার ত্রুটি ছিল। হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সহযোগিতায় আব্দুল মালিক জবর, জের, পেশ, নোকতা প্রবর্তন করেন। এর ফলে আরবি ভাষা পূর্ণতা পায়। ৬৯৫ খ্রিস্টাব্দে আব্দুল মালিক দামেস্কে জাতীয় টাকশাল স্থাপন করেন। ৬৯৬ খ্রিষ্টাব্দে হাজ্জাজ কুফায় টাকশাল নির্মাণ করে রৌপ্যমুদ্রা চালু করেন। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। হযরত মুয়াবিয়ার আমলে ডাক বিভাগের সৃষ্টি হয়। আব্দুল মালিক এ ডাক বিভাগের ব্যাপক সংস্কার করেন। এ ডাক সেবা চালু করতে তিনি পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ঘোড়া কাজে লাগান। অতএব উদ্দীপকে নির্দেশিত শাসক হলেন আব্দুল মালিক। ঘ. উদ্দীপকের আলোচিত খলিফা আব্দুল মালিকের আরবীয়করণ নীতির প্রভাব মুসলিম খিলাফতের স্থায়ীত্ব পিছনে অপরিসীম। যদিও খলিফা আব্দুল মালিকের আরবীয়করণ নীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু তার খিলাফতে এর কোনো সম্ভাবনা দেখা দেয়নি। আব্দুল মালিকের আরবীয়করণ নীতির কারণে আরবি ভাষার বাইরের ভাষাভাষী যেমন- পারসিক, পাবি, কিবতি প্রভৃতি ভাষার পারদর্শী অমুসলিমরা সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি লাভ করে। কারণ তখন আঞ্চলিক ভাষা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ায় তাদের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়। তাদের স্থলে আরবিভাষী মুসলমানরা স্থান দখল করে নেয়। এর ফলে গোটা মুসলিম সাম্রাজ্যে অসংখ্য অমুসলমান চাকরিচ্যুত হয়ে পড়ে পড়ে। এ চাকরিচ্যুত অসংখ্য অমুসলিমরা আব্দুল মালিকের বিপক্ষে বিদ্রোহ করতে পারত। তাতে সাম্রাজ্যে এক ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়ে গিয়েছিল। কারণ এতে অনারব ও অমুসলিমগণ চাকরিচ্যুত হয়েছিল। আমাদের দেশে মাতৃভাষা হিসেবে উর্দু ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে এ অঞ্চলের জনতা যেভাবে বিক্ষোভ করে মাতৃভাষার মর্যাদাকে রক্ষা করেছিল তেমন আন্দোলন আব্দুল মালিকের আমলেও হতে পারত। তবে তার সুযোগ্য সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে এমনটি হয়নি। বস্তুত আব্দুল মালিকের আরবীয়করণ ছিল তার আরব জাতীয়তাবাদী নীতির প্রতিফলন। পরিশেষে বলা যায়, আব্দুল মালিকের আরবীয়করণ নীতির ফলে মুসলিম খিলাফত তথা উমাইয়া খিলাফতের স্থায়িত্বের পিছনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শুধু সাম্রাজ্য বিস্তারের মাধ্যমে নয় আরবদের শ্রেষ্ঠত্বকে সমগ্র সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে জনৈক খ্যাতিমান শাসক সর্বক্ষেত্রে আরবীয়করণ করার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি আরবিকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দান, আরবি বর্ণমালার সংস্কার এবং আরবি মুদ্রার প্রচলন করেন। ভাষা ও সংস্কৃতির তীক্ষ্ণতা যে কখনো কখনো তরবারিকে ছাড়িয়ে যায় উক্ত শাসকের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

ক.

কোন মুসলিম খলিফা সর্বপ্রথম নৌ বাহিনী গঠন করেন?

খ.

কুব্বাত-আস-সাখরা কী?

গ.

উদ্দীপকে নির্দেশিত, শাসকের গৃহীত আরবীয়করণ নীতি পর্যালোচনা কর।

ঘ.

মুসলিম খিলাফতের স্থায়িত্বের পিছনে উক্ত নীতির প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Father of Kings বলা হয় কাকে?

ক. মুয়াবিয়ার শাসনকালে ডাক বিভাগকে কী বলা হতো? খ. কারবালার হত্যাকাণ্ডকে বিষাদময় ঘটনা বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে...

ক. উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী? খ. কাকে, কেন রাজেন্দ্র বলা হয়? গ. উদ্দীপকের স্থাপত্যচিত্র কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নির্...

‘ ক ’ নামক রাজবংশের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রাজতন্ত্র। অধিকন্তু এ যুগে উত্তরাধিকার নির্বাচনেরও কোন সুনির্দিষ্ট ...

অধিকাংশ উমাইয়া শাসক কেমন ছিলেন?

আকবর সাহেবকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। তার শাসনামলের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য...

আখতার চেয়ারম্যান তার সমস্ত সম্পত্তি জনগণের জন্য সমর্পণ করেন। এখানে উল্লিখিত আখতার চেয়ারম্যানের সাথে তোমার কোন খলিফার সাদ...

আবু সুফিয়ানের স্ত্রীর নাম কী?

আব্দুল মালিক খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে অর্থনৈতিক সংকটের যে তীব্রতা দেখতে পান তার নাম কী ছিল?

আব্দুল মালিক পুত্র ওয়ালিদকে উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করেন কত খ্রিস্টাব্দে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।