Facebook Pixel

লোহা আকরিক ব্যবহার করে একটি শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। এটি একটি ভারী শিল্প এবং আলপিন থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত প্রতি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে। ক. প্রাকৃতিক গ্যাস কী? খ. কার্পাস-বয়ন শিল্প বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি গড়ে ওঠার নিয়ামক ব্যাখ্যা করো। ঘ. ইঙ্গিতকৃত শিল্পটির বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও বণ্টনের বিবরণ দাও।

বিষয়: ভূগোল ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ শিল্প

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হাইড্রোকার্বন (যেমন- মিথেন, ইথেন, বিউটেন) মিশ্রিত গ্যাসীয় পদার্থই প্রাকৃতিক গ্যাস। খ. যে বয়ন শিল্পে কার্পাস হতে সুতা এবং সুতা হতে বস্ত্র উৎপাদন করা হয় তাকে বস্ত্র-বয়ন শিল্প বলে। পৃথিবীর প্রায় সব মানুষেরই বস্ত্রের প্রয়োজন হয়। জামা-কাপাড়, গেঞ্জি, তোয়ালে, বিছানার চাদর, দরজা- জানালার পর্দা প্রভৃতি অসংখ্য জিনিস কার্পাস দ্বারা তৈরি হয়। তাই সর্বপ্রকার বয়নশিল্পের মধ্যে কার্পাস বয়নশিল্পই সর্বপ্রধান। তবে উষ্ণ অঞ্চলে সুতিবস্ত্রের ব্যবহার অধিক বলে উক্ত অঞ্চলেই এ শিল্প বেশি সমৃদ্ধি লাভ করেছে। গ. উদ্দীপকে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের কথা বলা হয়েছে। লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে উন্নত দেশগুলো পৃথিবীতে উন্নত দেশরূপে পরিগণিত। শিল্পটির উৎপাদন ও বণ্টন দেখলে আমরা দেখি শিল্পটি উন্নত দেশগুলোতেই কেন্দ্রীভূত। ১ . চীন : চীন বর্তমানে লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে। আনশান চীনের সর্ববৃহৎ ইস্পাত কেন্দ্র। এছাড়া সাংহাই , নানকিং , উহান প্রভৃতি রাজ্যও ইস্পাত শিল্পে উন্নত। ইয়াংসি নদীর তীরে হ্যাঞ্চাও এবং লায়োনিং এর আনশান অঞ্চলে চীনের অধিকাংশ লৌহ ও ইস্পাত কারখানাগুলো অবস্থিত। ২ . জাপান : জাপান বর্তমানে লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে যথাক্রমে ২য় ও ৩য় অবস্থানে রয়েছে। জাপানের প্রধান প্রধান লৌহ - ইস্পাত উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো হলো - ওসাকা - কোবে অঞ্চল , টোকিও ইয়োকোহামা অঞ্চল , হোক্কাইডো - মুরোরান অঞ্চল। ৩ . ভারত : ভারত লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বে যথাক্রমে তৃতীয় ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দেশ। বিহারের সিংভূম , উড়িষ্যার কেওনঝাড় , প্রভৃতি অঞ্চলে আকরিক লৌহ এবং বিহারের ঝরিয়া ও বোকারা ইত্যাদি অঞ্চলে কয়লার আধিক্য থাকায় লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে। দেশটির বিহারের সিংভূম জেলার জামশেদপুরে বৃহত্তম লৌহ ও ইস্পাত কারখানা গড়ে উঠেছে। ৪ . রাশিয়া : রাশিয়া বর্তমান বিশ্বে লৌহ ও ইস্পাত উৎপাদনে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়ার ইউরাল অঞ্চলের ম্যাগনিটোগরস্ক রাশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় - বৃহত্তম লৌহ ও ইস্পাত শিল্প উৎপাদনকারী কারখানা । ৫ . যুক্তরাষ্ট্র : দেশটি ইস্পাত উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ এবং লৌহ উৎপাদনে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। দেশটির পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া , বাল্টিমোর , স্প্যারোজ পয়েন্ট ; পিটার্সবার্গের ইয়াংস্টাউন অঞ্চল ; বৃহৎ পঞ্চ হ্রদ অঞ্চলের শিকাগো , গ্যারি , ব্যাফেলো , ক্লিভল্যান্ড , লোরেন , ইরি হ্রদের পশ্চিমে ডেট্রয়েট ইত্যাদি অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে। উপরিউক্ত দেশগুলো ছাড়াও লৌহ শিল্পে জার্মানি তাইওয়ান , যুক্তরাজ্য এবং ইস্পাত শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়া , জার্মানি , তুরস্ক , ইরান প্রভৃতি দেশ সমৃদ্ধি লাভ করেছে। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি হলো লৌহ ও ইস্পাত শিল্প। লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার ভৌগোলিক নিয়ামক নিচে ব্যাখ্যা করা হলো : i. কাঁচামালের সান্নিধ্য: লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামাল লৌহ আকরিক। লৌহ খুব ভারী বলে তা বহন করা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এ কারণে পৃথিবীর অধিকাংশ লৌহ ও ইস্পাত শিল্পগুলো লৌহ খনির নিকটেই গড়ে উঠেছে। ii. কয়লার সান্নিধ্য: লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের জন্য কয়লা অপরিহার্য। শিল্পক্ষেত্রে এটাই শক্তির প্রধান উৎস। এ কারণে ইউরোপ , আমেরিকা এবং পৃথিবীর অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানত কয়লা খনিগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। পিটসবার্গের কয়লার খনির নিকট এ কারণেই লৌহ আকরিক ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে। iii. পানি সরবরাহ : লৌহ আকরিক ধৌত ও পরিশোধন এবং কাঁচা লৌহকে ঠান্ডা করার জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের লৌহ ও ইস্পাত কেন্দ্রগুলো হ্রদ , নদী ও সমুদ্রের তীরে গড়ে উঠেছে। ভারতের জামসেদপুর লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের কারখানাটিও এ কারণেই সুবর্ণরেখা ও খর্কাই নদীর সঙ্গমে স্থাপিত হয়েছে। iv. জলবায়ু : শিল্পের অবস্থানের ওপর জলবায়ু পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মৃদু স্বাস্থ্যকর জলবায়ু শ্রমিকের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে শ্রমিকগণ অধিক সময় কাজ করতে সক্ষম হয়। এ কারণেই পৃথিবীর অধিকাংশ লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের কারখানাগুলো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলেই গড়ে উঠেছে। ` v. সমভূমি : লৌহ ও ইস্পাত একটি বৃহদাকার ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ফলে এ শিল্প কেন্দ্রসমূহে বিভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করে ইস্পাত উৎপাদন করতে হয় বলে যথেষ্ট সমভূমি থাকা প্রয়োজন। সুতরাং বলা যায় , উল্লিখিত ভৌগোলিক নিয়ামকগুলো লৌহ ও ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার অনুকূল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

লোহা আকরিক ব্যবহার করে একটি শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। এটি একটি ভারী শিল্প এবং আলপিন থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত প্রতি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে।

ক.

প্রাকৃতিক গ্যাস কী?

খ.

কার্পাস-বয়ন শিল্প বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শিল্পটি গড়ে ওঠার নিয়ামক ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

ইঙ্গিতকৃত শিল্পটির বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও বণ্টনের বিবরণ দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A B লৌহ আকরিক কার্পাস ক. কাপার্স বয়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কী? খ. ওসাকাকে জাপানের ম্যানচেস্টার বলা হয় কেন? গ. B শিল্পট...

A→ আধুনিক সভ্যতায় ক একটি মূল্যবান দ্রব্য। দেশের পূর্তকর্ম ও নগরায়ণ সম্পূর্ণভাবে উক্ত দ্রব্যটির ওপর নির্ভরশীল। B &ra...

EPZ এর পূর্ণরূপ কী?

ক. লৌহ ও ইস্পাত শিল্প কী? খ. 'বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প একটি সম্ভাবনাখাত'- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ঈঙ্গিতকৃত 'ক' স্থানীয় শিল...

ক. শিল্পের সংজ্ঞা দাও। খ. শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাঁচামালের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রথম শিল্পটির কা...

ক. চায়ের বৈজ্ঞানিক নাম কী? খ. 'মৌসুমি বায়ুর জুয়া খেলা' বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকের 'ক' শিল্প গড়ে ওঠার কারণসমূহ বাংলাদেশের...

ক. শিল্পের স্থানীয়করণ কাকে বলে? খ. কাঁচামালের সহজলভ্যতা শিল্পায়নে সহায়ক ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপক 'ক' চিহ্নিত দেশটি বস্ত্র...

ক. শিল্প কী? খ. 'শক্তি সম্পদের ওপর নির্ভর করে শিল্প গড়ে উঠে'- ব্যাখ্যা কর। গ. মানচিত্রে চিহ্নিত 'ক' দেশটির নারীর ক্ষমতায়...

ক. ময়মনসিংহ বিভাগের একটি চিনি শিল্প কারখানার নাম লেখ। খ. শিল্পের জন্য বাজার প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' অ...

ক. শিল্পের স্থানীয়করণ কাকে বলে? খ. শিল্পের বিকাশে দক্ষ শ্রমিক অপরিহার্য- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে 'ক' এ ইঙ্গিতকৃত শিল্প ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।