Facebook Pixel

A→ আধুনিক সভ্যতায় ক একটি মূল্যবান দ্রব্য। দেশের পূর্তকর্ম ও নগরায়ণ সম্পূর্ণভাবে উক্ত দ্রব্যটির ওপর নির্ভরশীল। B → বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় খ দ্রব্যটির ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশে অনেক যায়গায় এই দ্রব্যটির ওপর ভিত্তি করে শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। ক. বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্পখাত কোনটি? খ. ঔষধ শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প হিসেবে পরিচিতি লাভকরেছে- বিষয়টি ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' শিল্পটির বণ্টন আলোচনা কর। ঘ. উদ্দীপকের 'খ' শিল্পাঞ্চলটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আলোচনা কর।

বিষয়: ভূগোল ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ শিল্প

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প খাত হলো পোশাক শিল্প। খ. বাংলাদেশের বনজ সম্পদ থাকার কারণে এ দেশে কিছু ওষুধ শিল্প গড়ে উঠেছে। নানাবিধ গাছের শিকড়, বাকল, লতাপাতা থেকে ওষুধ তৈরি করা হয়। বর্তমানে জৈব রসায়নের উন্নতিসাধিত হওয়ায় জীবদেহ থেকে আরও সুলভে ও সক্রিয়ভাবে ওষুধ তৈরি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প গড়ে ওঠার কাঁচামালের পর্যাপ্ততা, দক্ষ শ্রমিক ও সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা থাকায় এদেশে ৪৬টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। এছাড়া উন্নত বিশ্বের ইউরোপ ও আমেরিকাসহ প্রায় ১১৩টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। সুতরাং বলা যায়, উল্লিখিত সুযোগ-সুবিধার কারণে ওষুধ শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। গ. উদ্দীপকের 'ক' শিল্পটি হলো সিমেন্ট শিল্প। বাংলদেশে উত্ত শিল্পটির বণ্টন আলোচনা করা হলো- বাংলাদেশের সিমেন্ট কারখানাগুলোর মধ্যে ১টি ছাতকে, ৩টি চট্টগ্রামে, ১টি নারায়ণগঞ্জে, ২টি যশোরে, ২টি বাগেরহাটের মংলা বন্দরের নিকটে, ১টি মুন্সীগঞ্জে অবস্থিত। নিম্নে এর বণ্টন আলোচনা করা হলো- ১. ছাতক সিমেন্ট কারখানা: এটি ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এখানে উৎপাদন ক্ষমতা ২.৬৭লাখ মেট্রিক টন। ২. চট্টগ্রাম সিমেন্ট কারখানা: এটি ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর বার্ষিক উৎপাদন ২১৫ লাখ টন। ৩. কনফিডেন্স সিমেন্ট কারখানা: এটি চট্টগ্রাম শহরের ২২ কিলোমিটার উত্তরে সীতাকুন্ডের, ভাটিয়ারী নামক স্থানে ব্যক্তিমালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এ কারখানায় বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১.৮ লাখ মেট্রিক টন। ৪. ডায়মন্ড সিমেন্ট কারখানা: কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম বন্দরের বিপরীত দিকে ব্যক্তিমালিকানায় এ সিমেন্ট কারখান গড়ে ওঠে ১৯৯৮ সালে। এ কারখানায় বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২.৮ লাখ মেট্রিক টন। ৫. মংলা সিমেন্ট কারখানা: এটি মংলা বন্দরের সন্নিকটে অবস্থিত। বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৪.৫ লাখ মে. টন। ৬. মেঘনা সিমেন্ট কারখানা: এটি মংলা সিমেন্ট কারখানার নিকটেই অবস্থিত। বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩ লাখ মেট্রিক টন। ৭. মডার্ন সিমেন্ট কারখানা : মুন্সীগঞ্জ জেলায় এটি অবস্থিত। এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩০ হাজার মেট্রিক টন। ৮. জয়পুরহাট সিমেন্ট কারখানা: এটি জয়পুরহাট জেলায় অবস্থিত। বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬ লাখ ৬০ হাজার মে. টন। ৯. হোলসিম সিমেন্ট কারখানা: এটি নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২ লাখ মে. টন। সুতরাং বলা যায় যে, উল্লিখিত সিমেন্ট কারখানা ছাড়াও নিলয় সিমেন্ট কারখানা, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লি. সহ অন্যান্য ব্যক্তিগত মালিকানায় কিছু কারখানা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের 'খ' শিল্পগুলো বলতে চিনি শিল্পকে বোঝানো হয়েছে। উত্ত শিল্পাঞ্চলটি সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আলোচনা করা হলো- ১. খুলনা বিভাগ: খুলনা বিভাগে প্রচুর আখ উৎপন্ন হয়। দেশের মোট উৎপাদিত আখের ১৬% এ বিভাগে উৎপাদিত হয়। এ অঞ্চলে মাত্র ৩টি চিনিকল গড়ে উঠেছে। এ কলগুলো জগতি, দর্শনা ও মোবারকগঞ্জে অবস্থিত। ২. ঢাকা বিভাগ: ১৯৩৪ সালে নরসিংদীতে দেশবন্ধু চিনিকল নামে এ বিভাগে প্রথম চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিভাগে মোট চিনিকলের সংখ্যা ৫টি। কলগুলো হলো কালিয়াচাপড়া, ন্যাশনাল, দেশবন্ধু, ফরিদপুর, ঝিলবাংলা। দেশের মোট উৎপাদিত আখের ২০% এ বিভাগে উৎপাদিত হয়। ৩. রংপুর বিভাগ: দেশের মোট চিনিকলের ৬টি এ বিভাগে অবস্থিত। এ অঞ্চলে প্রচুর আখ উৎপন্ন হয়। দেশের মোট উৎপাদিত আখের ৩২% এ বিভাগে উৎপাদিত হয়। চিনিকলগুলো রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধা জেলায় অবস্থিত। ৪. রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী অঞ্চল চিনি শিল্পে উন্নত। চিনির প্রধান কাঁচামাল আখ উৎপাদনে সমৃদ্ধ হওয়ায় এ অঞ্চলে ৫টি চিনিশিল্প গড়ে উঠেছে। দেশের উৎপাদিত আখের ৩৫% এ বিভাগে উৎপাদিত হয়। এ বিভাগের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ও মৃত্তিকায় আখের ফলন ভালো হয় বলে দ্রুত এ শিল্পের প্রসার ঘটেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

A→ আধুনিক সভ্যতায় ক একটি মূল্যবান দ্রব্য। দেশের পূর্তকর্ম ও নগরায়ণ সম্পূর্ণভাবে উক্ত দ্রব্যটির ওপর নির্ভরশীল।

B → বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় খ দ্রব্যটির ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশে অনেক যায়গায় এই দ্রব্যটির ওপর ভিত্তি করে শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে।

ক.

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্পখাত কোনটি?

খ.

ঔষধ শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প হিসেবে পরিচিতি লাভকরেছে- বিষয়টি ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের 'ক' শিল্পটির বণ্টন আলোচনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের 'খ' শিল্পাঞ্চলটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A B লৌহ আকরিক কার্পাস ক. কাপার্স বয়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কী? খ. ওসাকাকে জাপানের ম্যানচেস্টার বলা হয় কেন? গ. B শিল্পট...

EPZ এর পূর্ণরূপ কী?

ক. লৌহ ও ইস্পাত শিল্প কী? খ. 'বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প একটি সম্ভাবনাখাত'- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ঈঙ্গিতকৃত 'ক' স্থানীয় শিল...

ক. শিল্পের সংজ্ঞা দাও। খ. শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাঁচামালের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রথম শিল্পটির কা...

ক. চায়ের বৈজ্ঞানিক নাম কী? খ. 'মৌসুমি বায়ুর জুয়া খেলা' বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকের 'ক' শিল্প গড়ে ওঠার কারণসমূহ বাংলাদেশের...

ক. শিল্পের স্থানীয়করণ কাকে বলে? খ. কাঁচামালের সহজলভ্যতা শিল্পায়নে সহায়ক ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপক 'ক' চিহ্নিত দেশটি বস্ত্র...

ক. শিল্প কী? খ. 'শক্তি সম্পদের ওপর নির্ভর করে শিল্প গড়ে উঠে'- ব্যাখ্যা কর। গ. মানচিত্রে চিহ্নিত 'ক' দেশটির নারীর ক্ষমতায়...

ক. ময়মনসিংহ বিভাগের একটি চিনি শিল্প কারখানার নাম লেখ। খ. শিল্পের জন্য বাজার প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' অ...

ক. শিল্পের স্থানীয়করণ কাকে বলে? খ. শিল্পের বিকাশে দক্ষ শ্রমিক অপরিহার্য- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে 'ক' এ ইঙ্গিতকৃত শিল্প ...

ক. শিল্পায়ন কাকে বলে? খ. কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্পের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' শিল্প গড়ে উঠার নিয়ামক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।