ক.
যে কর্মপ্রচেষ্টা ও প্রক্রিয়ার দ্বারা মানুষ বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য আহরণ করে এবং এর পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তাকে শিল্প বলে।
খ.
শক্তিসম্পদের ওপর নির্ভর করে শিল্প গড়ে ওঠে। শক্তিসম্পদ ব্যতীত শিল্পকারখানা চালনা করা সম্ভব নয়। বর্তমানে বড় বড় কারখানা চালানোর জন্য কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পানিবিদ্যুৎ শক্তি, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই যেসব অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সম্পদ সরবরাহের ব্যবস্থা আছে, সেসব অঞ্চলেই সাধারণত বিভিন্ন ধরনের শিল্প কেন্দ্রীভূত হয়। তাই বলা যায়, শিল্পগুলো সাধারণত শক্তিসম্পদকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে।
গ.
মানচিত্রে চিহ্নিত 'ক' দেশটি হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশে 'খ' শিল্প বলতে পোশাক শিল্পকে বুঝানো হয়েছে। উক্ত শিল্প বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশ, একটি জনবহুল ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এদেশের বেশিরভাগ মানুষ কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এখানে এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। তার চেয়েও নেতিবাচক বিষয় হলো এদেশের নারীরা কোনো কর্মসংস্থানের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত না রাখায় পুরুষদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ প্রদর্শন করার অন্যতম কারণ হলো নারীর ক্ষমতায়ন তথা কর্মসংস্থানের অভাব। একারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের প্রতি 'বৈষম্যপূর্ণ' মনোভাব পোষণ করা হয়। তারা স্বাবলম্বী না হওয়ায় তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ প্রদর্শন করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ৮০% নারী কর্মী এই শিল্পে নিয়োজিত রয়েছে। তারা নিজদেরকে ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দক্ষ করে এ শিল্পকে উত্তরোত্তর উন্নতির চরম শিখরে পৌছিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং তাদের নিজেদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ সৃষ্টি হচ্ছে এবং তাদেরকে পুরুষের পাশাপাশি একসাথে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেতনের ক্ষেত্রেও অনেকটা সমপর্যায়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে নারীদের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কারণে নারীর ক্ষমতায়ন সুপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
ঘ.
মানচিত্রে চিহ্নিত দেশ দুটি হলো বাংলাদেশ ও ভারত। উক্ত দেশ দুটির শিল্পের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশ ও ভারত বস্ত্র শিল্পে বেশ প্রসিদ্ধ। ভারত এ শিল্পে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ভারতের বস্ত্রকলগুলো মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও তামিলনাডুতে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের বস্ত্রকলগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে কেন্দ্রীভূত।
ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে লৌহ আকরিক শিল্প পর্যাপ্ত পরিমাণে সঞ্চিত আছে এবং উত্তোলন হচ্ছে বিধায় এদেশের ভিলাউ, রাউরকেলা, দুর্গাপুর, ভদ্রাবতী সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং জমসেদপুর ও বার্নপুরে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একটি লৌহ ও ইস্পাত শিল্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ পাট শিল্পে যথেষ্ট সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, যশোর, রাজশাহী, পাবনা ও ঢাকায় পাটকল অবস্থিত। পাট উৎপাদনে বিশ্বে ভারত প্রথম এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক ও মাদ্রাজ রেশম শিল্পে প্রসিদ্ধ। বাংলাদেশের রাজশাহী, দিনাজপুর ও বগুড়াতে এ শিল্পের প্রসার ঘটেছে। ভারত, বাংলাদেশ চিনি শিল্পে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে। ভারতে চিনি দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্প। ভারতে ৩১৮টি এবং বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৮টি চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভারতে মোট ৭০০টি কাগজ কল আছে। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে ৮টি কাগজ ও বোর্ড শিল্প গড়ে উঠেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বড় ও মাঝারি আকারের ১২৩টি 'সিমেন্ট কারখানা রয়েছে। ভারতে ১০টি বৃহৎ সিমেন্ট প্লান্ট ও প্রায় ৩০০টি ক্ষুদ্র সিমেন্ট প্লান্ট আছে। সিমেন্ট উৎপাদনে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়। প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবে বাংলাদেশ সিমেন্ট শিল্পে তেমন সমৃদ্ধ না হলেও দেশের কয়েকটি স্থানে চুনাপাথর আবিষ্কৃত হওয়ায় বর্তমানে এ শিল্পে কিছুটা উন্নতি লাভ করেছে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এবং ভারতের পোশাক শিল্প দুটিই বেশ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকায় দুটি দেশেই এ শিল্পে বেশ সমৃদ্ধি লাভ করেছে।
সুতরাং বলা যায় যে, উপরিউক্ত আলোচনা হতে বাংলাদেশ ও ভারতে বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুটি দেশের শিল্পগুলোর মধ্যে কোনোটি কম কোনোটি বেশি গড়ে উঠেছে। ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ামকের কারণে এক এক দেশে এক এক ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।