ক.
১৯২১ সালে আমেরিকার প্রথম মৌলিক পেশাগত সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়।
খ.
১৯৬১ সালে দরিদ্র আইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক বিভাগ সৃষ্টি করা হয়েছিল যাদের দায়িত্ব ছিলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত সাহার্য্যপ্রার্থী খুঁজে বের করা এবং সামগ্রিক প্রাণ ফার্মের সমন্বয় করা। এই জন্যই মূলত অনুসন্ধান বিভাগের সৃষ্টি। এই বিভাগের ছিল নিম্নরূপ-
১. দরিদ্র সাহায্যার্থীদের কাছ থেকে দরখাস্ত গ্রহণ করা।
২. দরিদ্র সাহায্যার্থীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।
৩. সাহায্যের ধরণ ও প্রকৃতি নির্ণয় করা।
৪.' কাকে সাহায্য দেওয়া হবে এবং কাকে দেওয়া হবে না, কাকে শ্রমাগারে পাঠানো হবে এবং কাকে পাঠানো হবে না তা নির্ণয় করা।
গ.
রায়হানের উল্লিখিত রাষ্ট্রে দারিদ্র নিরসনে তিনি ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের ধারাসমূহ হচ্ছে-
১. সামর্থ্যবান পরিবার ও সম্পদশালী আত্মীয়স্বজন যেন দ্বায়িত্ব গ্রহণে বাধ্য থাকে সেজন্য দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্যদানের তালিকায় না রাখা।
২. প্যারিশ বা স্থানীয় গির্জা অধীনস্ত এলাকায় শুধু সেসব দরিদ্রকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবে যারা প্যারিসের স্থানীয় বাসিন্দা অথবা কমপক্ষে তিন বছর ধরে প্যারিশে বসবাস করছে এবং যাদের পরিবার ও আত্মীয় সাহায্যদানে অক্ষম।
৩. শারীরিকভাবে সক্ষম ও সচ্ছল আত্মীয়স্বজনসম্পন্ন ভিক্ষুকদের সাহায্য দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।
৪. প্যারিশের প্রত্যেক অধিবাসীদের দরিদ্র কর প্রদান।
৫. সাহায্য দানের সুবিধার্থে দরিদ্রদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করণ।
ক. সক্ষম-দরিদ্র: সবল বা কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সক্ষম দরিদ্র বলা হতো। এদের ভিক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল এবং তাদেরকে সংশোধনাগারে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কেউ অনিচ্ছা পোষণ করলে তাকে কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তি প্রদান করা হতো।
খ. দরিদ্র: রুগ্ন, বৃদ্ধ, পঙ্গু, বধির, অন্ধ এবং সন্তানসহ বিধবা ইত্যাদি যারা কাজ করতে সক্ষম নয় তারাই অক্ষম দরিদ্রের পর্যায়ভুক্ত ছিল। এদেরকে দরিদ্রাগারে রেখে সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করা হতো।
গ. নির্ভরশীল শিশু: এতিম, পরিত্যক্ত, ও অক্ষম পিতামাতার সন্তানেরা এ পর্যায়ভুক্ত ছিল। এদেরকে কোনো নাগরিকের কাছে বিনা খরচে দত্তক অথবা কম খরচে লালন পালনের জন্য দেওয়া হতো। এক্ষেত্রে ছেলেদের ২৪ বছর এবং মেয়েদের ২১ বছর পর্যন্ত মনিবের বাসায় থাকতে হতো।
ঘ.
উদ্দীপকে দৃঙ্গিতকৃত আইনটি হচ্ছে ১৯৬১ সালের দ্ররিদ্র আইন। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনকে বর্তমানে বিশ্বের আধুনিক ও পেশাদার সমাজকর্মের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।।
ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য নিরসন এবং সমাজকর্ম পেশার উদ্ভব ও বিকাশে, ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। যদিও বিংশ শতাব্দীর কল্যাণমূলক রাষ্ট্রগুলোতে এ আইনের গ্রহণযোগ্য হ্রাস পায়, তবুও সমাজকর্ম পেশাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান ও সমাজসেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
একটি পরিপূর্ণ পেশা হিসেবে সমাজকর্ম একদিনে বিকশিত হয়নি। পেশাদার সমাজকর্মের যাত্রা শুরু হয় ইল্যান্ডে আর এর পূর্ণতা ঘটে আমেরিকায়। যদিও পেশাদার সমাজকর্মের কেন্দ্রস্থল আমেরিকা তথাপি সমাজকর্মকে পেশাদার মর্যাদায় উন্নীত করার পেছনে, ইংল্যান্ডের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, ইংল্যান্ড দুঃস্থ ও দরিদ্র জনগণের কল্যাণ সাধন এবং ভিক্ষাবৃত্তি ও দরিদ্রতার অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করার জন্য এই আইন প্রণয়ন করে। দরিদ্র আইনের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রে সরকারি দায়িত্বের স্বীকৃতি ও ভূমিকার সুদৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সনাতন সমাজকল্যাণ, আধুনিক সমাজের বহুমুখী জটিল সমাধানে ব্যর্থ হলে পেশাদার সমাজকর্মের যাত্রা শুরু হয়। ধর্মীয় প্রথা ও প্রতিষ্ঠানাদির পাশাপাশি যেমন দরিদ্র আইনসমূহের বিকাশ ঘটে এবং দরিদ্রদের সাহায্যকার্যে সরকারের পরিকল্পিত পদক্ষেপ ও কর্মসূচির ভিত্ত রচনায় উক্ত আইন বিশেষ স্থান দখল করে আছে এবং সমাজকর্মের ইতিহাসে এক বিবর্তন স্বরূপ পেশাগত মান অর্জনে সহায়তা করেছে। ইল্যান্ডের দরিদ্র, সেবায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমেরিকানরা তাদের দেশে সমাজসেবা শুরু করে। কালক্রমে এই সেবা পেশাগত আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। যার জন্য আজ সমগ্র বিশ্বব্যাপী এই আইন সমাদৃত।