Facebook Pixel

রায়হান কবির এক মহান নেতা। বাঙালি জাতিকে স্বৈরশাসনের হাত থেকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে তিনি শাসকগোষ্ঠীর নিকট প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থা ও আধা-সামরিক বাহিনী গঠনসহ এক ঐতিহাসিক কর্মসূচি পেশ করেন। ক. শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি লাভ করেন। খ. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত্রিকে কালরাত্রি বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকটিতে কোন ঐতিহাসিক কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত কর্মসূচির মাধ্যমেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে—তুমি কি একমত? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

উৎস: Board Exam Question JB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৯ সালে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি লাভ করেন। (খ) ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পরিচালিত নৃশংস ও বর্বরোচিত গণহত্যাকে কালরাত্রি বলা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি ও অগ্নিসংযোগ করে। এই রাতে পাকিস্তানি বাহিনী যে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালায়, তা বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম জঘন্যতম ঘটনা। এই কালরাত্রির মাধ্যমেই মূলত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ওপর চূড়ান্ত দমন-পীড়ন শুরু করে, যা পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে। (গ) উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক উত্থাপিত ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি পেশ করেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থা ও আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাবগুলো মূলত ৬ দফারই মূল ভিত্তি। ৬ দফা ছিল পাকিস্তানের শাসনকাঠামোতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য চালিয়ে আসছিল, তা থেকে উত্তরণের জন্য এই কর্মসূচি ছিল অপরিহার্য। ৬ দফার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কেবল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করেন এবং বাকি সব ক্ষমতা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত করার দাবি জানান। এটি ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল দলিল, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার মন্ত্রে জাতিকে উজ্জীবিত করে। (ঘ) হ্যাঁ, আমি উদ্দীপকে উল্লিখিত ৬ দফা কর্মসূচির মাধ্যমেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করি। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি বিশ্লেষণ করা হলো: ১. রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: ৬ দফা দাবি উত্থাপনের ফলে বাঙালি জাতি তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। এটি ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল ভিত্তি, যা পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। ২. অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসন: পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ পাচার করে যে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল, ৬ দফার মাধ্যমে তার প্রতিবাদ জানানো হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে যে, পাকিস্তান রাষ্ট্রে তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। ৩. গণআন্দোলনের রূপান্তর: ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে ১৯৬৬ সাল থেকে যে আন্দোলনের সূচনা হয়, তা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথ তৈরি করে। এই নির্বাচনের রায় ছিল মূলত ৬ দফার প্রতি জনগণের সমর্থন। ৪. স্বাধীনতার ভিত্তি: ৬ দফার দাবিগুলো পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী প্রত্যাখ্যান করায় বাঙালিরা বুঝতে পারে যে, স্বায়ত্তশাসন নয়, বরং পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া তাদের মুক্তি সম্ভব নয়। এই উপলব্ধি থেকেই ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। পরিশেষে বলা যায়, ৬ দফা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত হয়। তাই ৬ দফাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা যুক্তিযুক্ত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2022)

রায়হান কবির এক মহান নেতা। বাঙালি জাতিকে স্বৈরশাসনের হাত থেকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে তিনি শাসকগোষ্ঠীর নিকট প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থা ও আধা-সামরিক বাহিনী গঠনসহ এক ঐতিহাসিক কর্মসূচি পেশ করেন।

ক. শেখ মুজিবুর রহমান কত সালে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি লাভ করেন।

খ. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত্রিকে কালরাত্রি বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকটিতে কোন ঐতিহাসিক কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উক্ত কর্মসূচির মাধ্যমেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে—তুমি কি একমত? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সময় একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হ্যা এবং ক্ষমতাসীন দলের চরম ভরাডু...

‘A’ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের মাতৃভাষার পরিবর্তে অপর একটি ভাষাকে ...

‘B’ নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতার দুই যুগ পর প্রথম একটি সাধার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল...

‘H’ রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মা...

‘H’ রাষ্ট্রের সামরিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশের জনগণের উপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর...

'M' ও 'N' নামক দুটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল। 'M' প্রদেশের নেতৃবৃন্দরাই...

M' রাষ্ট্রটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরই রাষ্ট্রটির এক অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলের জনগণের উপ...

'S' নামক রাষ্ট্র দুটো অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। তন্মধ্যে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষাকে রাষ্ট্...

X ও Y দুটি অংশ নিয়ে Z রাষ্ট্র গঠিত। Z রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী X অংশের মাত্র ৩% লোকের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেয...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।