Facebook Pixel

রাজা প্রথম জর্জ ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পরই তিনি রাজতন্ত্র সুদৃঢ়করণের স্বার্থে 'সংস্কারমূলক কার্যক্রমে হাত দেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। প্রশাসনকে ঢেলে সাজান। এছাড়া স্কটল্যান্ড, উইস্টারশায়ার, ম্যানচেস্টার প্রভৃতি কান্ট্রিতে নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করেন। ক্ষেত্র বিশেষে উদারতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দেখালেও একজন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ কূটনীতিক হিসেবে তিনি রাজতন্ত্রের জাঁকজমকতা ও আড়ম্বরতায় বিশ্বাসী ছিলেন। ক. মুসলিম নৌ-বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা কোন খলিফা? খ. 'জিজিয়া' কী? ব্যাখ্যা করো। গ. রাজা প্রথম জর্জের শাসন নীতির সাথে খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা) শাসন নীতির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা)-এর প্রশাসনিক সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ উমাইয়া খিলাফত

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মুসলিম নৌ-বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা হলেন উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়া (রা)। (খ) 'জিজিয়া' হলো মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসরত অমুসলিম প্রজাদের প্রদেয় একটি নিরাপত্তা কর। ইসলামি শাসনব্যবস্থায় অমুসলিমরা সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে বাধ্য ছিল না। ফলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা প্রদানের বিনিময়ে এই কর ধার্য করা হতো। এই কর প্রদানের মাধ্যমে অমুসলিমরা মুসলিম রাষ্ট্রে নাগরিক নিরাপত্তা ও অধিকার লাভ করত। (গ) রাজা প্রথম জর্জের শাসন নীতির সাথে খলিফা মুয়াবিয়া (রা)-এর শাসন নীতির যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজা প্রথম জর্জ ১৭১৪ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন এবং রাজতন্ত্র সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার ও মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একজন দূরদর্শী কূটনীতিক ছিলেন এবং রাজতন্ত্রের জাঁকজমকতায় বিশ্বাসী ছিলেন। অনুরূপভাবে, খলিফা মুয়াবিয়া (রা) ইসলামের ইতিহাসে প্রথম খিলাফতকে রাজতন্ত্রে রূপান্তরিত করেন। তিনি ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করে নির্বাচনভিত্তিক খিলাফতের পরিবর্তে উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজতন্ত্র প্রবর্তন করেন। রাজতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলের 'মজলিশ-উস-শুরা' বা পরামর্শসভা বাতিল করেন। এছাড়া তিনি একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠন করে ভূমধ্যসাগরে মুসলমানদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং দিওয়ান-উল-খাতাম ও দিওয়ান-উল-বারিদের মতো প্রশাসনিক বিভাগ চালু করেন। সুতরাং, রাজতন্ত্রের প্রবর্তন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাষ্ট্রকাঠামো সুদৃঢ় করার কৌশলের দিক থেকে রাজা প্রথম জর্জ ও খলিফা মুয়াবিয়ার শাসন নীতির মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান। (ঘ) উদ্দীপকের রাজা প্রথম জর্জ যেমন প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করেন, খলিফা মুয়াবিয়া (রা)-ও তেমনি নানামুখী প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে উমাইয়া খিলাফতকে শক্তিশালী করেছিলেন। মুয়াবিয়া (রা) ক্ষমতায় এসে বাইজান্টাইন ও পারসিক শাসন পদ্ধতির আদলে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন। তার প্রধান সংস্কারগুলো নিম্নরূপ: ১. দিওয়ান-আল-খাতাম: কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে প্রাদেশিক সরকারের লিখিত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে তিনি এই বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে সরকারি চিঠিপত্র ও আদেশের জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হয়। ২. দিওয়ান-আল-খারাজ: রাজস্ব আদায়ের জন্য তিনি এই বিভাগ গঠন করেন, যা বর্তমান যুগের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো কাজ করত। এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষিত থাকত। ৩. দিওয়ান-আল-বারিদ: তিনি প্রথম ডাক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতি ১২ মাইল অন্তর ডাকঘর স্থাপন করেন, যা দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করে। ৪. গুপ্তচর ব্যবস্থা: রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের তদারকি করতে তিনি একটি শক্তিশালী ও কার্যকর গুপ্তচর ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। ৫. নৌ-বাহিনী গঠন: ভূমধ্যসাগরে রোমানদের মোকাবিলা করতে তিনি প্রথম মুসলিম নৌ-বাহিনী গঠন করেন। উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা মুয়াবিয়া (রা) অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে প্রশাসনিক সংস্কার সাধন করে খিলাফতকে একটি শক্তিশালী রাজতন্ত্রে পরিণত করেছিলেন, যা উদ্দীপকের রাজা প্রথম জর্জের সংস্কারমূলক কার্যক্রমের সাথে সংগতিপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রাজা প্রথম জর্জ ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্রের সূচনা করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পরই তিনি রাজতন্ত্র সুদৃঢ়করণের স্বার্থে 'সংস্কারমূলক কার্যক্রমে হাত দেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। প্রশাসনকে ঢেলে সাজান। এছাড়া স্কটল্যান্ড, উইস্টারশায়ার, ম্যানচেস্টার প্রভৃতি কান্ট্রিতে নিজ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করেন। ক্ষেত্র বিশেষে উদারতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দেখালেও একজন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ কূটনীতিক হিসেবে তিনি রাজতন্ত্রের জাঁকজমকতা ও আড়ম্বরতায় বিশ্বাসী ছিলেন। ক. মুসলিম নৌ-বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা কোন খলিফা? খ. 'জিজিয়া' কী? ব্যাখ্যা করো। গ. রাজা প্রথম জর্জের শাসন নীতির সাথে খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা) শাসন নীতির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের আলোকে খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা)-এর প্রশাসনিক সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আবদুল মালিকের শাসনামলে উল্লেখযোগ্য সংস্কারসমূহ হলো- i. আরবি মুদ্রা চালুকরণ ii. আরবি লিপির উৎকর্ষ সাধন iii. কুরআন সংকলন ন...

“আরবদের নীরো' বলে কে পরিচিত ছিলেন?

ইলখানি সুলতান গাজান খান একজন প্রজারঞ্জক শাসক ছিলেন। তিনি জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সকল প্রকার অন্যায় কর নিষিদ্ধ করে...

ইলখানি সুলতান গাজান খান গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা এবং দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য ডাকব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেন। তিনি...

ইসলামে নওমুসলিমরা কী নামে পরিচিত?

উত্তর আফ্রিকার এক বিখ্যাত-রাজা ছিলেন মিস্টার হান্টার। সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আয়ত্তে আনেন। তি...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : ইব্রাহিম একজন মহান শাসক ছিলেন। ধর্মভীরু মুসলিম শাসক হলেও পর ধর্মের প্রতি তিনি খুবই স...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : ইব্রাহিম একজন মহান শাসক ছিলেন। ধর্মভীরু মুসলিম শাসক হলেও পর ধর্মের প্রতি তিনি খুবই স...

উমাইয়া আমলে কাদের প্রাধান্য স্থাপিত হয়?

উমাইয়া খিলাফতে মোট কতজন শাসক ছিলেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।