ক.
উমাইয়াদের রাজধানী ছিল বর্তমান সিরিয়ার দামেস্কে ।
খ.
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ একজন শ্রেষ্ঠ উমাইয়া প্রশাসক। উমাইয়া শাসন সুরক্ষায় তিনি অনন্য অবদান রেখে বিখ্যাত হয়ে আছেন ।
উমাইয়া শাসনামলের বিভিন্ন সময়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ হেজাজ, ইরাক ও পূর্বাঞ্চলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । তিনি ভারতবর্ষের সিন্ধুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল জয় করেন। তিনি রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার ও কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা পালন করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় শিল্প, শিক্ষা ও সংস্কৃতির যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়েছিল। এছাড়া তিনি আরবি বর্ণমালায় হরকত সংযোজন করেন, যা তাকে ইতিহাসে বিখ্যাত করেছে ।
গ.
উদ্দীপকটিতে আমার পঠিত উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়া (রা)-এর ইঙ্গিত রয়েছে।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারি ছিলেন মুয়াবিয়া (রা)। তিনি ছিলেন উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজতন্ত্রের প্রবর্তক । দুমাতুল জন্দলের সালিশি বৈঠকে বিশ্বাসঘাতকতা করে তিনি ক্ষমতায় আরোহণ করেছিলেন। উদ্দীপকের রহিম মিয়ার মধ্যে এ বিষয়গুলোর প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের রহিম মিয়া জোরপূর্বক শীতলপুর গ্রামে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষকে আকৃষ্ট করার অপূর্ব ক্ষমতা ছিল তার। তিনি গ্রামের অনেক উন্নতি সাধন করেন। তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তার মৃত্যুর পর তার বংশীয় শাসন কায়েম রাখার জন্য মৃত্যুর পূর্বে তার পুত্র আকবরকে গ্রামের ক্ষমতার ভার দিয়ে যান। মুয়াবিয়া (রা)-এর ক্ষেত্রেও এ বিষয়গুলো লক্ষ করা যায়। ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে আলি (রা) ও মুয়াবিয়া (রা)-এর মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে হযরত আলি (রা) এর প্রচণ্ড আক্রমণে মুয়াবিয়ার পরাজয় যখন অনিবার্য, তখন তার সেনাপতি ও উপদেষ্টা আমার ইবনুল আসের পরামর্শে যুদ্ধ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য মুয়াবিয়া কালিমার পতাকা শীর্ষে উঠিয়েও বর্ণার মাথায় পবিত্র কুরআান উত্তোলন করে তিনি সন্ধির আহ্বান জানান। পরবর্তী সময়ে হযরত আলি (রা), আবু মুসা আল আশারি এবং মুয়াবিয়া আমর ইবনুল আসকে মধ্যস্ততাকারী নিযুক্ত করে সালিশে বসেন। কিন্তু আমর ইবনুল আস বিশ্বাসঘাতকতা করে মুয়াবিয়াকে খলিফা ঘোষণা করেন। তিনি একজন ধূর্ত রাজনীতিবিদ ছিলেন। জনগণকে আকৃষ্ট করার জন্য নিজের জীবন বিনয় ও সংযতভাবে কাটাতেন । মৃত্যুর আগে তিনি বিখ্যাত কূটনীতিবিদ মুগীরা বিন শুবার প্ররোচনায় পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন। এ মনোনয়নের মাধ্যমেই উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজতন্ত্রের প্রবর্তন হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকটিতে খলিফা মুয়াবিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ.
কূটকৌশল অবলম্বন করে খিলাফতে আরোহণ করলেও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মুয়াবিয়া অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন।
মুয়াবিয়া আরব বিশ্বে প্রচলিত বহু গতানুগতিক ব্যবস্থা বিলোপ সাধন করেন। শুধু তাই নয় তিনি রোমান শাসন ব্যবস্থার ভিত্তিতে একটি স্থায়ী ও সুসংহত শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। উদ্দীপকের শাসকের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়।
উদ্দীপকের শাসক কূটকৌশলের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করলেও শাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। তাই তিনি শাসক হিসেবে সফলতা অর্জন করেন। খলিফা মুয়াবিয়া ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেন। খলিফা মুয়াবিয়া পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী নিয়োগের মাধ্যমে আরবে প্রচলিত শাসন রীতির পরিবর্তন করেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিন যুগের মজলিশ-উস-শুরা বাতিল করে নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করেন। শাসন কাজের সুবিধার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এতে সুষ্টুভাবে সরকারি দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হতো। খলিফা মুয়াবিয়া সুযোগ্য তিনজন প্রাদেশিক শাসনকর্তা নিয়োগ করেছিলেন। আমর ইবনুল আসকে মিসরে, মুগিরা ইবনে শুবাকে কুফায় এবং জিয়াদ বিন আবিহকে বসরায় নিয়োগ দেন। এই তিনজন সেরা রাজনৈতিক মেধা ছিলেন ঐতিহাসিকভাবে তা প্রমাণিত। খলিফা মুয়াবিয়া কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে প্রাদেশিক সরকারের লিখিত সংযোগ সাধনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এজন্য তিনি 'দিওয়ান আল খাতাম' নামে একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে সরকারি হুকুমনামা ও চিঠি-পত্রাদির জালিয়াতি ও বিকৃতি রোধ করা সম্ভব হয় । খলিফা রাজস্ব আদায়ের জন্য 'দিওয়ান আল খারাজ' নামে একটি নতুন বিভাগ সৃষ্টি করেন। প্রাদেশিক গভর্নররা প্রদেশের ব্যয় মিটিয়ে বাকি যে অর্থ পাঠাতেন, তা মূলত এ বিভাগেই এসে জমা হতো। মুসলিম শাসকদের মধ্যে খলিফা মুয়াবিয়াই প্রথম ডাক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি সরকারের সংবাদ আদান-প্রদানের কাজ করত।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা মুয়াবিয়া যেভাবেই শাসক হন না কেন, প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে একজন সফল শাসকের স্থান দখল করে আছেন।